জন্মভূমি ডেস্ক : নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অর্ধশতাধিক প্রার্থী। এর বেশিরভাগই দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সরকারি দলের সাথে কিছু সমঝোতা করে বাকি প্রার্থীদের বঞ্চিত করেছেন। অবশ্য কেউ কারণ হিসেবে আর্থিক সংকট, কেউ পারিবারিক কারণের কথা বলেছেন। কেউ কেউ তার আসনের অন্য প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটের মাঠ ছেড়েছেন।
অবশ্য প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর আইনগতভাবে ভোট ছেড়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এ সময় ভোট ছাড়লেও ব্যালটে তাদের প্রতীক থাকবে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে বৈধ প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন। এমনকি ভোটের মাঠ ছেড়ে দেওয়া কেউ যদি বিজয়ী হন আইনত সেটা বৈধ হবে। ফলে শেষ মুহূর্তে সরে গেলেও নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে গেলেও আওয়ামী লীগের সাথে যে ২৬টি আসনে সমঝোতা হয়েছে সেখানকার কেউ নির্বাচন থেকে সরেনি। তারা সকলেই সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে রয়েছেন।
নির্বাচন থেকে সরে গেলেন যারা:
॥ জাতীয় পার্টি ॥
যশোর-৫ এমএ হালিম, চুয়াডাঙ্গা-১ সোহরাব হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২ রবিউল ইসলাম, দিনাজপুর-২ মো. মাহবুব আলম,গাইবান্ধা-৫ আতাউর রহমান সরকার, নাটোর-৪ আলাউদ্দিন মৃধা, বরগুনা-১ খলিলুর রহমান, টাঙ্গাইল-৭ জহিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, মুন্সীগঞ্জ-১ শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ মন্নান তালুকদার, সিলেট-৫ সাব্বির আহমেদ, হবিগঞ্জ-২ শংকর পাল, লক্ষ্মীপুর-৩ রাকিব হোসেন, কুমিল্লা-২ এ টি এম মঞ্জুরুল ইসলাম, গাজীপুর-২ জয়নাল আবেদীন, নওগাঁ-২ মো. তোফাজ্জল হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৩ জাকির হোসেন, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৫ আসন, গাজীপুর-১,৪ ও ৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ আরও কয়েকজন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোট থেকে সরে গেছেন।
জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলছেন, দলকে বেকায়দায় ফেলতেই কেউ কেউ এই ভোট থেকে সরে যাচ্ছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এবার অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। ’৯০-পরবর্তী ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা দলের ছিল না। এবার তা হয়েছে। ৩০-৪০ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বড় কিছু হবে না। ভোটের পর যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
॥ স্বতন্ত্র প্রার্থী ॥
এদিকে নীলফামারী-৩ আসনে আবু সাঈদ শামিম এবং হুকুম আলী খান, রাজশাহী-১ মো. আখতারুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩ সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ, যশোর-২ এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব, যশোর-৪ বর্তমান এমপি রণজিৎ কুমার রায়, নড়াইল-২ সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু, ঝালকাঠি-১ এম মনিরুজ্জামান মনির, নেত্রকোনা-১ মো. আফতাব উদ্দিন, ময়মনসিংহ-৩ মোর্শেদুজ্জামান সেলিম ও হবিগঞ্জ-১ গাজী মোহাম্মদ শাহেদ।
॥ বিএনএম ॥
সিরাজগঞ্জ-৫ বিএনএম প্রার্থী আব্দুল হাকিম, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান শামছুল আবেদীন, যশোর-৪ সুকৃতি কুমার মণ্ডল।
এছাড়া চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ১ হাজার ৯৭০ জনের মত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৪৩৬ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন ২৬৬ জন। জাতীয় পাটির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জনসহ ২৮টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী সংখ্যা এক হাজার ৫৩৪ জন। নির্বাচনে ৯০ জন নারী প্রার্থী ও ৭৯ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত