শেখ আব্দুল হামিদ : বটিয়াঘাটা উপজেলায় শতভাগ শিশুর দেহে ক্ষতিকর সিসার উপস্থিতি মিলেছে। সিসার ভয়াবহতা রোধে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিধপ্তর শিশুদের সচেতন করতে বটিয়াঘাটায় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ২৮ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্্েরর সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, জলমা ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর এলাকায় শিশুদের দেহে প্রথম সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে ইউনিসেফ এর সহযোগীতায় ২৪৭ জন শিশুর রক্ত পরীক্ষায় প্রত্যেকের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি মেলে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের উদ্যোগে বটিয়াঘাটা উপজেলায় পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে শিশুদের এই সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মঞ্জুুরুল মুর্শিদ বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি শিশুদের বুদ্ধির বিকাশে বাঁধার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এই উপস্থিতির কারণে শিশুরা প্রতিবন্ধী হতে পারে। বটিয়াঘাটার মোহাম্মদনগরে একাধিক ব্যাটারী কারখানা থেকে বাতাসে সিসা ছড়িয়ে পড়ছে। আর আক্রান্তের শিকার হচ্ছে শিশু. গর্ভবতী মায়েরা।
প্রশিক্ষণে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবর পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ হেলথ অফিসার, ডা. নাজমুল আহসান, এসবিসি কনসাল্টেন্ট সুফিয়া বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নারায়ন চন্দ্র মন্ডল, ডা. মাহফুজুর রহমান, স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক এসিসট্যান্ট চিফ জুবায়ের হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব এবং তার প্রতিরোধ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সিসা একটি ক্ষতিকর নিউরো টক্্িরন যা খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ত্বকের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে। শিশু এবং গর্ভবতী মায়েরা বেশী আক্রান্ত হয়। সিসা রক্তের মাধ্যমে মস্তিস্কে প্রবেশ করে। শিশুদের মানসিক বিকারগ্রস্ত করে এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধি করে তোলে। গর্ভবতী মায়েদের অকাল গর্ভপাত ঘটায় এবং গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। সিসার প্রভাবে হার্ট এবং কিডনি নষ্ট হতে পারে। এমনকি পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি টাঙ্গাইল, খুলনা, সিলেট ও পটুয়ালী জেলায় ইউনিসেফ ৯৮০ জন শিশুর রক্ত পরীক্ষায় সকলের দেহে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি পায়। যেসব এলাকায় সিসাযুক্ত ব্যাটারী পুন:চক্রায়ন করা হয় সেখানে সিসার উপস্থিতি বেশী থাকে। তাছাড়া শিশুদের খেলনা, জালের কাঠি, পিস্তলের গুলি, ইলেক্ট্রীক সামগ্রী, হলুদের গুড়া, দেয়ালের রং, সিঁদুর, কাজল, পাইপ ফিটিংস, শিল্প-করখানার ধোঁয়া, এমনকি কহিনুর বাসমতি চালেও সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সিসার দূষণ থেকে মানবদেহের যে ক্ষতি হয় তার প্রতিরোধ করতে কোন ওষুধ এখনও আবিস্কার হয়নি। জাতীসংঘের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ পিওর আর্থের গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিশু কোন না কোন ভাবে সিসা দূষণের শিকার।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত