
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদেশগামী ও সেসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যেসব নাগরিক বিভিন্ন দেশে যেতে পারেননি কিংবা পথে আটকা পড়েছেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিমানবন্দরে সরাসরি কাজ করছে, যেন যাত্রীরা নিরাপদ থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে হোটেলে অবস্থানের সুযোগ পান। সরকার নিয়মিত পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বা জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা যেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং দুর্ভোগে না পড়েন—সে লক্ষ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
’সব মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছে। আমাদের নম্বর ওয়ান প্রায়োরিটি (সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার) হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’—বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার কথা থাকলেও যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী এখনো যেতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকায় কবে স্বাভাবিক ভ্রমণ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ভ্রমণ চালু হলে যাত্রীরা যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেন, সে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে দুটি বিবৃতি দিয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বিবৃতি দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে যে দুজন নিহত হয়েছেন তাদের একজন রোহিঙ্গা এবং অন্যজন বাংলাদেশি নাগরিক।
’নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে’—যোগ করেন তিনি।