
মিজানুর রহমান, মোরেলগঞ্জ : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পুকুর,ও পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার পড়েছে। অকেজো হয়ে পড়ে আছে পি.এস.এপগুলো।খেতে হচ্ছে পুকুরের ঘোলা ও লোনা পানি।পানির মধ্যে বসবাস করেও নিরাপদ পানি পান করতে পারছেনা এখানকার বাসিন্দারা।বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ।ভুগছে স্বাস্থ্যহীনতায়।
সরেজমিনে দেখাগেছে,১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় ৫লক্ষ মানুষের বসবাস।কিন্তু নেই তাদের বিশুদ্ধ পানি ব্যাবহারের কোন স্থায়ী ব্যবস্থা। এ উপজেলায় সরকারিভাবে ৩২টি সোলার প্যানেল পি.এস.এফ,ও হস্থচালিত ২ শতাধিক পি.এস.এফ থাকলেও অধিকাংশ পি,এস,এফ গুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে বছরকে বছর।এখানকার ইইউনিয়নের বাসিন্দারা সরাসরি পুকুরের পানি পান করলেও পৌরসভায় নেই কোন পানি শোধনাগার। সরাসরি পুকুরের পানিই পৌরবাসীর ভরসা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকুলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস ও পুর্নিমার জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে নদি তীরবর্তী এলাকা। প্রবেশ করছে লোনা পানি। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা,আম্ফানের আঘাতে দঃক্ষিনাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশের মিষ্টি পানির আধার।শুকনাে মৌসুম শুরু হতে না হতেই পুকুর, ডোবা,শুকিয়ে যায় আর চৈত্র, বৈশাখ, জৈস্ঠে চরম আকার ধারন করেছে। চারদিকে সুপিয় পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে ।খাল,বিল, পুকুরের লোনা পানি খেয়ে ভুগছে পানিবাহিত রোগ,ডায়ারিয়া,আমাশয়, জণ্ডিস, টাইফয়েডে।এখানকার বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা দির্ঘদিনের।তবে কেউ,কেউ সরকারিভাবে ৩হাজার লিটার রেইন হার্বেস্টার পেলেও সাধারন মানুষদের পুকুরই একমাত্র ভরসা।বিশুদ্ধ পানিই যেন এখানকার বাসিন্দাদের সোনার হরিনে পরিণতি হয়েছে।
এ উপজেলার জিউধারা, বহরবুনিয়া, বারইখালী, তেলিঘাতি,পঞ্চকরন, পুটিখালি, বলইবুনিয়া,নিশানবাড়িয়া, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নগুলো মূলত চিংড়ি চাষের উপর নির্ভরশীল। ফলে জানুয়ারি মাসেই ঘেরে লবন পানি উঠাতে হয়। যার প্রভাবে এখানকার পুকুরেও লবন পানি প্রবেশ করায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়।এসব চিংড়ি অধিস্যুতি এলাকার লবন পানিই এখানকার বাসিন্দাদের জীবন। কিন্তু জীবন বাঁচাবার তাগিদে মিষ্টি পানির জন্য মাইলকে মাইল ছুটে চলছে গায়ের বঁধু, শিশু কিশোর, আবাল,বৃদ্ধা বনিতারা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এউপজেলায়, ক্রমাগত,বিশুদ্ধ পানির অভাব লেগেই থাকে আর উপকুলীয় বাসিন্দারা যদি বিশুদ্ধ পানি পান না করতে পারে তাহলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে।পানিই জীবন কিন্তু চাই নিরাপদ পানি। নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানের ব্যাবস্থা করা অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে।