
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ২ কেজি ওজনের ফুলকপির পিস ৫ টাকা কৃষকের খরচ ওঠা দূরে যাক গরু-ছাগল দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে ফুলকপি সহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি।বুকভরা আশা আর চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে এবার ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষক শহর আলী। ক্ষেতের সবুজ গালিচা ভেদ করে তারার মতো ফুটেছিল ফুলকপি। সোনালী রঙের ফুলকপি দেখে স্বপ্ন রাঙিয়ে নিয়েছিলেন কৃষক শহর আলী। কিন্তু সেই স্বপ্ন মলিন হয়ে গেছে তার। বাজারে ফুলকপির দাম নিয়ে চলছে রীতিমতো তামাশা। কৃষক শহর আলীর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া এলাকায়।
কৃষক শহর আলী জানান, অনেক আশা নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফুলকপির দাম নেই বাজারে। ফুলকপি ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নেয়া পর্যন্ত যে খরচ তাও উঠছে না। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা। এক মণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারীরা ঠাট্টা করে।
একই কথা বলেন, একই এলাকার সোবহান গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজী। তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রতিবিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার টাকা। এতে তিন বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু সর্বসাকুল্যে তিনবিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ১৩ হাজার টাকায়।
এদিকে গ্রামের বাজারে দাম কম হলেও শহরের বাজারে দাম বেশি। গ্রামের বাজারে যে ফুলকপি আড়াই টাকা কেজি শহরের বাজারে তার দাম ৫-১০টাকা। লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বস্ত্বভোগীরা।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামের বেগুন চাষী আরিজুল ইসলাম ছালাম, সিরাজুল, আরশাদ আলী, মোশাররফ হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহিনুর রহমান, রুহুল কুদ্দুস জানান, খোরদোর হাটে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০ টাকা। সেই বেগুন সাতক্ষীরা শহরে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। কৃষকদের ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রেতারা কিনছেন ৬-৮ টাকা কেজি দরে। কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার রোপন করতে হয়েছে। সবজি চাষে ব্যাপক খরচ ও খাটাখাটুনি করতে হয়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন অর্থ পাওয়া যায় না। যারা অর্থ পাচ্ছে তারা তরকারীর চাষ করে না। সবজি বিক্রি করে লেবার খরচের টাকা উঠছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ ২০ টাকা, রসুন ৪৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫টাকা বাঁধাকপি ৫ টাকা ফুলকপি প্রতি পিস ৫টাকা, পেঁয়াজেরকালি ৫ টাকা, মূলা ২ টাকা, পালং ২ টাকা, শিম ১০ টাকা, ধনেপাতা ২ টাকা আঁটি, পটল ১৫টাকা, টমেটো ১৫টাকা, ওলকপি ৩ টাকা, বেগুন ১০ থেকে ১২টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, গাজর ১৫টাকা, উচ্ছে ৩০ টাকা, কলা ১০ টাকা, কাচাঝাল ৩০টাকা, কাগজি লেবু পিস ৩টাকা, খিরাই ১৫ টাকা, ডাটাশাক তাড়ি ২টাকা, কচু ২০ টাকা, পুঁইশাকের মটুরি ১০ টাকা, আলু ২০ টাকা ও ব্রুকলি ২০ টাকা দরে পাইকারী বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। অথচ এসব সবজির দাম শহরে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম বলেন, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরায় ৯১৪০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২২৫০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ১৬৯০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১৭১০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ৬১০ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হয়েছে। সবজির বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সবজি পাঠানো হচ্ছে।

