
চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
মোঃ এজাজ আলী : উপকূলীয় জনপদ খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার চিংড়ি চাষীরা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে। একদিকে অনাবৃষ্টি অন্যদিকে প্রচন্ড তাপদাহের কারনে চিংড়ি চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। কয়রার অধিকাংশ মৎস্য ঘেরের মাছ মরে যাচ্ছে। প্রচন্ড তাপদাহের কারনে কোনো উপায় পাচ্ছে না চাষিরা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বলা চলে একটি নিবিড় চিংড়ি চাষ অঞ্চল। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চিংড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বাগদা চিংড়িতে মড়ক এই অঞ্চলে অর্থনীতিতে মারাত্নক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা। পাশাপাশি অসংখ্য বেকার যুবক তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়বে। জানা গেছে, পোনার দাম বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও প্রচন্ড তাপদাহের কারনে প্রায় প্রতিটি ঘেরে মোড়ক দেখা দিয়েছে। মৎস্য ঘেরে এক ধরনের কাটা শেওলার জন্ম হয়ে থাকে যেটা বাগদা চিংড়ির খাদ্য ও পুষ্টি যোগায়, কিন্তু এ বছর প্রচন্ড রোদে ও তাপদাহে তা আর কাজে আসছে না। খাদ্য সংকট, অনাবৃষ্টি, অধিক তাপ, প্রাকৃতিক খাদ্যের ঘাটতি, সব মিলিয়ে চিংড়ি চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া সরকার নদী বা সাগর থেকে রেনু পোনা আহরন নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় চিংড়ি চাষিরা মহা সংকটে পড়েছে। নদীর পোনা একটু হলেও পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো যায়। হ্যাচারীর পোনায় সেটি সম্ভব হয় না। ৬ নং কয়রা গ্রামের মৎস্য ঘের চাষি আবু মূসা সরদার বলেন, প্রাকৃতিক পোনা বাগদা চাষিদের জন্য একটি আর্শীবাদ, এই পোনা জীবাণুমুক্ত এবং মৃত্যুর হার কম এর পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল। সরকার নদী বা সাগর থেকে রেনু পোনা আহরন নিষিদ্ধ করায় এই সুযোগটাকে কাজে লাগায় হ্যাচারির কোম্পানীগুলো। আর হ্যাচারির পোনায় মড়ক লাগে বেশি। খড়িয়া মঠবাড়ি গ্রামের ভবসিন্ধু মন্ডল বলেন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছি। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় চিংড়ি ঘেরে পানি কম থাকা, তাপমাত্রা বেশি ও লবনাক্ততার জন্য রেনু ছাড়তেই মারা যাচ্ছে। তাছাড়া গত বছরের তুলনায় চিংড়ির বাজারদর কম। এ অবস্থায় কিভাবে ব্যাংক লোন শোধ করবো আর সংসারের ঘানি টানবো ভেবে পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল হক বলেন, ইতোমধ্যে কয়রা উপজেলার মৎস্য অফিসের উদ্দ্যেগে চাষিদের করনীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।