
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৫ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৯০০হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এসব এলাকায় চাষের জমিতে ধান চাষের পর তরমুজ চাষ করা হয়েছে। বাজারে দেশের অন্য অঞ্চলের তরমুজের সরবরাহ কমায় এসব তরমুজের ব্যাপক চাহিদা আছে। ফলে কৃষকেরা তরমুজ ভালো দামে বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৬০-৮০ মণ তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। আগামীতে এ উপজেলায় তরমুজ চাষ আরও বাড়বে।
আটুলিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি কেনারাম মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর এলাকায় ড্রাগন ও জাম্বু গোয়ালিয়া জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এতে আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। বিঘাপ্রতি ৬০-৭০ মণ তরমুজ হয়েছে। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।’
একই এলাকার চাষি সুরজ মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানির অভাবে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারিনি। সময়মতো সেচ দিতে পারলে ফলন আরও ভালো হতো। কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে খাল খনন অথবা ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হলে পানির সমস্যা থাকবে না।’
আটুলিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সহযোগিতার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তরমুজ চাষিদের জন্য বরাদ্দ পেলে আগামীতে সেচ, বীজ, সার ও কীটনাশকের ব্যবস্থা করা হবে।’
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ‘আকারে কিছুটা ছোট হলেও এখানকার তরমুজ অত্যন্ত সুস্বাদু। এটি বরিশালের তরমুজ শেষ হওয়ার পর বাজারে আসে। এজন্য কৃষকেরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষকেরা দিন দিন এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’ প্রস্তুতি বিশেষ করে শ্যামনগরে কৈখালি, ইশ্বরীপুর, মুন্সীগঞ্জ,ভুরুলিয়া, কাশিমাড়ি, শ্যামনগর সদর সহ অনেক এলাকায় গ্রামে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে শ্যামনগরে চিংড়ি চাষে বিখ্যাত হলেও এখন তরমুজ চাষে বিখ্যাত। শ্যামনগরে তরমুজ এতো মিষ্টি সাদে ও মানে ভালো তাই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শ্যামনগরে তরমুজের সুনাম ও চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখনও চাষের সময় না হলেও তরমুজ চাষিরা বেশি দামের আশায় ঢাকা সহ বাইরে জেলার বাজার ধরার জন্য আগে ভাগে আগেভাগে তরমুজ পাঠাচ্ছে ।মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হারান মন্ডল জানান তিনি প্রতি বছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন গতো মৌসুমে তাকে খরজ বাদ দিয়ে ৬২ হাজার টাকা লাভ হয়েছে তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরো জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার একটা বড়ো ধরনের লাভ করবে। তিনি বলেন তরমুজের দানা মাটিতে পুঁতে ৭৫/৮০ দিনের মধ্যে মিষ্টি তরমুজ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে।
“ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড শোকর আলি এই প্রতিবেদককে বলেন তরমুজ চাষিদের সবধরনের কৃষি সহযোগীতা করার জন্য আমরা শ্যামনগর কৃষি অফিসে আগাম চাহিদা দিয়েছে। তিনি নিজেও কিছু জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের আনছার মাঝি এই প্রতিবেদককে জানান গত মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করেছিল প্রথম বছর বুঝে উঠতে না পারায় একটু নাবিতে চাষ পড়ে যায়। তবুও খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার তিনি ৪ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করবেন বলে আগে ভাগে প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। আনছার মাঝি আরও জানান তার এলাকায় এবার নতুন করে অনেক চাষি প্রস্তুতি নিচ্ছে তরমুজ চাষের জন্য।
উপজেলা কৈখালি ইউনিয়নের আনিছুর গাজী জানান গতো বছর সে এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে সব তরমুজ পাইকারি পাটিরা কিনে ঢাকার বাজারে নিয়ে গেছে।এবার তিনি সবে মাত্র আমন ধান কেটে বাড়ি তুলে তরমুজ চাষের জন্য খেত একটু সুখিয়ে নিচ্ছে তাড়াতাড়ি আবার নতুন করে ২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করবেন। তিনি আরও বলেন ইতোমধ্যে উন্নত মানের তরমুজের বিচ সংগ্রহ করেছেন। গত বছর তিনি খরচ বাদে ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন।
ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুম ঘাট গ্রামের মাজেদ আলি জানান তিনি গতবছর ১ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ছিল। তার তরমুজের মান এতো ভালো হয়েছিল যে ঢাকার পাইকারি পাটিরা খেত থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে সব মাল কিনে নিয়ে যায়। অল্প কিছু ছোট খাটো মাল ছিল সেগুলো তিনি নিজেও স্থানীয় বংশিপুর বাজারে ৩০/৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রিয় করেন। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।যাতে আগামী মাহে রমজান মাসে এই তরমুজ খেত থেকে বাজারে তুলতে পারে সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খুঁটি কাঁটা গ্রামের শওকাত সানা জানান তিনি গতবছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করে খরজ বাদে ২৫ হাজার টাকা লাভ করেন। তিনি প্রথম বার ভালো বুঝে উঠতে পারেনি। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবেন এবং রমজান মাসে যাতে মাঠ থেকে তরমুজ বাজার জাত করতে পারে সেই লক্ষ্যে নিয়ে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম,জানান গত মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলায় মোট ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর কৈ খালি ইউনিয়নে ২৫০ হেক্টর শ্যামনগর সদরে ১০০ হেক্টর ভুরুলিয়া ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর আটুলিয়া ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর ও ইশ্বরীপুর ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল ২০২৫ সালে সব রেকর্ড ভেঙে শ্যামনগর উপজেলায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হবে এবং সব চাষিরা পাল্লা দিয়ে আগামী রমজান মাসে মানুষের মুখে তরমুজ তুলে দেবে বলে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তার কাছে খবর রয়েছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত