ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষ নেতা বাছাইয়ের ব্যাপারটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। দু’জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে আলোচনা চলছে গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী সংস্থা শুরু কাউন্সিলের মধ্যে।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাত দিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে হামাসের শুরা কমিটি ও রাজনৈতিক ব্যুরো গঠন করা হয়েছে। হাজারো হামাস সদস্যের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থীদের দিয়েই গঠন করা হয়েছে শুরা কমিটি ও রাজনৈতিক ব্যুরো। তবে ভোট কীভাবে পরিচলনা করা হয়েছে— সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য ওই নেতা জানাননি।
এখন প্রস্তুতি চলছে নতুন শীর্ষ নেতা বাছাই করার। হামাসের আরেক নেতা জানিয়েছেন— নতুন নেতার মেয়াদ হবে এক বছর এবং তিনি হবেন হামাসের অন্তর্বর্তী প্রধান। আগামী এক বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে ফের নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে।
যে দুই সর্বজ্যেষ্ঠ নেতাকে নাম আলোচনায় আসছে— তারা হলেন খলিল আল হায়া এবং খালিদ মেশাল।
৬৫ বছর বয়সী খলিল আল হায়া বর্তমানে হামাসের শীর্ষ মুখপাত্রের ভূমিকায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে গত বছর যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা হয়েছে হামাসের— সেখানে গোষ্ঠীটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে হামাসের হাই কমান্ডের অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৯ বছর বয়সী খালিদ মেশালের জন্ম গাজায় নয়, গাজায় কখনও থাকননি তিনি। ১৯৫৬ সালে পশ্চিম তীরে জন্ম নেওয়া খালেদ মেশাল কুয়েতে থাকার সময় হামাসে যোগ দেন। পরে হামাসের নেতা হিসেবে জর্ডান, সিরিয়া হয়ে বর্তমানে কাতারে বসবাস করছে মেশাল।
গাজার বাসিন্দা না হলেও মেশাল হামাসের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ছিলেন তিনি। বর্তমানে কাতারে অবস্থিত হামাসের প্রবাসী দপ্তরের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে আছেন মেশাল।
তবে হামাসের শীর্ষ নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে মেশালের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে আছেন হায়া; কারণ হামাসের সশস্ত্র গোষ্ঠী এজেদিন আল কাসাম ব্রিগেড মেশালকে সমর্থন দিচ্ছে।
গাজায় ইসলায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান চলার সময় ২০২৪ সালে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন হামাসের তৎকালীন প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তিনি নিহত হওয়ার ফিলিস্তিনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার মাস্টারমাইন্ড ইয়াহিয়া সিনওয়ার হামাসের প্রধান নেতা হন; কিন্তু মাত্র তিন মাসের মধ্যে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনা অভিযানে নিহত হন তিনি।
সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর আর প্রধান নেতা নির্বাচন করেনি হামাস। সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত গোষ্ঠীটির নির্বাহী দায়িত্বে ছিল ৫ জন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ। মেশাল এবং হায়া উভয়েই সেই পরিষদের সদস্য।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত