জন্মভূমি ডেস্ক : আজ ২৫ শে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
সার্বজনীন এই কবি বাংলাভাষা সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব দরবারে। তাইতো নাগরিক মধ্যবিত্ত মননে আজও বাজে কবির অনিন্দ্যসুন্দর সব গান। আনন্দ, বেদনা, কিংবা বিরহ, ভালোবাসা প্রতিটি প্রকাশেই বাংলা ভাষাভাষির প্রাণের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ।
নিজের সময়ে থেকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধারণ করেছিলেন অনাগত কালকে। তাইতো সব সৃষ্টি কর্মই এখনো সমান আবেদন নিয়ে মুগ্ধ করছে শ্রোতাদের। মধ্যযুগীয় উপনেবেশিক সাহিত্যের বেড়াজাল থেকে বাংলাসাহিত্যকে আধুনিকতায় মুক্তি দিয়েছিলেন কবিগুরু।
জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবী দম্পতির কোলজুড়ে এসেছিলেন ১৮৬১ সালে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রতিভার প্রকাশ ঘটে, কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবি কাহিনীতে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেত গেলেও গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডীর বাইরে অনন্য এক উচ্চতা ছুঁতে চেয়েছিলেন রবি ঠাকুর।
সকল ক্ষেত্রেই স্পষ্ট উচ্চারণ বারবার ধ্বনিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য সৃষ্টি কর্মে। সত্য, সুন্দর আর প্রেমের সাধনা হয়ে ওঠে তার সমগ্র কাব্য সাহিত্যের প্রয়াস। আধুনিকতা আর উৎকর্ষকতায় মানুষ অনেক বেশি যান্ত্রিক হলেও আবেগ অনুভূতি প্রকাশে এখনো ফিরে আসতেই হয় রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি সম্ভারে।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী কাব্যগন্থের জন্য প্রথম বাঙালি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পান রবীন্দ্রনাথ। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার রবীন্দ্রনাথ ইংরেজদের অত্যাচার এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ত্যাগ করেন ব্রিটিশ সরকারের দেয়া নাইট উপাধি।
লেখনি দিয়ে বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনে জর্জরিত উপমহাদেশের মানুষের মনে জুগিয়েছেন শক্তি ও সাহস। সমগ্র জীবনে অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ, গান, নাটক আর উপন্যাস রচনা করেন। জীবন সায়াহ্নে, সত্তর বছর বয়সে শুরু করেন ছবি আঁকা। দুই হাজারের মতো ছবিও এঁকেছেন তিনি।
১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট, বাংলা ২২শে শ্রাবণ ৮০ বছর বয়সে চির বিদায় নেন কবি গুরু। তবে কাব্য ও গানে আজও বেঁচে আছেন বাঙালির অপরিহার্য রবীন্দ্রনাথ।
এদিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ী ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণদিহিতে বসবে ৩ দিনব্যাপি আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকমেলা।
প্রথম দিন ৮ মে লোকমেলা ও অনুষ্ঠানে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। মুখ্য আলোচক থাকবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ট্রেজারার সাধন রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ অতিথি থাকবেন উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন। প্রথম দিনে স্বাগত বক্তৃতা করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ। দ্বিতীয় দিন ৯ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। মুখ্য আলোচক থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. স্বরোচিষ সরকার। বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম। লোকমেলার শেষ দিন ১০ মে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী। মুখ্য আলোচক থাকবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন কেএমপি কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান ভূঞা, ডিআইজি মঈনুল হক বিপিএম (বার), পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। লোকমেলার পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত