
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : নির্বাচনের দিন যতই ঘুড়িয়ে আসছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চলছে জামায়াত-বিএনপি পাল্টাপাল্টি ভোটযুদ্ধ। সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা তিনটি আসনে এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও প্রচার প্রচারণায় উভয় দলের চলছে স ,ডাউন একপ্রকার রীতিমতো ভোট যুদ্ধ বললে চলে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এবং বেসরকারি এনজিওগুলো র জরিপ অনুযায়ী সাতক্ষীরা চারটি আসরের মধ্য তিনটিতে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ও একটিতে বিএনপি'র বিদ্রোহীস্বতন্ত্র প্রার্থী এগিয়ে থাকার কথা শোনা গেলেও বর্তমান দিন যত ঘনিয়া আসছে উভয় দলের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় কারো কমতি নেই। ঘটনাস্থলে গেলে যে পার্টির প্রার্থীর পথসভা হচ্ছে সেটাই সাধারণ দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সেই ক্ষেত্রে কোন দলের প্রার্থী কোন আসনে জয়লাভ করবে বলা বড় কঠিন হয়ে পড়েছে। সকল দলের প্রার্থিও তাদের সমর্থকদের মতে তারাই জিতবেন বলে জোরেসোরে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে। সে কারণে শেষ মুহূর্তে জমে উঠছে সাতক্ষীরার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। একটি পর্বত আছে আবাহনী মোহামেডান কেউ কারো নয় সমান সমান তাই হয়েছে সাতক্ষীরার প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্য। প্রতিটা প্রার্থী পথসভা হাট-বাজার গ্রামগঞ্জে এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিস্থিতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করছেন ভোটারদের বাগিয়ে প্রার্থীদের অনুকূলে নেওয়ার জন্য। তবে ভোটাররাও খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছে যে প্রার্থী ভোট চাইতে যাচ্ছে ভোটাররা বাড়ি ঢোকার আগেই সেই প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। দই বড় দলের ভোট যুদ্ধ এখন চরমে রাজ টিকিট কাদের কপালে তা এখন নির্ভর করছে সাতক্ষীরার নারী ভোটারদের কাছে। নারী ভোটার রা যেদিকে গড়াবেরাত থেকে তাদের কপালে উঠবে এটাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরার নির্বাচনের জন্য নয় সারা দেশেই।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি মাঠে অনুপস্থিতির ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। এদিকে ২ জানুয়ারি সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নির্বাচন-বিশ্লেষক এবং কয়েকটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার জরিপে বলা হচ্ছে সাতক্ষীরা চারটি আসনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিক প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে।ওই সমস্ত প্রতিবেদনে তথ্যমতে জানানো হয়েছে বিএনপি প্রার্থীরা ৪৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ জামাত ইসলামের প্রার্থীরা ৫৫ শতাংশ ভোটে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে। তবে এই ব্যবধান কাটিয়ে উঠার জন্য বিএনপি'র প্রার্থী কর্মী সমর্থকরা রাত-দিন নিরলসভাবে প্রচার-প্রচারণা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাত আছে কতটা পরিমাণ সুবিধা জনক করতে পারবে বিএনপি তার সঠিক তথ্য পেতে এখনো অপেক্ষা করতে হবে বেশ কয়েকদিন বলে ওই সমস্ত প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে এমন মন্তব্য। তবে এই সমস্ত জরি ও প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন সাতক্ষীরার বিএনপি'র প্রার্থী নেতা কর্মী ও সমার্থকরা তাদের দাবি চারটি আসনি তাদের অনুকূলে থাকবে এবার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং জামায়াতের সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি—এ দুই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার চারটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে ততই জামায়াত-বিএনপি দুই দলের প্রচার প্রচারণা ভোট যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরার সবকটি আসন বিএনপি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা তাদের দাবি সাতক্ষীরা সব কয়টি আসন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের অনুকূলে থাকবে।
সাতটি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট।
জেলার চারটি আসনে প্রার্থী হতে মোট ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী ২০ জন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে পাঁচজন, সাতক্ষীরা-২ আসনে সাতজন, সাতক্ষীরা-৩ আসনে পাঁচজন ও সাতক্ষীরা-৩ আসনে তিনজন। সব আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামী অভ্যন্তরীণ বিরোধ না থাকায় দলটি অনেক আগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামে।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর একাধিক আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি হয়। পরে হাইকমান্ডের নির্দেশে সেই বিভেদ মিটলেও একটি আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এক নেতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াত ও একটিতে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত সদর আসনে জয় পায়। বাকি চারটি যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে।
২০০১ সালে জামায়াত তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনেই প্রথম সাতক্ষীরা-১ আসনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন সংখ্যা কমে চারটি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একটি আসনও পায়নি।
জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লা পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘ নির্যাতনের পরও আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সবাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপিকে জয়ী করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
অপরদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ বলেন, ‘কঠিন দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। এবারও চারটি আসনেই বিজয়ী হব।’
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, গত ১৬ বছরে তালা কলরোয়াই রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামগত কোনো উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পাটকেলঘাটা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর ও তালাকে পৌরসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবং তালা ও কলারোয়াতে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের পরিকল্পনা করবেন।
জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তার দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন।
বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বাকি তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মো. ইয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিওবিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাটকেলঘাটা থানা শাখার সভাপতি শেখ মো. রেজাউল করিম। কিন্তু এলাকায় তাদের প্রচার প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আবদুর রউফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আসনটিতে বিরোধ দেখা দেয়। মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও জেলা কমিটির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদের সমর্থকরা আন্দোলনে নামেন। পরে আব্দুর রউফ সবার মান ভাঙিয়ে নির্বাচনের এক টেবিলে বসিয়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য একত্র হয়ে মাঠে নামান।
আবদুর রউফ বলেন, সাধারণ ভোটাররা তাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাস করলে জনগণের পাশে থাকব সব সময়। জনগণের সব চাওয়াকে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তার ও তার দলের ওপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচনগুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকার।
এ আসনে আরও প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক জি এম সালাউদ্দীন, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জেলা শাখার সদস্য শফিকুল ইসলাম (সাহেদ)।
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে জেলার এই একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দলের এক নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শহিদুল আলম।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম বলেন, তার দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃসময়ে তিনি ও দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিল। তারা তাকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্বকে সবসময় প্রাধান্য দেবেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শহিদুল আলম ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা জামায়াতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সব সময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. আলিফ হোসেন ও বাংলাদেশ মাইনরটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সদস্য রুবেল হোসেন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান মনির এবং জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। তবে এই আসনে বেশ কিছু গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ হয়েছে ৬০ শতাংশ ভোট জামাতে ইসলামের প্রার্থী গাজী নজরুলের দিকে আর ,৪০শতাংশ ভোট বিএনপির প্রার্থী ডক্টর মনিরুজ্জামান এর দিকে ঝুকছে,।
সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে শ্যামনগর অংশের প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আসনটিতে তিনজন বৈধ প্রার্থী আছেন।
তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল মামুন।
ভোটাররা বলছেন, নতুন মুখ হলেও প্রবাসী মনিরুজ্জামান প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অপর দিকে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালোমন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করে তরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে তারা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতে ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। ভোটারদের তার প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা শত ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে। কাজী নজরুল আরো বলেন তিনি গত দুইবারে এই আসনে নির্বাচিত এমপি ছিলেন সে কারণে এই আসনে মানুষের দাবী ও চাহিদাগুলো তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারণ করেছেন তার মধ্য সুন্দরবনে বনজীবীদের নিরাপত্তায় জলদস্যু নির্মল এবং সুন্দরবনে পাঁচ মাস বছরে প্রবেশ অধিকার বন্ধ থাকে সেজন্য বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার জন্য শিল্প কলকারখানা গার্মেন্টস তৈরি সহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন এই আসনটি উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় লবণাক্ততার কারণে খাবার পানির মারাত্মক সংকট এখন খুব বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটি নিদর্শন এর জন্য,যুগ উপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাধার রয়েছে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তত জনিত কারণে এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে সাথে সাথে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে উপকূলের নারীরা বেশি নারী ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সেজন্য জরুরি পদক্ষেপ সময়ের দাবী হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন এছাড়া প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও জলোচ্ছ্বাসে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ইতিমধ্য এক দশকে এই এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ অন্যত্র চলে গেছে।সেজন্য এখন অতি জরুরী হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকায় টেকসই মজবুত ভেড়িবাঁধ আমরা নির্বাচিত হলে এই সমস্ত কাজগুলো আগে অগ্রধিকার দিব। ডক্টর মনিরুজ্জামান এর প্রতিশ্রুতি ধরন ও একই, কিন্তু এই দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ভর করছে নারী ভোটারদের কাছে নারী ভোটাররা যেদিকে গড়াবে তার কপালেই সাতক্ষীরা ৪আসনের রাজ টিকিট।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত