এম সাইফুল ইসলাম : ‘ভিক্ষাবৃত্তিকে না বলুন, ভিক্ষুকমুক্ত খুলনা গড়ুন’ স্লোগাণ নিয়ে খুলনাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে খুলনাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে নগরীতে বেড়েছে ভিখারীর সংখ্যা। পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা ফিরেছেন পুরনো ‘পেশায়’। তদারকি না থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছে এ কর্মসূচি।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের আগস্টে খুলনাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। তখন ৩ হাজার ৫৯৫ জন ভিক্ষুকের নাম নিবন্ধন করা হয়। এ প্রকল্পের তহবিলে বিভিন্ন দপ্তর ও বিশিষ্টজনের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত অর্থের পরিমান ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৭ টাকা। যার মধ্যে খরচ করা হয়েছে ৬০ লাখ ৮১ হাজার ৪২৭ টাকা। এখনও অবশিষ্ট রয়েছে ৯ লাখ ১ হাজার ৪ শত ৫০ টাকা।
ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসনের জন্য ভ্যান-রিকশা, সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগি, মুদি দোকান, পুরাতন কাপড় বিক্রি, কাঁচামালের ব্যবসা, ওজন মাপা মেশিন, ঝাল-মুড়ি ও চানাচুর বিক্রি, আগরবাতি তৈরির মালামাল, ঠোঙ্গা বিক্রি, হাড়ি-পাতিল বিক্রি, শাক-সবজি বিক্রির ভ্যান গাড়ি, চা এর দোকানের উপকরণসহ ১৪ প্রকার উপকরণ সামগ্রী দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালের ৮ মে খুলনাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
কিন্তু বেশিরভাগ ভিক্ষুক ফিরে গেছে তাদের আগের পেশায়। তাদের কারও দাবি, পুনর্বাসন সামগ্রি ছিল অপর্যাপ্ত। অভাবের তাড়নায় পুনর্বাসন সামগ্রি বিক্রি করে দেন অনেকে। আবার কেউ বলছেন, তখন তালিকায় নাম না ওঠায় পুনর্বাসন সামগ্রি পাননি।
নগরীর রেলস্টেশনে ১০৮ বছরের বৃদ্ধা ফজিলা খাতুন। ১৩ বছর আগে তার স্বামী মারা যান, এরপর থেকেই তিনি পথে পথে ভিক্ষা করেন। শুধু ফজিলা খাতুন নয়, এমনিভাবে ভিক্ষা করছে ডালমিল মোড়ের আশিউর্দ্ধ বয়স্কের ফাতিমা বেগম। তিনি জন্মভূমিকে জানান, আগে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন বস্তিতে থাকতাম। সরকার উচ্ছেদ করে দিলে আমরা ডালমিল মোড়ে বাসা নিয়ে থাকি।
সালেহা বেগম প্যারালাইজড আক্রান্ত একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকেন নতুন রাস্তা মোড়ের বস্তিতে। তিনি ভিক্ষা করছিলেন সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্রান্ড এলাকায়। তিনি বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েক বছর ধরে ভিক্ষা করেন তিনি। নিজেও অনেক অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই ভিক্ষা করেন। জেলা প্রশাসন থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে দাবি তার।
শুধু এই ৩ জনই নয়, মহানগরীর রেল স্টেশন, লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনাল, বিভিন্ন মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ভিক্ষা করছেন অসংখ্য ভিক্ষুক। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদেরকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল তাদের প্রায় সবাই আবার ফিরে গেছে আগের পেশায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা নতুন ভিক্ষুক।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড বাবুল হাওলাদার বলেন, ঠিকমতো তদারকির অভাবে জেলা প্রশাসনের মহৎ এই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। পুনর্বাসিত ভিক্ষুকরা সবাই তাদের আগের পেশায় ফিরে গেছে। ভিক্ষুকদের যে পুনর্বাসন সামগ্রি দেওয়া হয়েছিল তা পর্যাপ্ত ছিল না। এসময় তিনি সময়োপযোগি পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ ও মনিটরিং এর দাবি জানান।
খুলনার জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন বলেন, ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থান নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা নেবো। আশা করি আগামি মিটিংএ ই এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌছাবো। সেক্ষেত্রে আমরা এ তহবিলে কোনো টাকা আছে কিনা কিংবা নতুন করে তহবিলে অর্থ সংযুক্ত দরকার হলে সেটাও আমরা করবো।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত