
যশোর অফিস : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ত্রুটির কারণে একই আসনে আরও তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যশোর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
যশোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির এবং শাহজাহানন গোলদারের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যশোর জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এই তথ্য জানা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড-সংক্রান্ত জটিলতায় ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
রিটার্নিং অফিস জানিয়েছে, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সিআইবি রিপোর্টে ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া দেখানো হয়েছে। যদিও তিনি বকেয়া পরিশোধের প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, তবে তা যথাসময়ে পরিশোধ না করায় এই বিপত্তি ঘটেছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এই বিষয়ে নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। বকেয়া ঋণ পরিশোধ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রিটার্নিং অফিসে জমা দিলে তা ফের যাচাই করা হবে। এক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই আসনে মোহাম্মদ ইসহাকের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান এবং স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনের বিএনএফ প্রার্থী শাসছুল হকের মনোনয়ন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের আপত্তি থাকায় জাপার ফিরোজ শাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যশোর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া নির্ভরশীল ব্যক্তির (স্ত্রী) দেওয়া তথ্য গরমিল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফের জমা দিলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আশেক হাসান।
এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক ভাগ ভোটারের সমর্থনকৃত কাগজ নেই। এই কারণে তাদের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তাদের সংশোধনের জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন, যে সমস্ত ত্রুটি দেখিয়ে প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে সেগুলো সংশোধনের জন্য সময় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে তারা প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। এজন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত