২০১৯ সালে খ্রিষ্টানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডের দিন ঘটানো ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওই বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কার পর্যটনখাত ব্যাপক সংকটে পড়েছিল। যা নড়েবড়ে করে দিয়েছিল দেশটির অর্থনীতি।
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লেকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজেদের জিম্মায় নেয় সিআইডি।
সিআইডির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, “ইস্টার সানডে হামলার ষড়যন্ত্র, সহায়তা এবং মদদের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেজর জেনারেল সুরেশকে ২০১৯ সালে গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সমন্বিত আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডের দিন ব্রেকফাস্টের সময় ছয়টি আলাদা জায়গায় প্রায় একই সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে টার্গেট করা হয় তিনটি চার্চ এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলের অতিথিদের।
ওই বোমা হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশিও ছিল। এতে করে দ্বীপ রাষ্ট্রটির পর্যটন খাত হুমকির মুখে পড়ে যায়।
বোমা হামলার পর তৎকালীন সরকার একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপিয়েছিল। কিন্তু তখনকার গোয়েন্দা প্রধানের বিরুদ্ধেও অভিযোগের তীর ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-৪ ২০২৩ সালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, মেজর জেনারেল সুরেশ বোমা হামলার আগে হামলাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং তার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি (হুইসেলব্লোয়ার) সংবাদমাধ্যমটির কাছে দাবি করেন, ওই বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন রাজাপক্ষের পক্ষে নিতে ও প্রভাবিত করতে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন।
বোমা হামলার দুইদিন পর রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থীতা ঘোষণা করেন এবং নভেম্বরে হওয়া নির্বাচনে ভূমিধস জয় পান।
রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেজর জেনারেল সুরেশকে শ্রীলঙ্কার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান করা হয়। তবে ২০২৪ সালে অনুরা কুমারা দিশানায়ক প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
ওই হামলার আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সতর্কতা দিয়েছিল, যে কোনো সময় বড় হামলা হবে। কিন্তু তাদের সেই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত