
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারে নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনি মাঠে অনুপস্থিতির ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং জামায়াতের সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি- এই দুই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার চারটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরার সবকটি আসন বিএনপি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাতটি উপজেলা, আটটি থানা, তিনটি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট।
সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে প্রার্থী হতে মোট ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী ২০ জন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে পাঁচ জন, সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে সাত জন, সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে পাঁচ জন ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে তিন জন। সব আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।
সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ না থাকায় দলটি অনেক আগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামেন তারা।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর একাধিক আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি হয়। পরে হাইকমান্ডের নির্দেশে সেই বিভেদ মিটলেও একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এক নেতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের সাতক্ষীরার পাঁচটি আসনের মধ্যে চরেটিতে জামায়াত ও একটিতে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত সদর আসনে জয় পায়। বাকি চারটি যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে।
২০০১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনেই প্রথম সাতক্ষীরা-১ আসনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসন সংখ্যা কমে চারটি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একটি আসনও পায়নি।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “গত ১৬ বছরে তালা ও কলরোয়ায় ব্রিজ, রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামগত কোনো উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে।”দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী তালা ও কলারোয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-১ আসন। এখানে ভোটার সাড়ে চার লাখের বেশি।
এই আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেছে। এছাড়া অনেকেই নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। আলোচনা আছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দেখা যেতে পারে একাধিক ব্যক্তিকে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ‘সাজানো মামলায়’ ৭০ বছরের কারাদণ্ড হলে টানা ছয় বছর জেল খেটে জুলাই বিপ্লবের পর মুক্ত হন। এই হেভিওয়েট নেতার প্রতি কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
একই ভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। এই আসনে দলটির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তার পক্ষে দিনদিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ শুরু করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্তারুজ্জামান। একই ভাবে এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান।
জানতে চাইলে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘দল আমাকে আগেও জনগণকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, আমার পরীক্ষা নিয়েছে। আমি জনগণকে সেবা করে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আগামীতেও জনগণকে সেবা করার সুযোগ পাব বলে মনে করি। যদিও বিষয়টি দলের ওপরই নির্ভর করবে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহকে মাঠে কাজ করতে বলা হয়েছে। এখনো নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি। তবে আমরা বিগত সময়েও সাতক্ষীরার মানুষ ও মাটির সঙ্গে মিশে ছিলাম। সে অনুযায়ী আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি এবং ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। দল চাইলে বিএনপির মনোনয়ন নিয়েই আগামীতে প্রার্থী হব।’
সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাইদুর রহমান দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি বিগত পাঁচ-সাত বছর ধরে সাতক্ষীরায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। জেলার তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এখনো নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি। তারপরও দল যদি মনে করে তরুণ নেতৃত্ব এগিয়ে আসুক, তাহলেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।
তিনি আরো বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পাটকেলঘাটা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর ও তালাকে পৌরসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালা ও কলারোয়ায় সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের পরিকল্পনা করবেন তিনি।
একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তার দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন।”
বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বাকি তিনজন প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মো. ইয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাটকেলঘাটা থানা শাখার সভাপতি শেখ মো. রেজাউল করিম। তবে এলাকায় তাদের প্রচার প্রচার তেমন দেখা যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. আবদুর রউফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আসনটিতে বিরোধ দেখা দেয়। মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও জেলা কমিটির বর্তমান যুগ্ম-আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতি সমর্থকরা আন্দোলনে নামেন। পরে আব্দুর রউফ সবার মান ভাঙিয়ে নির্বাচনের এক টেবিলে বসিয়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য একত্র হয়ে মাঠে নামান।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর-দেবহাটা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন মো. আব্দুর রউফ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেন আলহাজ¦ মোঃ আব্দুর রউফ। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীক পাওয়ার পর মো. আব্দুর রউফ বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর তিনি একটি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আগামীকাল থেকে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভোটাররা ভোট দিতে আগ্রহী হয়ে আছেন। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা-২ আসনের বাসিন্দা হিসেবে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ধানের শীষ বিজয়ী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, “ইতিমধ্যে তারেক রহমান জনকল্যাণকেন্দ্রিক এই আট দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এতে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালুর মাধ্যমে স্বল্প ও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহায়তা সহজ করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ধানের শীষ বিজয়ী হবে-ইনশাআল্লাহ। এসময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সকল ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানান তিনি।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফ বলেন, “সাধারণ ভোটাররা আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাস করলে জনগণের পাশে থাকব সবসময়। জনগণের সব চাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের তার ও তার দলের ওপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচনগুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকার।”
এ আসনে জাতীয় পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি মো. আশরাফুজ্জামান আশু, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক জি এম সালাউদ্দীন, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জেলা শাখার সদস্য শফিকুল ইসলাম (সাহেদ)।
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে জেলার এই একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দলের এক নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শহিদুল আলম।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম বলেন, “আমার দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।”
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, “দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। আমি বিশ্বাস করি, দুঃসময়ে আমি এবং দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিলাম।”সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শহিদুল আলমের বাতিল হওয়া মনোনয়ন আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করায় বদলে গেছে ভোটের সমীকরণ। এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় ডা. শহিদুল আলমের দলীয় মনোনয়নের দাবিতে এর আগে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ওই আসনের নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপি হাইকমান্ড তৃণমূলের সেই দাবি গুরুত্ব না দেওয়ায় দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন।
যদিও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিন এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে শুরু থেকেই ভোটের মাঠে রয়েছেন। এদিকে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা রবিউল বাসার নির্বাচনী মাঠে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসন। এ আসনে কালিগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের ব্যবধান খুব একটা বেশি নয়। জামায়াত এ উপজেলায় তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। অন্যদিকে এই উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম; দুজনেরই বাড়ি।
বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি ও ডা. শহিদুল আলমের পক্ষে মনোনয়নের দাবিতে মাসব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে এই উপজেলায়। এসব কর্মসূচিতে পুরুষের পাশাপাশি হাজার হাজার নারী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। চিকিৎসক হিসেবে ডা. শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। দলের বাইরেও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের দাবি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। সে কারণে এবার সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদী।
তবে এলাকা ঘুরে বিএনপির তৃণমূলের বেশ কিছু নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি প্রকাশ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ২৪ জন, পুরুষ ১ লাখ ২৯ হাজার ৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
এদিকে অপর আশাশুনি উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটার-সমর্থক তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক ভোটার রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আনুলিয়া, খাজরা, প্রতাপনগর, আশাশুনি সদরসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট, চিংড়িঘের দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এ উপজেলায় বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেকাংশে কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও বিএনপি প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ উপজেলায়ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের।
অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা রবিউল বাসারও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জামায়াত এ উপজেলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘের দখল, লুটপাট, হামলা ও সহিংসতার জন্য একটি মহলকে দায়ী করে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
আশাশুনি উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৯৯১ জন, পুরুষ ১ লাখ ২৪ হাজার ৯২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ বলেন, দলের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বাইরে কেউ কাজ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দেশের ও দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে হবে।
রোববার বিকেলে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুও একই সুরে বলেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালিগঞ্জ)সহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, “তারা আমাকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন। পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্বকে সবসময় প্রাধান্য দেব।”
একই আসনে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শহিদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা জামায়াতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে বলেন, “ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সবসময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি।”
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো. আলিফ হোসেন ও বাংলাদেশ মাইনরটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সদস্য রুবেল হোসেন।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী জেলা সাতক্ষীরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন সাতক্ষীরা-৪। সুন্দরবনসংলগ্ন বৃহত্তম উপজেলা শ্যামনগর নিয়ে গঠিত এই আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই বরাবরই আলোচিত। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত সীমানা পুনর্নির্ধারণে পূর্বের রূপে ফিরে এসেছে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যা আগে সাতক্ষীরা-৫ নামে পরিচিত ছিল।
দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫৩৬ জন ভোটার নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, তেমনি রাজনৈতিক বাস্তবতায় কারও কারও মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সুর থাকলেও তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। জাতীয় পার্টির উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াত, যারা আসনটি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় সক্রিয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্য দিকে সাতক্ষীরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই আসনে একবারও বিজয়ের স্বাদ না পাওয়া বিএনপি এবার প্রথমবারের মতো জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া। দলটির নেতাদের ভাষায়, সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিজয় অর্জন করে তারা দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘উপহার’ দিতে চান। ফলে এবারের নির্বাচনে এখানে মূল লড়াই যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে- এমনটাই ধারণা স্থানীয় রাজনীতিসংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসন ছিল। সে সময় শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল সাতক্ষীরা-৫ আসন। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসে সাতক্ষীরায় সংসদীয় আসন কমিয়ে চারটি করা হয়। তখন শ্যামনগরের সাথে কালিগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন যুক্ত করে গঠন করা হয় সাতক্ষীরা-৪ আসন। সর্বশেষ সীমানা পুনর্নির্ধারণে আবারো পরিবর্তন এনে শুধুমাত্র শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন গঠন করা হয়েছে।
সূত্র মতে, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও পূর্বে কালিগঞ্জ আংশিক) এলাকায় স্বাধীনতা-পরবর্তী অনুষ্ঠিত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ডামি, নৈশ্য ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনসহ সাতটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় পার্টি একবার এবং মুসলিম লীগ একবার এই আসনে বিজয়ী হয়। আসনের সীমানা পরিবর্তনের কারণে কখনো শ্যামনগর, কখনো কালিগঞ্জ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ডামি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আতাউল হক দোলন এক লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৫ ভোটে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত নোঙর প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজা পান ৩৮ হাজার ৮৮ ভোট।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের নৈশ্য ভোটের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দার পান দুই লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম পান ৩০ হাজার ৪৮৬ ভোট। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনের ফলে আওয়ামী লীগের এস এম জগলুল হায়দার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজা এক লাখ ৫১ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সেই নির্বাচনে জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। এবারের নির্বাচনে তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকা জামায়াতের একক প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবার জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। আামিরে জামায়াতের দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাচ্ছি। আশা করছি, জনগণ দাঁড়িপাল্লাকে এবার বিজয়ী করা
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান মনির এবং জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে শ্যামনগর অংশের প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আসনটিতে তিনজন বৈধ প্রার্থী আছেন।
তারা হলেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল মামুন।
ভোটাররা বলছেন, নতুন মুখ হলেও প্রবাসী মনিরুজ্জামান প্রচারের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অপর দিকে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালোমন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করে তরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছি।”
জামায়াতের প্রার্থী জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করব। ভোটারদের আমার প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে।”ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও প্রতীক বরাদ্দ বা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু । নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী এখনো কোনো প্রকাশ্য জনসভা বা প্রচারণা করা সম্ভব নয়। তবে শ্যামনগর উপজেলায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী গণতান্ত্রিক দৃশ্য: উপকূলীয় জনপদের চ্যালেঞ্জ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থীরা সশরীরে জনতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কলবাড়ি এলাকায় জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত উন্মুক্ত নাগরিক সংলাপে প্রার্থীরা নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন। উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সোলায়মান কবির ও আশিক ইলাহি মুন্না, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল-মামুন (হাজী মনির)।
সংলাপে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল সুপেয় পানির সংকট। স্থানীয়রা জানান, লবণপানি উত্তোলনের কারণে মিষ্টি পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নারীরা প্রতিদিন বহু দূর হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, এবং লোনা পানি ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রার্থীরা বলেন, ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ও লবণমুক্তকরণ প্রকল্প স্থাপন ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। এছাড়া তারা অপরিকল্পিত লবণপানি উত্তোলন বন্ধ ও সরকারি উদ্যোগে পানি সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ নিয়েও স্থানীয়রা প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরা জানান, ।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, “দীর্ঘ নির্যাতনের পরও আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। সবাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপিকে জয়ী করবে বলে বিশ্বাস করি।”
অপরদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, “কঠিন দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। এবারও চারটি আসনেই বিজয়ী হব।”

