By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা

Last updated: 2026/03/15 at 2:33 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 57 minutes ago
Share
SHARE

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার মাটি ও পানিতে বৃদ্ধি পেয়েছে লবণাক্ততা। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। লোনা পানিতে কাজ করার কারণে বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে মাছধরা ও বনজীবী নারীরা অকাল গর্ভপাত, জরায়ু সমস্যাসহ বিভিন্ন মেয়েলী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝূঁকিতে পড়ছে উপকূলের নারীরা।
সূত্রমতে, লবণাক্ত পানির জন্য নারীদের অকাল গর্ভপাত ঘটছে। যে কারণে উপকূলীয় এলাকায় কমছে জন্মের হার। জাতীয়ভাবে দেশে জন্মের হার ১.৩৭ শতাংশ হলেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের জন্মের হার ০.৮৯ শতাংশ। এদিকে সাতক্ষীরা এবং উপজেলার ক্লিনিক গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কয়েকবছর ধরে জরায়ু অপারেশন বেড়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, কৈখালি, রমজাননগরসহ উপকূলবর্তী ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ নারীরা সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী গুলোতে (সকাল ও বিকেল) দুই জোয়ারে ৭/৮ঘন্টা নদীতে নেমে রেণু পোনা (ছোট) মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করেন। উপকূলীয় এলাকার বাঘ বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীসহ সংসার চালাতে অধিকাংশ নারীদের কাজ করতে হয়। অধিক সময় লবণাক্তা পানিতে কাজ করার ফলে নারীদের জরায়ুসহ বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের জেলে পাড়ার বাঘ বিধবা দিপালী রাণী বলেন, স্বামীকে বাঘে খেয়েছে ২৩ বছর আগে। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের আয়ে সংসার চলে না। আগে ক্ষেতে খামারে কাজ করতো। কিন্তু ২০০৯ সালের আইলার পর এলাকায় কাজের ক্ষেত্র কমে যায়। তাই বাধ্য হয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ নদীতে রেণু পোনা (ছোট) মাছ ও কাকড়া আহরণ করেন। সকাল ও বিকেল দুই জোয়ারে ৭/৮ ঘণ্টা নদীতে নেমে রেণু সংগ্রহের জন্য জাল টানেন। নদী থেকে আহরিত রেণু প্রতি পিস ৫০ পয়সা বিক্রি করে কোন রকম সংসার চলে। দীর্ঘ সময় নদীতে কাজ করার ফলে শরীরে ঘাঁ-পাচড়াসহ বিভিন্ন মেয়েলি সমস্যায় ভুগছেন তিনি।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, লবণ পানিতে অধিক সময় কাজ করলে বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা হয়। অনেক নারীর জরায়ূসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জরায়ু কেটে ফেলতে হচ্ছে অনেকের। আতঙ্কে আছি কিন্তু করার কিছু নেই। কাজ না করলে খাবো কি? ঘন ঘন দূর্যোগের কারণে এলাকায় কাজের অভাব। সব কিছু জেনেও লবণ পানিতে নেমে রেণু পোনা ধরতে হচ্ছে। না হলে খাবো কী? আমার সাথে কাজ করে এই রকম বেশ কয়েকজন নারীর জরায়ু কেটে ফেলতে হয়েছে। আমার এক প্রতিবেশী ২৪ বছর বয়সে তার জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। জরায়ু কাটার ফলের অনেকের স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সমচেয়ে বড় কথা হচ্ছে জরায়ু কেটে ফেলার পরও সুস্থ্য হতে পারছে না। দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া এইসব কারণে এই অঞ্চলে তালাকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য উপকূলীয় এলাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার দাবি করছি।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার ধাত্রী আসমা উল হুসনা বলেন, বাচ্চা ডেলিভারী করতে যেয়ে দেখছি শতকরা ৯৯ শতাংশ নারী জরায়ু সমস্যায় ভুগছেন। সাদা স্রাব ভাঙতে ভাঙতে ক্ষত হয়ে ঘা হয়ে যায়। বিয়ের আগে থেকেই সমস্যা হয়। প্রথম বাচ্চা ডেলিভারী করে যেয়েও দেখেছি সেই নারীরা জরায়ু সমস্যা। লবণাক্ত পানির কারণে মাসিক আগেই এই এলাকার মেয়েদের। এসব কারণে স্বামীরা সাংসারিক অশান্তি হয়। স্বামীর মন রক্ষা করতে পারছে না, সংসারে কাজ করতে পারছে না। সন্তান লালন পালনও করতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর মাত্রাতিরিক্ত এসব লোনা পানির দৈনন্দিন ব্যবহারের ফলে জরায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এসব এলাকার নারীরা। সেজন্য অল্প বয়সেই জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন এই এলাকার অনেক নারীই। এই এলাকার নারীরা সংকোচবোধ করেন। স্বামীর সাথেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাননা। দিন দিন পানিতে লবণ বেড়েই চলেছে। শীতের সময় পানি মুখে দিলে মুখ জ্বালা করে। এখানে গোসলের পানিরও সমস্যা। যে কারণে দিন দিন নারীদেও স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হেলেনা বিলকিস বলেন, এখানে ১০ বছর ধরে যাবত কর্মরত আছি। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। অধিকাংশ নারী জরায়ুসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এই ইউনিয়নটির চারিদিকে নদী হওয়ার কারণে নদী পথে যেতে হয় সে কারণে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার নারীরা। আমাদের ভবনের অবস্থায় জরাজির্ণ। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই এলাকার চাহিদার তুলনায় খুবই কম ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, এই এলাকার বেশিরভাগ নারী চুলকানি, প্রসাবে জ্বালাপোড়া, গায়ে ব্যথা, বিভিন্ন মেয়েলি সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। লবণ পানির কারণেই যে নারীদের গর্ভপাত হচ্ছে-এটি গবেষণা ছাড়া বলা সম্ভব না। তবে সম্প্রতি এই এলাকার নারীদের গর্ভপাত বেশি হচ্ছে। লবণ পানিতে কাজ করার কারণে নারীদের গর্ভপাত হচ্ছে, এমন কোনও বিষয় তার জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আমাদের চারিদিকে লবণ এবং লবাণক্ত পানিতে কাজ করার ফলে নারীদের বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা হচ্ছে। জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনা অনেক শোনা যাচ্ছে। এসব কারণে স্বামীর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ শারিরীকভাবে খুবই দুর্বল। এছাড়া এই এলাকার দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে তালাকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুন। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এলাকায় কাজ নেই। ফলে কাজের সন্ধানে পুরুষরা এলাকা ছাড়ছেন। ফলে অভাবের কারণে লবণ পানিতে কাজ করায় অনেক নারীর অকালে গর্ভপাত হচ্ছে। ভুগছে নানা রকম শারীরিক সমস্যায়।
পরিবেশ গবেষক পাভেল পার্থ বলেন বলেন, আমরা গবেষণা চালিয়ে দেখেছি দীর্ঘ সময় লবণ পানিতে কাজ করার ফলে নারীদের বিভিন্ন শারিরীক সমস্যার পাশাপাশি তাদের শাড়ি বা কাপড় বেশি নষ্ট হয়। এ বাবাদ তাদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়।
স্বেচ্ছাসেবী নারী উন্নয়ন সংগঠন পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, এই অঞ্চলে প্রতিদিনের ব্যাবহারের ৮০ ভাগ পানিই লবণাক্ত। এর কারণে এই এলাকার নারীদের নানা রকম সংক্রামণ তৈরি হয়। দুষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে জরায়ু রোগসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে অনেক নারী। আগের তুলনায় অধিকাংশ নারী এখন বন্ধা হয়ে যাচ্ছে। অনেক চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জেনেছি, বাচ্ছা হচ্ছে না, এই রকম সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় নদীতে লবাণক্তার পরিমান অনেক বেড়ে গেছে। আগে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মাছ ধরার কাছে নিয়েজিত থাকতো। এলাকায় কর্মস্থানে অভাবে সেটি বেড়ে দাড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। এই এলাকার ৪০ শতাংশ নারী পরিবারের প্রধান। কারণ তাদের স্বামী চলে গেছে না হয় মারা গেছে। সে কারণে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে হয়। অনেক সময় সুন্দরবরন সংলগ্ন নদীর পানিতে রেণু পোনা ধরার ফলে নারীদের নানারকম শারিরীক সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধান করতে হলে টেকশই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন। পানির সময় পানি ধরে সেগুলো দিয়ে তালা বাসন মাজাসহ নানাবিধ ব্যবহারে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। এছাড়া যে সকল নারী জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরেন। তাদের মাসিক চলকালীন সময়ে আটকানো গেলে অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব। এছাড়া সেফটি কোন পোশাকের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য ভালো রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, নদীর লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় কাজ এবং ব্যবহারের ফলে নারীদের গর্ভপাতের মতো ঘটনা ঘটছে। এই অঞ্চলে অনেক বিধবা, বাঘ বিধবা এবং তালাক প্রাপ্ত নারীরা বাধ্য হয়ে রেণু পোনা আহরণ করেন। ২০০৯ সালের পর এই এলাকায় জনসংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। কাজের সন্ধানে পুরুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে বেড়েছে নারীর সংখ্যা।
তিনি আরও বলেন, জরায়ুুমুখে ক্যান্সার হচ্ছে কি না, এর পরীক্ষার ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালে আছে। কিন্তু বায়োপসি পরীক্ষার ব্যবস্থা আমাদের সব জায়গায় নেই। লবণাক্ততার কারণেই জরায়ু ক্যান্সার বাড়ছে কি না, এ বিষয়ে আমাদের আরও বেশি গবেষণা দরকার।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক আনিসুর রহিম বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলো লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এই অঞ্চলে নারীরা জরায়ুসহ নানা শারিরীক সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবি করলেও। দুঃখের বিষয় সরকারিভাবে কোন জরিপ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তেনের প্রভাবে উপকূলের নারীদের শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে তা নয় তারা আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যেটা হয়তো চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হওয়া সম্ভব ছিলো। কিন্তু কিছু ক্লিনিকের দালাল টাকার লোভে উপকূলীয় এলাকার নারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য করছে। এই কাজের সাথে জড়িতের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালকে বিশেষ গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে। উপকূলীয় এলাকার পর্যাপ্ত পরিমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোরী ও নারীরা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা যাতে তাদের পরিবারও চিকিৎসকদের কাছে নিরাপদে তুলে ধরতে পারে এরকম সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সাতক্ষীরা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ বাবুল আক্তার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে। তার মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বিস্তৃণ অঞ্চল, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। মার্চ-এপিলের পর থেকে ২০-২৫ ডিএস মিটার লবণাক্ত দেখা গেছে। এপ্রিলের এর আগে ১০-১২ ডিএস মিটার পাওয়া যায়। উপকূলীয় এলাকায় ৮ ডিএস মিটারের নিচে কখন নামে না। নিয়মিত এই মাত্রার লবণাক্ততার মধ্যে মানুষ বসবাস করলে শারিরীকভাবে বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম ‌বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ জেলার উপকূলের মানুষ। সুপেয় পানির অভাব ও লবণাক্ত পানিতে কাজ করার ফলে উপকূলের নারীরা বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা ভুগছে। অনেক নারীর জরায়ু সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গেলে তারা সেগুলো অপারেশন করে দিচ্ছে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। শ্যামনগর উপকূলে লবণাক্ততা ও নারীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের চিকিৎসকদেরকেরও গবেষণা কাজে আরও বেশি যুক্ত হওয়ার দরকার। আমাদের পক্ষ থেকে জরিপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। জরায়ু কাটার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই বিষয়ে নজর রাখবো।জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান পৃথিবীর একটি অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন উপকূল অঞ্চলের অন্যতম একটি প্রান্তিক এলাকা। এই ইউনিয়নের চারপাশে নদী প্রবাহিত হওয়ায় এটি একটি দ্বীপের মতোই।
প্রায় ৪০ হাজার জনসংখ্যার ইউনিয়নে রাস্তাঘাটের চরম বেহাল দশা এবং ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার অপ্রাপ্তিতে নারীরা সবসময় ভালনারেবল অবস্থানে থাকছেন। চারপাশে নদী এবং ইউনিয়নের অভ্যন্তরে মাছের ঘেরের কারণে এখানে লবণাক্ততার প্রভাব অতিমাত্রায়। টিউবয়েলের পানি এখানে খাবার অযোগ্য। লবণাক্ততার কারণে নারীদের জীবন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
এখানে অধিকাংশ পরিবার সুন্দরবনের এবং নদীতে জাল ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের স্বামীরা সুন্দরবনে যাবার আগে ইউনিয়নের একমাত্র বাজার থেকে কয়েকদিনের বাজার করে দিয়ে যায়। বাজারটি অনেক দূরে অবস্থিত ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র শেষ হয়ে গেলেও নারীরা সেটির ব্যবস্থা করতে পারেন না। গৃহবধূ রিমা আক্তার (২৪) জানান লোনা পানি দীর্ঘদিন ব্যবহার করার কারণে তারা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা এবং রোগে আক্রা
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। জার্মান ওয়াচ গ্লোবাল-এর জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (সিআরআই-২০২১) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ শীর্ষ দশ দেশের একটি। ঝুঁকি ও ক্ষতিগ্রস্তের বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে  দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং  প্রাকৃতিক পরিবেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সাধারণ নিয়মেই উপকূলীয় এলাকায় প্রতি বছর ঘূর্ণঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের আঘাত নিয়মিত ঘটনা।
তার উপর গত কয়েক দশক ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল নিমজ্জ্বিত ও লবণাক্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিনিয়তই উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যগতসহ জীবন-জীবিকাজনিত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে নারীরা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বেশি । সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারীরা।
বাধ্য হয়ে এ জনপদের মানুষ তার জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে পেশার পরিবর্তন করছে, কর্মসংস্থানের খোঁজে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবন-জীবিকায় জলবায়ুর প্রভাব মারাত্মক। এর ফলে নারীদের কর্মসংস্থানহীনতা বেড়েছে, পরিবর্তন করতে হচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা ও পেশার ধরণ।
সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণা প্রতিবেদন দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পুরুষদের চেয়ে নারীর ওপর বেশি পড়েছে। এমনিতেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নারীরা পুরুষের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা পায়। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট যে কোনো দুর্যোগ নারীকে আরো বেশি বিপদে ফেলে দেয়।
দুর্যোগ পরবর্তীতে পুরুষেরা জীবিকার কারণে বড় বড় শহরসহ অন্য এলাকায়  চলে গেলেও নারীরা বসতবাড়ি পাহারা দেয়। পরিবারের সদস্যদের দেখাশুনা করার জন্য থেকে যেতে হয়। এসবের পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক কাজেও অংশগ্রহণ করতে হয়। দেখা গেছে নারীরা আয়বর্ধক এবং কৃষি কাজ- ঘরগৃস্থলীর কাজও করতে হয়। হাঁস-মুরগি, গবাদি পুশুর লালন পালন আর খাবার পানি সংগ্রহের কাজে দিনের বড় একটি অংশ পার করতে হয়।
জরিপে দেখো গেছে, গত কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে দেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা। ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে উপকূলীয় মানুষের জীবিকায়। এ এলাকার নারী-পুরুষ বাধ্য হচ্ছে যুগ যুগ ধরে করে আসা কৃষি কাজ, বনায়ন, মাছ চাষ ও মাছ ধরার মতো দক্ষ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে। পুরুষেরা পেশা পরিবর্তনের কারণে বাধ্য হচ্ছে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে।
পুরুষেরা বড় বড় শহরে গিয়ে তারা অনানুষ্ঠানিক বা সেবাখাত (হোটেলে কাজ, নির্মান শ্রমিক, যানবাহন-পরিবহনের হেলপার, দৈনিক মুজর, ফেরিওয়ালার কাজের মতো বিভিন্ন কাজ করছে। আর নারীর শহরে গিয়ে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করছে, রাস্তার ধারের ফেরিওয়ালা, হোটেল-রেস্তোরাঁর শ্রমিক, নয়তো শিল্পকারখানায় (বিশেষ করে গামেন্টসে কাজ করছে) শ্রমিকের কাজ করছে।
নারীদের একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে তাদের বসতবাড়ি রক্ষাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্য করতে বাধ্য হয়ে থেকে যাচ্ছে বিছিন্ন হয়ে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব, জোয়ারের তীব্রতা, নদী-ভাঙনের ফলে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী কৃষি, বনায়ন ও মৎস্যখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছে। বহু মানুষ কাজের সন্ধানে শহরের দিকে ছুটেছে।
কৃষি ও মাছ ধরার মতো দক্ষতা বদলে তারা শহরে শ্রমিকের কাজ বেছে নিয়েছে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে নারী-পুরুষ তাদের কৃষি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাচ্ছে। আমাদের দেশের নারীরা কৃষিতে দক্ষ।
অথচ তাদের সেই কৃষির দক্ষতাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কৃষি, বনায়ন ও মাছ ধরা ছিলই এই মানুষদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। নারীদের বিকল্প জীবিকা বা আয়ের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ কোনো সুব্যবস্থা এ অঞ্চলে নেই। ফলে নারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীরা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কৃষিখাত এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে নেই।
উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও জীবন-জীবিকায় এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে নাই মোটেও। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে পুরুষের চেয়ে এ অঞ্চলের নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানেও পিছিয়ে পড়ছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণকারী মোট জনসংখ্যা ৫৮.২ শতাংশ।
এর মধ্যে নারীদের কর্মসংস্থানের হার ৩৬.৩ শতাংশ এবং পুরুষের হার ৮০.৫ শতাংশ। অর্থনৈতিকখাতে নারীদের শতকরা ৬০ শতাংশ কৃষিতে, ১৭ শতাংশ শিল্পে এবং ২৩ শতাংশ সেবা খাতে জড়িত।
অপরদিকে, পুরুষদের শতকরা ৩২ শতাংশ কৃষিতে, ২২ শতাংশ শিল্প এবং ৪৬ শতাংশ সেবা খাতে জড়িত। পেশাভিত্তিক হিসেবে দক্ষ কৃষি, বনজ ও মৎস্যখাতে নারী পুরুষের অংশগ্রহণ প্রায় সমান সমান। (নারী-৪৯, পুরুষ -৫১)। (সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭)। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ও বনজ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে একদিকে কৃষি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন দিনে দিনে কমছে অন্যদিকে নারীদের কর্মসংস্থানহীনতাও বেড়েছে। ফলে পরিবর্তন করতে হচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা ও পেশার ধরণ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নারীর পরিবার এবং নারী নিজে।
বাংলাদেশের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রায় ৮৮ শতাংশ কৃষিখাতের ওপর নির্ভরশীল। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপরই।  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদী, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।  কৃষির দিক থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অত্যন্ত উৎপাদনশীল।
অথচ অন্যান্য এলাকার তুলনায় উপকূলীয় এলাকার অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকির উচ্চমাত্রা এবং স্থানীয় দরিদ্র সম্প্রদায়ের ওপর এ ঝুঁকির আশঙ্কাজনক প্রভাবের কারণে অঞ্চলটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ঝুঁকির মুখে। কৃষি মৌসুমি অবস্থার যেকোনো পরিবর্তনের সাথে সংবেদনশীল, এমনকি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মৌসুমের সময় ও সময়কাল, বরাবর বন্যাসহ মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির সাথে কৃষি উৎপাদন সরাসরি জড়িত।
উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের গৃহস্থলি কাজের পাশাপাশি তাদের প্রধান পেশা কৃষি এবং কৃষিকাজের ওপরই  নির্ভরশীল। গৃহকর্মের পাশাপাশি কৃষি কাজের সাথেও জড়িত। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
যেহেতু উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গ্রীম্মমন্ডলীয় ঘূর্ণীঝড়, জলোচ্ছ্বাস, উপকূলীয় বন্যা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হচ্ছে, সেহেতু কৃষির ওপর সরাসরি এর প্রভাব থাকায় কৃষি উৎপাদন বাধাঁপ্রাপ্ত হচ্ছে ভীষণভাবে এবং নারীরাও তাই সরাসরি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষি থেকে অন্যান্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবর্তনের কারণে অদক্ষ নারী শ্রমিকের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনে দিনে।  ফলে নারীদের কাজের দক্ষতাগুলোও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কৃষি খাতের দক্ষ নারীরা অন্য কোনো অদক্ষ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অপরদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে সুপেয় পানির পরিমাণও দিনে দিনে কমছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় প্রায় ৭০ লাখের বেশি মানুষ এখন খাওয়ার উপযোগী পানির তীব্র সংকটে ভূগছেন। ধীরে ধীরে এ সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাবার পানির চরম সংকট দেখা দেওয়ায় এখানকার নারীদের প্রতিদিন প্রায় ৩-৬ ঘন্টা ব্যয় করে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কৃষিতে দক্ষ এ সকল নারীরা দিনের একটি বড় অংশ খাবার পানি সংগ্রহে ব্যয় করার ফলে তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক কাজে সময় দিতে না পারায় সার্বিক অর্থে দেশে অর্থনৈতিক খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অনেক সময় পারিবারকে বেশি সময় দেওয়াতে নারীরা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে নারীরা কৃষি কাজ, চিংড়ি মাছের পোনা ধরা ও মাছের ঘেরে কাজ, বনায়নের মতো অর্থনৈতিক কাজের সাথে সরাসরি জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে তাতে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। বিশেষ করে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় লবণাক্ত পানি প্রবেশে ফলে কৃষিসহ জীবন-জীবিকা ও স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, লবণাক্ত  জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ উন্নয়ন, প্রতিকূলতা সহিষ্ণু দানাশস্য, বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত কার্যক্রম, ঘূর্ণঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো নির্মাণের মতো কয়েক শত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগোষ্ঠীর খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণসহ মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন, প্রশমন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃুদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করাই বিসিসিটি’র মূল লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসংস্থাসমূহ কাজ করছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং পানীয় জলের সমাধানের জন্য সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড এবং ইউএনডিপি এর সহায়তায় “উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত লবনাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ”প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রভাব থেকে নারীদের জীবন-জীবিকা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে সুব্যবস্থা গ্রহণের সঠিক সময় এখনই।
এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সচেতনতা ও অভিযোজন বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সরকার সরাসরি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের এ কার্যক্রমের কার্যকরী বাস্তবায়নে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
যে কোনো কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বতর্ঃস্ফূত অংশগ্রহণ এবং সচেতনতার ওপর। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের নতুন গণমাধ্যম বা নিউ মিডিয়ার অংশগ্রহণ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ।
সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনমত গঠনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কমিউনিটি মিডিয়া গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা এবং নারীদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে, তাই গণমাধ্যমের পাশাপাশি কমিউনিটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা উদ্যোগ এবং সচেতনতা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় নারীদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

জন্মভূমি ডেস্ক April 1, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর
Next Article শ্যামনগর হাটে-বাজারে ভেজাল , বিপাকে কৃষকরা
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

শ্যামনগর হাটে-বাজারে ভেজাল , বিপাকে কৃষকরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 minutes ago
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 57 minutes ago
সাতক্ষীরা

প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর

By Correspondent 4 hours ago

দিনপঞ্জি

April 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
« Mar    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

শ্যামনগর হাটে-বাজারে ভেজাল , বিপাকে কৃষকরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 minutes ago
সাতক্ষীরা

প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর

By Correspondent 4 hours ago
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা ‌বহু বঞ্চনা ও অবিচারে হেরে যাওয়া মুন্ডাদের জীবন

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?