তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলাসহ সাতক্ষীরা জেলার ৬টি উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের নামে চলা হরিলুট এখনও বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় হরিলুটের সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৬টি উপজেলায় তদন্ত করা হয়। কিন্তু প্রকল্প দুর্নীতির খাতগুলো পাশ কাটিয়ে দুর্নীতিকে বৈধতা দিতে তদন্তকারীরা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের এডিপি’র অর্থায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ১১ থেকে ৪৫ বছরের মহিলা ও পুরুষের জন্য ‘মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-৪ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) অনুমতি পায়। ৪ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সাতক্ষীরার ৬টি উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে আসলেও ফলাফল শুন্যের কোটায়। তবে, বাস্তবায়নকারী এনজিও সাস’র পক্ষ থেকে কাগজে-কলমে ২২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন শতভাগ সফলতার দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মাত্র ১৩শ’ থাকলেও ওই প্রকল্পের অধিন কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে প্রায় ১২ হাজার। এছাড়া, কেন্দ্রের শিক্ষকদের বেতন কম দেয়া, শিক্ষা উপকরণ বিতরন না করা, কেন্দ্র ভাড়া কম দেয়া, ভূয়া শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরিসহ একাধিক খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি চিহ্নিত করে গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি, একাধিক সচেতন ব্যক্তি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, সাতক্ষীরা জেলা উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে কর্মরত এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সাতক্ষীরা জেলার ৬টি উপজেলায় চলমান আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্পের দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে অধিদপ্তর থেকে ঘটনার তদন্তে ৬জন কর্মকর্তা প্রেরণ করেন। কর্মকর্তারা তদন্তকালে সাসের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। পরে তদন্ত রিপোর্টে কেন্দ্রগুলো সঠিক আছে উল্লেখ করলেও প্রকল্পের যেসকল খাতে অনিয়ম বা দুর্নীতি রয়েছে তা এড়িয়ে যান। সরকারের আউট অব স্কুল চিলড্রেন প্রকল্প সম্পূর্ন লুটপাটের প্রকল্প আখ্যায়িত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই ধরনের প্রকল্প বাতিল করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান।
এদিকে, গণমাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার অনুপযোগী কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও সহ ৪/৫ বছরের শিশুদের চিত্র প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে সাস। এনজিও সাস’র পক্ষ থেকে প্রকল্পভূক্ত সকল শিক্ষকদের ডেকে এনে প্রকল্প মেয়াদ শেষ করতে নানান নির্দেশনা প্রদানসহ সাংবাদিকদের কাছ থেকে সকল তথ্য গোপন রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে সাসের সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় আমাদের স্কুলের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে সাস অফিস থেকে আমাদের সাবধান করে দিয়ে বলেছে- যদি কোন শিক্ষক সাংবাদিকদের কাছে স্কুল সংক্রান্ত কোনও তথ্য ফাঁস করে তাহলে তার চাকরি থাকবে না। আর সাংবাদিকদের কাছ থেকে স্কুল সংক্রান্ত সকল তথ্য গোপন রাখার কথা বলার পর থেকে সকল কেন্দ্রের সাইনবোর্ড নামিয়ে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এধরনের প্রকল্পের কোন প্রয়োজন নেই। সরকারের টাকার সবটুকুই লোকসান হচ্ছে। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বলেছি। এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, প্রকল্পের তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত