নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভোক্তাদের যখন দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখনও নানা অজুহাতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে। বস্তুত বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া মুনাফা করার সুযোগ পায়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যায়। খোদ শিল্প প্রতিমন্ত্রীও কিছুদিন আগে ‘মানুষ বাজার করতে গিয়ে এখন কাঁদছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যরা তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সিন্ডিকেটের কেউ সরকারের ভেতর থাকলে তাকে খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নিতে হবে। এমনকি মন্ত্রীর সঙ্গে সিন্ডিকেটের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। একজন সংসদ-সদস্য তো মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে গেলে যে ক্রাইসিস তৈরি হবে, সেটা আমাদের সইতে কষ্ট হবে; তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। গতকাল শনিবার খুলনায় এক অনুষ্ঠানে বানিজ্য মন্ত্রী বলেছেন সরকার সিন্ডিকেট ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসা দুঃখজনক। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা। সেক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যরে কাছে এমন আত্মসমর্পণ কাঙ্ক্ষিত নয়।
আমরা জানি, সাধারণত পণ্যের সংকট থাকলে দাম বাড়ে। কিন্তু দেশে খাদ্যপণ্যের কোনো সংকট নেই। উলটো দেখা যাচ্ছে-চাল, ডাল, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংস, ডিম, মসলাসহ সব নিত্যপণ্যই বিক্রি হচ্ছে চড়া দরে। শনিবার খুলনার বাজারে কঁচা মরিচের দাম অবিশ^াস্যভাবে ৮০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে যাদের কাজ করার কথা, তারাই জুজুর ভয় দেখিয়ে খরচে রাশ টানার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাহলে মানুষ অভিযোগ করবে কার কাছে?
বানিজ্য মন্ত্রী বৈশ্বিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ বাজারে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের দায় মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপরই বর্তায়। যারা এ অপরাধ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা কি এতই কঠিন?
সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বানও জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী। এদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। শিল্পমন্ত্রী ও শিল্প প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জন্য আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা আশা করব, দেশের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও তারা জোরালো ভূমিকা পালন করবেন।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা তৈরি করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট। এসব সিন্ডিকেট ভাঙা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়াবে আর কর্তৃপক্ষ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, তা হতে পারে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমরা সরকারের জোরালো ভূমিকা দেখতে চাই।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত