জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনার বাজারে এমনিতেই তেল-চিনি. আটা-ময়দার দাম আগের থেকেই বেড়ে রয়েছে। মাছ, ডিম-দুধের দামও বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সর্বোচ্চ রযেছে। এরই মধ্যে কাঁচা মরিচ, আদা ও টমোটোর দামের লাগাম ছিড়ে গেছে। সব মিলিয়ে চরম অস্বস্বিতে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা ঠিকমতো পূরণ করতে পারছেন না। অনেককেই বাজার থেকে ফিরতে হচ্ছে ব্যাগের তলানিতে কিছু পণ্য নিয়ে।
শুক্রবার খুলনার বড়বাজার, গল্লামারী, সন্ধ্যা বাজারসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ-মাংস, শাক-সবজিসহ সবকিছুর দামই বাড়তি। ঈদ শেষে গ্রাম থেকে ফিরে অনেকেই এসেছেন বাজারে, যাদের অধিকাংশই অস্বস্তির কথা বলেছেন।
বড় বাজারে বাজার করতে এসেছেন আল্ মাহমুদ হোসেন তিনি বলেন, ঈদের আগে কাঁচা মরিচ কিনে ফ্রিজে রেখে ছিলাম। এখন সে গুলো অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য এক পোয়া কাঁচা মরিচ কিনতে হলো ১২৫ টাকা দিয়ে। আদা-রসুন কিনতে গেছে প্রায় ২০০ টাকা। আর টমেটোর দাম চাচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি। এই যদি হয় অবস্থা, আমাদের মত স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন ধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কোরবানির পর মাংস খেতে চাচ্ছে না বাচ্চারা। একটা মাছ কিনতে গেলে পাঁচ-ছয়শ টাকা লাগে। শাক-সবজির দাম বেশি, তেলের দাম বেশি, চাল-চিনির দামও বেশি। প্রায় এক হাজার টাকার বাজার করে ফেলেছি। এখনও অনেক কিছু কেনা বাকি।
ঈদের পর মাছের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বড়ে গেছে। প্রতি কেজি রুই-কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকো ৩৬০ টাকায়। পাঙাশ-তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ও ট্যাংরা জাতীয় মাছ ৫০০-৬০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক কেজি বা ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১০০০-২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্বন্ধ্যা বাজারের মাছ বিক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদের পর এখন মাছের বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি। তাই চাহিদা বেড়েছে। আড়ত থেকে বেশি দামে মাছ কিনতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তিনি বলেন, ঈদের আগেও মাছের দাম বেশি ছিল। এ বছর বাজারে কাঙ্খিত ইলিশ না থাকায় অন্যান্য মাছের দামও বেশি।
এদিকে গরু, খাসির মাংস ও মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দর। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসি ১০০০ টাকা, ব্রয়লার ২০০-২২৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা হালি দরে। এক ডজন নিলে রাখা হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা।
একই সঙ্গে পাল্লাদিয়ে বেড়েছে সব ধরনের শাক-সবজির দাম। গোল আলু, টমেটো, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, কচুর লতি, ঢ্যাঁড়স, লাউশাক, পালংশাক, লালশাক, কলমি শাকসহ সবধরনের শাক-সবজির দাম বেড়েছে।
গল্লামারী বাজারের সবজি বিক্রেতা ফরহাদ বলেন, গত সপ্তাহে ঈদের কারণে বাজারে মানুষ কম ছিল। এখন মানুষ বাড়ছে তাই চাহিদার সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজি কেজিপ্রতি ১০-১২ টাকা বেড়েছে। এদিকে ওই বাজারে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। আর গেলো প্রায় দুই মাস ধরে বাড়তি আদার দাম। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৬০ টাকা দরে।
এদিকে মুদি বাজারে নতুন করে কোনো পণ্যের দাম না বাড়লেও তেল-চিনি, আটা-ময়দার দাম আগে থেকে বেড়ে রয়েছে। প্রতি কেজি বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার দরে। খোলা চিনির কেজি ১৩৫-১৪০ টাকা। প্যাকেটজাত আটা ৬৮ টাকা এবং ময়দা ৭৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত