
কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার পাশাপাশি নোয়াখালীর ভাসানচরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ইউনিসেফের মাধ্যমে সেবা ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থ (জিওবি) ও বিশ্বব্যাংকের অনুদানে বাস্তবায়িত হবে।
‘আইএসও কম্পোনেন্ট-ওয়ান: প্রি-প্রাইমারি অ্যান্ড প্রাইমারি এডুকেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ইন কক্সবাজার অ্যান্ড বান্দরবান ডিস্ট্রিক্টস অ্যান্ড ভাসানচর অব নোয়াখালী’ শীর্ষক প্রকল্পের এসডি-৪ প্যাকেজের আওতায় এই সেবা ক্রয় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি নিয়ে আসে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-১-এর আওতায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের নিজ মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে একক উৎসভিত্তিতে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফকে (ইউএন এজেন্সি ইউনিসেফ) শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দাখিলের আহ্বান জানানো হলে সংস্থাটি শিক্ষা প্রস্তাব জমা দেয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (পিইসি) এবং বিশ্বব্যাংকের শিক্ষা টিম যৌথভাবে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই ও দর-কষাকষির (নেগোসিয়েশন) মাধ্যমে চূড়ান্ত করে। এরপর নির্ধারিত প্যাকেজের কাজ ইউনিসেফের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ১৮ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২০৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা (ডিপিপি অনুযায়ী প্রতি মার্কিন ডলার ১১০.৫০২ টাকা হিসেবে ধরা হয়েছে)। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৪ সালের ২৮ মে অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক পুরো ১৮ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি ইউনিসেফকে মার্কিন ডলারে পরিশোধ করবে।

