
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে পাকিস্তান- এমন ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
বৃহস্পতিবার জিও নিউজকে সূত্র জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন পূরণ না হলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজই (বৃহস্পতিবার) জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে দল পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষেই মত দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরে গেলে পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর জেরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জোরালো করে বিসিবি।
আইসিসি সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। হয় ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে হবে নয়তো বিকল্প দেশকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যৎ আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে তা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এর একদিন আগেই আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির আবেদন নাকচ করে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভার পর এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টুর্নামেন্ট নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।”
এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতায় খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি সরকারের সঙ্গে “আর একবার শেষ আলোচনার” জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন।
“আইসিসি বলেছে এটি একটি যৌক্তিক বিষয়, এবং আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই, কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়,” বলেন বিসিবি সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারের মতামত জানানো হবে। “আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে একটি অলৌকিক সমাধানের আশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু খেলোয়াড় নয়, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে,” যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।

