
শিরোমণি জুট স্পিনার্সের শ্রমিক স্বার্থে করা চুক্তির প্রথম কিস্তির টাকা
পরিশোধ হলেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আইনি জটিলতায় আটকে যায়
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি : শিরোমণি জুট স্পিনার্সের শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থে করা মালিক পক্ষের সাথে সিবিএ’র করা চুক্তির প্রথম কিস্তির টাকা শ্রমিক-কর্মচারী বুঝে পেলেও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়নি। গত জানুয়ারি মাসে পরিশোধের কথা থাকলেও কিস্তির টাকা আজ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। সিবিএ’র বিতর্কিত কর্মকান্ডে আইনি জটিলতায় শ্রমিকদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে যায়। অবশেষে খুলনা শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের হস্তক্ষেপে আজ সোমবার এবং আগামীকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হবে। রোববার শ্রম পরিচালকের দপ্তরে ত্রি-পক্ষিয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মিলটির সিবিএ-ননসিবিএ এবং শ্রমিক সূত্রগুলো জানিয়েছেন।
জুট স্পিনার্সের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সাথে কথা বলে জানাগেছে, বেসরকারি জুট মিলগুলোর বর্তমান বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে অবৈধ হলেও শ্রমিকদের স্বার্থে সিবিএ নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে মিল মালিকের সাথে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের স্বার্থে একটি চুক্তি করা হয়। মালিকপক্ষের সাথে করা চুক্তিতে বলা হয় মিলের সকল শ্রমিক-কর্মচারীবৃন্দ একযোগে পদত্যাগ করার পর তাদের সকল পাওনা চূড়ান্ত বিলের টাকা ৪ কিস্তিতে এবং প্রতি চার মাস অন্তর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী মিলটির কর্মরত ৭৮৬জন শ্রমিক-কর্মচারী প্রত্যেকে পৃথক-পৃথক আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করে পদত্যাগ করে বলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুক্তির প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন মালিকপক্ষ। মিলটির শ্রমিকরা জানায় সিবিএ’র বিতর্কিত কর্মকান্ডে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জানুয়ারিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। গত ২৮ মে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন, শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমিকদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঈদুল আযহার আগেই পরিশোধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তিতে মিলটির সিবিএ নেতৃবৃন্দের বিতর্কিত কর্মকান্ডে আইনি জটিলতার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না এই মর্মে একটি নোটিশ মালিক পক্ষ গত শনিবার মিলগেটে দিলে শ্রমিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
রোববার বেলা ১১টায় া শ্রম পরিচালকের দপ্তরে মিলের সিবিএ-ননসিবিএ এবং শ্রমিকদের সাথে অনির্ধারিত বৈঠক করেন শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। এ সময় মিল মালিকের পক্ষে উর্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বাচ্চু, সিবিএ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ, আসাদুজ্জামান আশা, ইকবাল হোসেন, গোলাম রসুল খান, শেখ রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মনিরুল ইসলামসহ মিলের শ্রমিক-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিল।
এদিকে জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে শ্রম পরিচালকের করা শ্রম আদালতের ১৬৮/১৮নং মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছে মিলের সিবিএ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ। শ্রম পরিচালকের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে মিলের শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে।