ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের যৌথ সহযোগিতার দৃষ্টান্তস্বরূপ আরো এমন অনেক সাফল্যের উদাহরণ তৈরি হবে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে। গত বুধবার তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন। প্রকল্প তিনটি হলো- খুলনা-মোংলাবন্দর রেলসংযোগ এবং মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্প ও আখাউড়া-আগরতলা রেলসংযোগ। এসময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করি। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য দিন দিন বাড়ছে। এটি আশব্যঞ্জক।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গত পাঁচ দশকে এক বহুমাত্রিক পথ পাড়ি দিয়েছে। দুই দেশের এ বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে আশার আলো প্রতিভাত হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যকে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্যকে আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। ভারতে রপ্তানি করার মতো বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনাময় পণ্য রয়েছে যেগুলো ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সৌহার্দপূর্ণ সমাধানে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন আসছে বারবার। আন্তর্জাতিক আইনি বিধি ব্যবস্থা অনুযায়ী একটি আন্তঃদেশীয় নদী হিসেবে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া বাংলাদেশের অধিকার। ভারতের চাওয়াগুলোর বেশির ভাগ পূরণ হলেও বাংলাদেশের কিছু অপ্রাপ্তি রয়ে গেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশ দুটির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকুক। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সব ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হোক- এমন প্রত্যাশা করছি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত