
যশোর অফিস : যশোর পৌরসভা দেনার ভারে জর্জরিত এলইডি লাইট প্রকল্পের দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা পানিতে গেছে। উচ্চমূল্য দিয়ে নিম্নমানের লাইট কেনায় তা অকেজো হয়ে পড়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর সময় পৌর এলাকায় এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়। ১০৫০টি ইলেকট্রিক পিলারে সাধারণ বল্বের পরিবর্তে এ লাইট স্থাপন করে কর্তৃপক্ষ। সে সময় প্রতিটি লাইটের দাম পড়ে ১৩ হাজার টাকা। সব মিলে গত ছয় বছরে দুই হাজার ৫০টি এলইডি লাইট ক্রয় করে কর্তৃপক্ষ। যার দাম দুই কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রথম দফায় এক হাজার ৫০টি এলইডি লাইট ক্রয় করা হয় এক কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দুই বছর যেতে না যেতেই তা নষ্ট হতে শুরু করে। নষ্ট হতে হতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৫শ’ লাইট নষ্ট হয়েছে। যেগুলো জ্বলছে তা প্রায় নিভু নিভু অবস্থা। এসব লাইটের গুনগতমান ভাল ছিল না। ফলে পুরো দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা পানিতে গেছে।
এখন পৌর কর্তৃপক্ষ আর এলইডি লাইট স্থাপন করছে না। আগের সিন্ধান্ত তারা পরিবর্তন করেছে। ১৩ হাজার টাকার লাইটের পরিবর্তে ৪০ ওযাটের বাল্ব সংযুক্ত করা হচ্ছে এলইডি লাইটের নিচেই। ফলে আগের মত আর আলো হচ্ছে না। শহরের সড়কগুলো থাকছে অন্ধকারে। মুজিব সড়ক, আরএন রোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখো গেছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, শহরের সড়কগুলোতে এলইডি রাইট স্থাপন করা হলেও এখন কার্যকর নেই। বেশি দাম দিয়ে কম দামের লাইট কেনায় সে গুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ফলে স্থাপনের পাঁচ ছয় মাস পর থেকেই তা নষ্ট হতে থাকে।
৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জসিম হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের গলিতে অনেক দিন ধরেই লাইট জ¦লে না। দু’একটা যা জ¦লে তাও নিভু নিভু। এমনচিত্র পুরো পৌর এলাকার।
খড়কী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, কোটি-কোটি টাকা খরচ করে লাইটগুলো লাগানো হলেও এখন জ্বলে না। এলাকার অলিতে গলিতে এমন চিত্র চোখে পড়ে।
রোলগেটর বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, এলইডি লাইট আর ৪০ ওযার্টের বাল্বের আলোর মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। এ আলোতে রাস্তয় ঠিক মত চলাচল করা যায় না। আলো কম থাকায় চুরি ছিনতাই বাড়ছে ।
যশোর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান বলেন পৌরসভার ১হাজার ৫০ টি ইলেকট্রিক পিলারে উন্নতমানের এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়। সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টরু সময় এইসব লাইট¦ স্থাপন করা হয়। প্রতিটি ১৩ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। এ পর্যন্ত দুই কোটি ৬৬ হাজার টাকা দিয়ে দুই হাজার ৫০ টি এলইডি লাইট ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৫০ টি নিম্নমানের থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন আপন মোড়ে একটি এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছিল উন্নত মানের। সেটি এখনো সচল রয়েছে। এলইডি লাইটে খরচ বেশি। তাই খরচ বাঁচাতে ৪০ ওযাটের বাল্ব লাগানো হচ্ছে। এতে আলোর স্বল্পতা সৃষ্টি হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতে রাস্তায় আলো কম থাকলে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরো বলেন এতা টাকার লাইট নষ্ট হয়ে গেলেও পৌরসভার মাথায় এখানো কোটি কোটি টাকার দেনা।
পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যশোর পৌরসভার দেনা ছিল ৯১ কোটি টাকা। ধীরে-ধীরে তা কমছে। এখন ৫০ কোটির মত দেনা আছে। আর আগের লাগানো এলইডি লাইট নষ্ট হয়ে গেলে তা আর মেরামত করা হচ্ছে না। নতুন বাল্ব সংযোজন করা হচ্ছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত