By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: সাতক্ষীরার মাটি ইউরোপ আমেরিকায় সোনা
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > সাতক্ষীরার মাটি ইউরোপ আমেরিকায় সোনা
তাজা খবরসাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার মাটি ইউরোপ আমেরিকায় সোনা

Last updated: 2025/11/28 at 5:39 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 1 month ago
Share
SHARE

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : “ও ভাই খাটি সোনার চেয়ে খাটি, আমার দেশের মাটি” বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানের এই কলিটি বাস্তবে রূপ নদিয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে।
এখানকার মাটি বিক্রি হচ্ছে সোনার দামে। কুমারসম্প্রদায় ১৮ প্রকারের মাটির তৈরী বিভিন্ন ডিজাইনের টালি ও লাইলস্ বিদেশে রপ্তানি করে প্রতিবছর ১৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এখানকার মৃৎশিল্পের সাথে জড়িতরা। এতে একদিকে যেমন সরকার লাভবান হচ্ছে অনদিকে স্বাবলম্বি হচ্ছে কারখানার মালিক, শ্রমিক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা। তবে নানা প্রতিকুলতা, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারনে সম্প্রসারিত হচ্ছে না এই মৃৎশিল্প। দেশের উজ্জল সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্টপোষকতার বিকল্প নেই বলে মনে করেন কারখানার মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং চেম্বার অব কর্মসংস্থান।
সরেজমিনেগিয়ে দেখাগেছে কংক্রিট এবং টাইলসকে পেছনে ফেলে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের মাটির তৈরী টালি এখন বিশ্ব বাজারে জাইগা করে নিয়েছে। কাদা মাটি দিয়ে নিপুন হাতের ছোঁয়ায় শৈল্পিকভাবে তৈরীকৃত আগুনে পোড়ানো মাটির বিভিন্ন তৈরী ডিজাইনের এখানকার টালি এখন জাহাজে করে সাত সুমুদ্র তের নদী পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে ইটালি, জার্মানি, জাপান, দুবাই, মালেএশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, ফ্রাস, আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্ব বাজারের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ আকৃতির ছাচে ফেলে হাতদিয়ে তৈরী কাদা মাটির এই টাইলস্ ও টালি ইউরপবাসীদের শুধু নজর কাড়েনি। ঘুরিয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকাকেও। এই টালি রপ্তানি করে বছরে আয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। ফলে বদলে গেছে সাতক্ষীরার কুমার সম্প্রদায়ের জীবনও। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এখন স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বি। কিন্তু সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে মৃৎশিল্পের সম্প্রসারণ যথাযথ ভাবে হচ্ছে না। ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১২টি কারখানা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রূপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে দেশের রপ্তানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।
পাকিস্থান আমল হতে এখানকার কুমারসম্প্রদায় ঘরের ছাউনিতে ব্যবহার উপযোগী কাদা মাটি দিয়ে টালী তৈরী করত। আর তাদের তৈরী টালী ব্যবহার হতো নিম্ন আয় ও মধ্যেবিত্তদের ঘরের ছাউনি হিসেবে। কিন্তু কালের আবর্তনে আজ সেই মাটির তৈরী বিভিন্ন আকৃতির টালি, সুর্ন্দয্যবর্ধন করতে ব্যবহারিত হচ্ছে বিদেশীদের বড় বড় অট্রালিকার ছাদে, ফ্লোরে,সিড়িতে, দেওয়ালে, বেলকুনি,মেঝে তৈরী ও ঘর সাজানোর কাজে।
মুরারীকাটি গ্রামের রপ্তানিজাত টালি উৎপাদনের প্রতিষ্ঠাতা ও কলারোয়া টালি কারখানা মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোষ্ঠ চন্দ্র পাল জানান, বাংলাদেশের গাজী পুরের রুহুল আমিন তার গাজিপুরের মডান ব্রিক্স ফিল্ড নামে একটি কারখানা ছিল। তিনি বিদেশে বায়ারদের নিকট থেকে প্রথম টালি রপ্তানির অডার পান। কিন্তু মাটি ভাল না হওয়ায় ১০০টি টাইলস্ তার কারখানার আগুনে পোড়ানো হলে নষ্ট হতো ৮০টি লচের মুখে পড়ে তিনি টালি কোথায় তৈরী হয় সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কলারোয়ার একজন রিক্স চালকের সাথে ঢাকায় পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে কলারোয়ার মুরারিকাটি গ্রামের টালি তৈরী কারখানার সন্ধান পান। পরে রুহুল আমিনের মাধ্যমে ২০০০ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ার মুরারিকাটি গ্রামের টালি তৈরীর কারখানায় আসেন ইটালিয়ান নাগরিক রাফাইলি আলদো। তিনি দোআষ মিষ্টি মাটি দিয়ে তৈরীকৃত টালি পছন্দ করেন। প্রথমে ২০০২ সালে কড়ি বর্গার ছাদে ব্যবহৃত ১২ বাই ১২ ইঞ্চি মাপের পরিক্ষা সরুপ ১২টি টালি ইটালিতে নিয়ে যান। এর পর থেকে মুরারিকাটি থেকে ইটালি শহরে টালি রপ্তানি শুরু হয়। আর সে বছরই তিনি কনটিনারের মাধ্যমে খুলনার মুংলা নদী বন্দর দিয়ে জাহাজে করে প্রথম টালি রপ্তানি শুরু করেন ইটালীতে। তখন ৩০০ থেকে ৪০০ কনটেইনার টালি শুধু ইটালিতে রপ্তানি হতো। ইটালীতে বড় বড় বিডিøং বাড়ীর ঘরের ফ্লোরে, ছাদে, বেলকুনিতে, সিড়িতে, বাড়ীর প্রাচিরে ও দেওয়ালের শোভাবর্ধনসহ বিভিন্ন নির্মান কাজে ব্যাপক চাহিদা পায় এখানকার আগুনো পোড়ানে মাটির তৈরী টালি। আর তখন থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের পরিচিতি পায় ইটালি নগর হিসেবে। এরপর পুরোদমে রপ্তানি হতে থাকে ২০০৪ সাল থেকে। খুলনার জে.কে ইন্টারন্যাশনাল, আরনো এক্সপোর্ট ইমপোর্ট, জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করছে। দেশের বড় বড় আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্টান বিদেশে পাঠাতে থাকে তাদের পছন্দমত তৈরীকৃত বিভিন্ন আকৃতির টালি ও মাটির তৈরী টাইলস। এখন এই টালি ইটালী ছাড়াও আমেরিকা, স্পেন, ফ্রান্স, দক্ষীন আফ্রিকা, মালেএশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকারমত বৈদেশিক মুদ্রা উপার্যিত হতো। ফলে দুঃখে দুর্দশায় থাকা কুমারদের জীবন যাত্রার মানও বদলে গেছে।
গোষ্ট পদ পাল আরও জানান, কয়েক বছর আগেও তার সংসার চলতো দারিদ্রতার মধ্যে। কিন্তু রপ্তানিজাত এই টালি তৈরী করে এখানকার মানুষের ভগ্যবদলে গেছে। এই টালির ব্যাবসা করে দুই দশকের ব্যবধানে কোটি টাকার উপরে মালিক হয়েছেন। তার দেখে এখানকার অনেকে এখন এই টালি তৈরী করে নিজেদেও ভাগ্যবদলে নিয়েছেন।
সাতক্ষীরার প্রাকৃতিক পন্যের এক নন্বর অর্থকারী খাত হিসাবে টালি ইউপের বাজার দখল করায় কলারোয়ার মুরারিকাটি, মির্জাপুর ও শ্রীপতিপুর গ্রামে প্রথম দিকে ৪১টি টালি তৈরীর কারখানা গড়ে উঠেছিল। উৎপাদন খরচ বৃদ্বি পাওয়া, সিন্ডিকেট ও করোনাকালিন সময়ে বিদেশে টালি রপ্তানি বন্ধ থাকায় ২৯টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অনেকটা মূখ থুবড়ে পড়ে মৃৎশিল্প। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কারখানাগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে টালির নায্যমূল্য পাচ্ছেনা তারা। এর পর গত ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে শুরু হয়েছে চাঁদাদাবাজি। ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও টালি কারখানার মালিকরা পড়েছে চরম বিপাকে।
কলারোয়া টালি ঘর কারখানার মালিক আবুল হোসেন জানান, এসমস্ত কারখানায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রথমে সুন্দর এটেলে দোয়াশ মিষ্টি মাটি সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। পরে পানি দিয়ে কাদা-মাটি করে পা দিয়ে নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা কাদার মন্ড তৈরী করে। পরে বিশেষ আকৃতির ছাচে ফেলে তৈরী করা হয় বিভিন্ন আকৃতির টাইলস ও টালি। পরে সূর্যের আলোয় শুখিয়ে তার পর রঙেচুবিয়ে আবার শুকিয়ে বিশেষ ব্যাবস্থাপনায় আগুনে পুড়িয়ে নির্মান হয় উন্নতমানের ট্ইালস ও টালি। এসব টালির কারখানায় ফেক্স এ্যাংগুলার টালি, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি সহ বিভিন্ন নকশার ১৮ পদের টাইলস ও টালি তৈরী করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের এখন ১২টি কারখানায় ১ হাজারেরমত নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে থাকে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরে ৭ থেকে ৮ মাস এখানে টালি তৈরীর কাজ হয়। এদের একেক জনের দৈনিক মজুরী ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। টালী উৎপাদনকে ঘিরে এলাকার অনেক অসচ্ছল ও বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
টালি তৈরী শ্রমিক মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, মুরারিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোঁনার চাইতে খাঁটি। এখানকার মাটি এত খাঁটি এখন বিদেশে সোনার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। মাটি বিদেশে রপ্তানির কারনে এসব কারখানায় এক সময় ৩ থেকে ৪ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল।
পলো-এপো অর্গানিক টাইলস কোম্পানির স্বতাধিকারি কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। গত ৫ আগস্টের সরকার পতনের পর থেকে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। ব্যবসা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজি আর সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিন আমরা যারা ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য বতমান অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান “যেকে ইন্টারন্যাশনাল” এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি মিস্টি ও ভাল হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর্যময় টালি সাতক্ষীরার মুরারিকাটির টালি। যার জন্য গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। এখানকার টালি যারা একবার ব্যবহার করেছে তারা প্রথিবীর অন্য কোন মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, টালি গুলো আমরা কলায়োয়া থেকে ট্রাকে করে মোংলা বন্দর নিয়ে যাই। পরে মোংলা বন্দর থেকে জাহাজের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকি। এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তোর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রপ্তানি করে থাকি।
সাতক্ষীরা চেম্বার ওফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠু জানান, সাতক্ষীরার মৃৎশিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এই শিল্প থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। কিন্তু সরকারী পৃষ্টপোষকতার অভাবে মৃৎশিল্প যথাযথ ভাবে সম্প্রসারণ হচ্চে না। ব্যাংক থেকে ঋন নিতে টালি কারখানা মালিকদের বিভিন্ন জটিলতার শিকার হতে হয়। উৎপাদন খরচ বৃদ্বির সাথে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে না পারাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে সরকারের সহযোগিতার অভাব এবং কিছু ব্যবসায়ীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মুরারীকাটির বিখ্যাত টালি শিল্প। এই শিল্প সম্প্রসারণে কারখানা মালিকদের সরকার সহযোগীতা দিলে সাতক্ষীরার উজ্জল সম্ভাবনাময় টালি শিল্পটি ভবিষতে বাংলাদেশের রপ্তানি বানিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও বেশি গুরত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, মুরারিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। বিসিকের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাদেরকে সব ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বিসিক।
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন- ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর, সে এই আমার দেশের মাটি, আমার দেশের পথের ধূলা, খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মাটি যেন কবিদের সেই কথার দৃষ্টান্ত। কারণ এই গ্রামের মাটিতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
জানা গেছে, মুরারীকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এসব টাইলস তৈরি করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পালপাড়ায়। আগের মতোই মাটি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর উঁচু স্তূপ করে রাখতে হয়। তারপর সেখান থেকে মাটি কেটে কুমাররা পায়ের মাধ্যমে কাদা তৈরি করেন মণ্ড বা খামির। মাটি তৈরির পর শিল্পী তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও খাঁচে ফেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সেগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর রঙ ধরানো হয়। রঙ লাগানোর কাজ শেষ হলে রোদে শুকিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পোড়ানোর জন্য সাজানো হয় এই টাইলস।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১৩টি কারখানা। সেখান থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি মতো টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। দেশে আসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রফতানি হচ্ছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,  আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রফতানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।
টালি কারখানার শ্রমিক রুস্তম শেখ বলেন, আমাদের এই মাটি মাঠের মিষ্টি মাটি। মহাজন এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মাটি কিনে আনে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হয়।
শ্রমিক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মুরালিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোনার চাইতে খাঁটি। এ কারণে এই মাটিটা বিদেশে রফতানি হয়। মাটি দিয়ে তৈরির এসব কারখানায় আমরা পাঁচ থেকে ছয়টি কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
প্র-এসও অর্গানিক টাইলস কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি বেলে হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। এই মাটিটা পোড়ানোর পরে যে সৌন্দর্য্যতা হয় সেটি পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর টালি হয়ে ওঠে। যার জন্য এই টালি দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। যারা একবার কলারোয়ার মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করেছে তারা পৃথিবীর অন্য কোনো মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না।
তিনি বলেন, আমরা এই টালি বিশ্ববাজারে রফতানি করে থাকি। বিশেষ করে এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রফতানি করে থাকি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, কলারোয়ার মুরালিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামে উৎপাদিত মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটি টালি রপ্তানি হচ্ছে, যার রপ্তানি মূল্য ২শ কোটি টাকার ওপরে। সাতক্ষীরার এই টালিশিল্প দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। এই এলাকার উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাঙ্গুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রপ্তানি হচ্ছে বেশি।
খুলনার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনাল, কুমিল্লার আর নো এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ও কলারোয়া টালি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২ থেকে ১৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রপ্তানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে সাতক্ষীরার টালি।
টালি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কলারোয়া টালি ঘরের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা টালি উৎপাদন করে আসছেন। প্রতি মৌসুমে ১০-১৫ লাখ টালি উৎপাদন হয় তার কারখানায়। উৎপাদিত এসব টালি বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে দৃষ্টিনন্দন মাটির টালি উৎপাদন করেন, তারা সরকারের প্রণোদনা পান না। প্রণোদনা দেওয়া হয় প্রভাবশালী রপ্তানিকারকদের।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মুরারিকাটি গ্রামে অন্তত ৪৫-৫০টি কারখানায় তৈরি হয় এ টালি। এসব কারখানা থেকে প্রতি বছরে ২০-২৫ কোটি টালি উৎপাদন হয়, যার রপ্তানি মূল্য ২শ কোটি টাকার ওপরে। তবে করোনার সময়ে কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকিতে আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দীপা টালির পরিচালক বাদল চন্দ্র পাল জানান, ২০০৫ সালের দিকে প্রথম টালি উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০০৭-০৮ পর্যন্ত খুব ভালো ব্যবসা হয়। তারপর কারখানা যত বাড়তে থাকে ততই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও আগের মতো মুনাফা হচ্ছে না। এটির বাজার ব্যবস্থার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে রপ্তানিজাত এ টালি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৬-১৭ বছর আগেও প্রকার ভেদে একেকটি টালিতে উৎপাদন খরচ বাদে যে মুনাফা থাকত, বর্তমানে প্রায় একই রয়ে গেছে। অথচ এখন শ্রমিকের বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মাটি ও জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক। ফলে কোনোরকম টিকে রয়েছে এখানকার কারখানাগুলো।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিকিতা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক সুলতান আহমেদ জানান, ইউরোপ ও আমেরিকার ছয়-সাতটি দেশে সাতক্ষীরা কলারোয়ার টালি রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রতি বছর ৪৫-৫০টি কনটেইনার টালি পাঠানো হয়। তবে এখন এর চাহিদা বেড়েছে।
তিনি জানান, মোট রপ্তানির ২৫ শতাংশ টালি তারা নিজেরাই উৎপাদন করেন এবং বাকি ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন কারখানা থেকে সংগ্রহ করে রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন সাতক্ষীরা (বিসিক) উপব্যবস্থাপক গৌরব দাস রূপালী বাংলাদেশকে জানান, মুরারিকাটি মাটির টালি সাতক্ষীরার জন্য অনেক বড় সুনামের। এ শিল্পের প্রসার বাড়াতে বিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামে উৎপাদিত মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়। বছরে ১৫ থেকে ২০ কোটি টালি রপ্তানি হচ্ছে। যার মূল্য অন্তত দেড়শ’ কোটি টাকার বেশি। মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রপ্তানি হচ্ছে। খুলনার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনাল, কুমিল্লার আর নো এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ও কলারোয়া টালি ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রপ্তানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি। টালি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কলারোয়া টালি ঘরের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, ২০০৫ সাল থেকে তারা টালি উৎপাদন করে আসছেন। প্রতি মৌসুমে ৮-১০ লাখ টালি উৎপাদন হয় তার কারখানায়। উৎপাদিত এসব টালি বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেন, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে দৃষ্টিনন্দন মাটির টালি উৎপাদন করেন, তারা সরকারের প্রণোদনা পান না। প্রণোদনা দেওয়া হয় প্রভাবশালী রপ্তানিকারকদের। মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, মুরারিকাটি গ্রামে অন্তত ৪০-৪৫টি কারখানায় তৈরি হয় এ টালি। এসব কারখানা থেকে বছরে ১৫-২০ কোটি টালি উৎপাদন হয়, যার রপ্তানি মূল্য ১৫০ কোটি টাকার ওপরে। তবে করোনার সময়ে কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকিতে আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দীপা টালির পরিচালক বাদল চন্দ্র পাল জানান, ২০০৫ সালের দিকে প্রথম টালি উৎপাদন শুরু হয়। এরপর ২০০৬-০৭ পর্যন্ত খুব ভালো ব্যবসা হয়। তারপর কারখানা যত বাড়তে থাকে ততই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও আগের মতো মুনাফা হচ্ছে না। এটির বাজার ব্যবস্থার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে রপ্তানিজাত এ টালি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে। তিনি আরও জানান, ১৬-১৭ বছর আগেও প্রকার ভেদে একেকটি টালিতে উৎপাদন খরচ বাদে যে মুনাফা থাকত, বর্তমানে প্রায় একই রয়ে গেছে। অথচ এখন শ্রমিকের বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মাটি ও জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক। ফলে কোনো রকম টিকে রয়েছে এখানকার কারখানাগুলো। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিকিতা ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক সুলতান আহমেদ জানান, ইউরোপ-আমেরিকার ছয়-সাতটি দেশে মুরারিকাটির টালি রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রতি বছর ৪৫ থেকে ৫০টি কনটেইনার টালি পাঠানো হয়। তবে এখন এর চাহিদা বেড়েছে। তিনি জানান, মোট রপ্তানির ২৫ শতাংশ টালি তারা নিজেরাই উৎপাদন করেন এবং বাকি ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন কারখানা থেকে সংগ্রহ করে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) উপ-ব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন জানান, মুরারিকাটি মাটির টালি সাতক্ষীরার জন্য অনেক বড় সুনামের। এ শিল্পের প্রসার বাড়াতে বিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লালটু জানান, দৃষ্টিনন্দন টালি সাতক্ষীরা তথা কলারোয়া উপজেলাকে বেশি পরিচিত করেছেন মুরারিকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা। এখান থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সরকার। এ শিল্পকে আরও সম্ভাবনাময় করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প সুদে ঋণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে।পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে টালি কারখানার সংখ্যা ৪১টি থেকে কমে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। তারপরও বিদ্যমান এসব কারখানা থেকে বছরে ১২-১৫ কোটি টাকার টালি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
২০০২ সালে সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয় সাতক্ষীরার কলারোয়া সদরের মুরারিকাটির মাটির তৈরি টালির ইতালিতে রপ্তানি। ২০ বছরের ব্যবধানে এখন শুধু ইতালি নয়, বরং টালি যাচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে টালি কারখানার সংখ্যা ৪১টি থেকে কমে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। তারপরও বিদ্যমান এসব কারখানা থেকে বছরে ১২-১৫ কোটি টাকার টালি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলমের কট্ট-কলম্বো কারখানায় ম্যানেজার পদে চাকুরি করতেন বরিশালের বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস। চাকুরিকালীন সময়ে ওই কারখানায় ইতালির বায়ার রাফাইলি আলদো আসেন প্লেইন টালি রপ্তানির জন্য চুক্তি করতে। চুক্তি অনুযায়ী, কারখানাটি টালি প্রস্তুত করে ইতালিতে রপ্তানি করে। তবে ইটভাটায় পোড়ানো টালি ভালো না হওয়ায় বায়ারের পছন্দ হয়নি। ফলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
এরপর ভাটা মালিক জাহাঙ্গীর আলম ম্যানেজার রুহুল কুদ্দুসের মাধ্যমে কলারোয়ার পালপাড়ায় ঘরের ছাউনি দেওয়ার টালি তৈরি হয় বলে জানতে পারেন। ভাটা মালিক জাহাঙ্গীর আলম এখান থেকে টালি প্রস্তুতকারী কিছু শ্রমিক ও মালিকদের তার ইটভাটায় ডেকে পাঠান। ২০০০ সালে রাফাইলি আলদো আবারও টালির জন্য গাজীপুরের কট্ট-কলম্বো ফ্যাক্টরিতে আসেন। কলারোয়ার পালপাড়ায় টালি প্রস্তুত হয় খবর শুনে সেখানকার টালি কারখানাটি দেখতে আসেন তিনি। তিনি পালপাড়ার গোষ্ঠ চন্দ্র পালের কারখানা থেকে ১৫ পিস চারকোনা ছাদ টালি পছন্দ করেন ও সঙ্গে নিয়ে যান। সেগুলো জার্মানিতে পরীক্ষা করেন ও রিপোর্ট ভালো পেয়ে পছন্দ হয় তার। এরপর সরাসরি পালপাড়া থেকেই ছাদ টালি ইতালিতে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইতালীয় বায়ারের আগ্রহের পরও বিদেশে পাঠানোর জন্য টালি প্রস্তুত করতে কলারোয়া সদরের মুরারিকাটি পালপাড়ার কেউই রাজি হয়নি। তবে গোষ্ঠ চন্দ্র পাল, শংকর পাল, লক্ষণ পাল ও শ্রীকান্ত রাজি হন। ২০০২ সালে পালপাড়া থেকে দশ হাজার পিস ছাদ টালি ইতালিতে রপ্তানি করেন গোষ্ঠ চন্দ্র পাল। ২০০৪ সাল থেকে পুরোদমে শুরু হয় রপ্তানি। সে সময়ে গাজীপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও ম্যানেজার রুহুল কুদ্দুসের মাধ্যমে বিদেশে টালি পাঠাতেন কলারোয়ার প্রস্তুতকারকরা।

জন্মভূমি ডেস্ক November 29, 2025
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চেপে বসেছে ‌দিনমজুরদের কাঁধে?
Next Article বিপিএল নিলাম থেকে বাদ বিজয়-মোসাদ্দেকসহ ৯ ক্রিকেটার

দিনপঞ্জি

January 2026
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
« Dec    
- Advertisement -
Ad imageAd image
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 53 minutes ago
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 2 hours ago
যশোর

যশোরে এক বছরে ৬০ খুন,বাড়ছে হত্যাকাণ্ড

By জন্মভূমি ডেস্ক 5 hours ago

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 53 minutes ago
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 2 hours ago
তাজা খবররাজনীতি

মায়ের ত্যাগ-উদারতার উদাহরণ থেকেই শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেম খুঁজে পাই: তারেক রহমান

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?