
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাসনের উপর আলোচনা প্রথম অধিবেশনের পরে বনজীবীদের কষ্টে গাথা জীবন নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে গণ শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন খোদ জলবায়ু ,পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। সাম্প্রতি সুন্দরবনের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে সুন্দরবনের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ। এর ওই প্রেক্ষিতে সপ্তাহখানেক আগে মাননীয় মন্ত্রী এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলছিলেন বনজীবীদের নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে একটি গণ শুনানি করব। এখানে যদি বনজীবীদের কথার সাথে বন বিভাগের সিটি পাশের মিল না পাই এবং বাৎসরিক বি এল সি নবায়নে বি এল সির রাজস্বর সাথে আর বনজীবীদের কথার সাথে যদি মিল না থাকে তাহলে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের এমন কথার পরপরই এই প্রতিবেদক সহ বিভিন্ন সাংবাদিকরা বন বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি অপকর্মের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতির বিষয় নিয়ে আবারো এই প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে মাননীয় মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু মহোদয়ের সাথে কথা বলেন ৪এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে মাননীয় মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনা চলছে এই প্রথম অধিবেশন শেষ হলেই উপকূলের বনজীবীদের উপস্থিতিতে গণ শুনানি হবে এবং সেখানে আমি নিজেও উপস্থিত থেকে বনজীবী এবং বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও গণমাধ্যম কর্মীদের কথা শুনবো। বনজীবীদের কথার সাথে বন রক্ষীদের কথার মিল যদি না থাকে এবং সিটি,পাসের সাথে বনজীবীদের কথার মিল না পেলে ও বাৎসরিক বি, এল ,সি নবায়নে সরকারি রাজস্বের সাথে এবং বনজীবীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথার মিল পাওয়া যায় তাহলে ধরনের একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন সরকার আসে সরকার যায় খবর পাই আমরা বন বিভাগের দুর্নীতি অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্যের কিন্তু নীরেশন করে না কেউ ।আমি এটিকে চিরতরের মত নিরেশন করে যেতে চাই। যেন আর কখনো বনজীবীরা বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে এবং বনরক্ষীরা যেন বনজীবীদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে হরিন শিকার সহ বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও নানাবিধ অপরাধের কথা না বলে। সবকিছুর সমাপ্তি হবে গণ শুনানিটি করতে পারলে এবং সেটি আমি অবশ্যই করবো এবং বনবিভাগের দুর্নীতি অপকর্মের অভিযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিব। তাই এই অভিযোগের সাথে জড়িত যে ব্যক্তি যত শক্তিশালী হোক না কেন পার পাবে না আমার কাছে। সুন্দরবনে পহেলা এপ্রিল মধু আহরণের পাশ দেওয়ার আগেই মধু আহরণ করে নিয়েছে একটি অবৈধ চক্র এর সাথে জড়িত রয়েছেন বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা এমন প্রশ্নের জবাবে মাননীয় মন্ত্রী বলেন খবরটি আমার কাছে পৌঁছে গেছে। অনুসন্ধান চালাচ্ছি এবং গণ শুনানি হলে বনজীবীরা সেখানে সব কথা তুলে ধরবে নির্ভয়ে তারই প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এই প্রতিবেদককে আরো বলেন যেদিন গণ শুনানি হবে তার আগে আপনারা সাংবাদিক জানতে পারবেন বনজীবীদের নির্ভয়ে গন শুনানিতে অংশগ্রহণ করে সত্য কথা বলার জন্য সাহস যোগাবেন এবং বনজীবীরা যেন শুনানিতে অংশগ্রহণ করে সেজন্য গণমাধ্যম কর্মীরা বনজবীদের সহতা করবেন। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মী আপনাদের কাছে যে সমস্ত অভিযোগ আছে সেগুলোও ওই গণশুনানিতে উপস্থাপন করবেন আমি সকলের কথা শুনবো আমি জনগণের প্রতিনিধি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে আপনাদের সকলের কথা শোনার জন্য এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বনজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এদিকে পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে দিন গেলেই নতুন নতুন দুর্নীতি অপকর্মের পাহাড় সমান তথ্য বেরিয়ে আসছে। তার সাথে জড়িত রয়েছে পশ্চিম সুন্দরবনের সাবেক বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আবু নাসের মোঃ মহসিন, বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক সহ আরো অনেক বড় বড় রাঘবহুল কর্মকর্তারা। একজন প্রাক্তন সিসি এফ নাম প্রকাশে না করার স্বার্থে প্রতিবেদককে বলেন শ্যামাপ্রসাদের ও তার অফিসের ক্যাশিয়ার খাইরুল আলমের অপরাধের পাল্লা এত ভারী হয়ে পড়েছে যার কারণে সারা সুন্দরবনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নামের ভেতর ফেলে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন এই সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকুরী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে না দিলে বনবিভাগ এবং খোদ সরকারের বদনাম গোছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি আরো বলেন এছাড়া সুন্দরবনের একজন বটম্যান অর্থাৎ নৌ চালক বদলি হতে লাগে দশহাজার টাকা, একজন এফজি বদলি হতে লাগে ২৫ হাজার টাকা, একজন ফরেস্টার বদলি হতে লাগে এক লক্ষ টাকা থাকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত, একজন ফরেস্ট রেঞ্জার বদলি হতে লাগে তিন লক্ষ থাকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, একজন সহকারী বোন সংরক্ষক এস সি এফ কে বদলি হতে লাগে চার থেকে ছয় লক্ষ টাকা, একজন বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে ভালো জায়গায় বদলি হতে লাগে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা, একজন বন সংরক্ষক অর্থাৎ সিএফ কে,ভালো জায়গায় বদলি হতে লাগে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। এই সমস্ত টাকা বন বিভাগের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারদের মধ্য পদ পদবী অনুযায়ী ভাগাভাগির পরিমাণ রয়েছে সেই পরিমাণ অনুযায়ী অফিসাররা যার টাকা সে বাসায় বসেই পেয়ে যায়। একজন প্রধান বন সংরক্ষক বাসায় যদি ঘুমিয়েও থাকে তাহলে তাকে মাসেহ আছে এক কোটি টাকার উর্ধ্বে। কারণ নিয়োগ পদ্ধতি থেকে শুরু করে গরিব--বনজবীদের কাছ থেকে শোষণকৃত টাকার ভাগ পযন্ত প্রধান বন সংরক্ষকের পকেটে চলে আসে নিয়ম তান্ত্রিক অনুযায়ী। বন বিভাগের মধ্য এই সমস্ত টাকা ভাগ বন্টন করার একটি কমিটি আছে সেই কমিটির মাধ্যমে সকল অফিসাররা মাসুয়ারী ও এই সমস্ত টাকা ভাগ বন্টন করে যার অংশ তার কাছে সসম্মানে পৌঁছে দিয়ে আসে। এভাবে চলছে যুগের পরে যুগ এটির অবসান ঘটানোর জন্য মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ওই প্রাক্তন প্রধান বন সংরক্ষক মহোদয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত