তেরখাদা প্রতিনিধি : আর মাত্র তিনদিন পর দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল আযহা। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠায় জমে উঠেছে সাপ্তাহিক এই হাটটি। তাই সবাই নিজ সামর্থ্যরে মধ্যে পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে ছুটছেন ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটে। শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটে তিলধারণে ঠাঁই নেই; পছন্দের কোরবানীর পশুটি কিনতে বিরামহীন হাঁটছেন সবাই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার কারনে ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটটি ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ইখড়ি গরু-ছাগলের হাট বসে। গরু-ছাগলের হাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অন্য বছরের মত এবারও উপজেলাসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক দেশী গরু-ছাগল হাটে আসছে। ব্যাপারীদের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা হাটে এসে ঘুরে-ঘুরে গরু-ছাগল কিনছে আর ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে। তেরখাদা-খুলনা সড়কের পাশে হাটটির অবস্থান হওয়ায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে গরু-ছাগল পাইকাররা সহজেই গরু-ছাগল আনা নেয়া করতে পারেন। এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাকডাকে ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটে কোরবানির পশুর এখন বেশ সরগরম। হাটটিতে যে সব বড় বড় গরু-ছাগল আমদানি হয় তার বেশির ভাগই তেরখাদাসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে আসে। এসব গরু মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই প্রকৃতির খাবার খেয়ে খামারিরা বড় করে থাকেন। সে কারনে ক্রেতারা ঐতিহ্যবাহী ইখড়ি গরু-ছাগলের হাট থেকে পশু ক্রয় করতে আগ্রহী বেশি। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা থাকায় গরু-ছাগল ক্রয় করে দেশের যে কোন স্থানে সহজেই নিয়ে যাওয়া যায়। কোরবানির গরু কিনতে আসা কালিয়া উপজেলার বড় নাল এলাকার রহিম শেখ বলেন, দাম একটু বেশি হলেও দেশী গরুতেই আমার আস্থা, তাই এত দুর থেকে ছুটে এসেছি নিজের পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে।
উপজেলার মধুপুর গ্রাম থেকে আসা সরকারি চাকুরিজীবী হোসেন আলী বলেন, গত ৮/১০ বছর ধরেই আমি ইখড়ি গরু-ছাগলের হাট থেকে দেশী গরু কিনে থাকি। দাম নয়, আমার কাছে কোরবানির পছন্দের গরুটি মুখ্য। সেক্ষেত্রে দেশী গরুই আমার প্রথম পছন্দ। গরু বিক্রি করতে আসা উপজেলার বারাসাত এলাকার ইলিয়াছ হোসেনসহ স্থানীয় কৃষক ও বেশ কয়েকজন খামারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনধরনের ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে এখানকার গরু পালন করা হয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার কারনেই কোরবানির জন্য উপজেলাসহ জেলাগুলোতে এখানকার এসব দেশী গরু-ছাগলের বেশ কদর রয়েছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) বঙ্কিম চন্দ্র হালদার বলেন, এখানকার গরু কোনধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে তাই তেরখাদা উপজেলাসহ আশ-পাশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলার লোকজনের কাছে এখানকার দেশীজাতের গরুর ব্যাপক চাহিদা হয়েছে।
ইখড়ি গরু ছাগল হাটের ইজারাদারও হাট কমিটির সভাপতি মোল্যা আজিজুর রহমান বলেন, প্রতিহাটে গরু-ছাগল বিক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের সদস্য মোতায়েন থাকেন। ঐতিহ্যবাহী এই হাটটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত