
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা আশাশুনি শ্যামনগরে রমজানের বাজার ধরতে তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সম্প্রতি প্রায় এক দশক ধরে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের তরমুজ ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্য জেলার তরমুজের তুলনায় সাতক্ষীরা জেলার তরমুজের গুণগতমান ভালো দামেও বেশি ।কেউ চারা গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা ক্ষেতে সেচ দিচ্ছেন। এভাবেই চলছে তরমুজ চাষাবাদের কর্মযজ্ঞ। আর এই কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের চাষিরা। কম সময়ে বেশ লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে তরমুজ চাষের আওতা বেড়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার ১৫২ হেক্টর জমি তরমুজ চাষের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর, কাশিমাড়ীতে ২০ হেক্টর, ঈশ্বরীপুরে ২১ হেক্টর, শ্যামনগর সদরে ২ হেক্টর, ভুরুলিয়ায় ১ হেক্টর, রমজাননগরে ১ হেক্টর, মুন্সীগঞ্জে ১ হেক্টর ও আটুলিয়ায় ১ হেক্টর জমিতে জাম্বু গ্লোরী, বিগটপ, ড্রাগন, পাকিজা, বিগবস, ফিল্ড মাস্টার, ওয়ার্ল্ড কুইন, লাল তীর ও টপ ইল্ড জাতের তরমুজ বীজ বপন করা হয়েছে। যেখানে গত মৌসুমে ১০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল।
শ্যামনগরের কাশিমাড়ী, কৈখালী, ধুমঘাট, রমজাননগর, সাপখালী ও শৈলখালী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ তরমুজ গাছ তরুলতার মতো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে।
গাছ পরিচর্চা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
সাপখালী গ্রামের তরমুজ চাষি শওকত আলী জানান, তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে পাকিজা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তার ক্ষেতে তরমুজ গাছ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী মাসেই তরমুজ বাজারজাত করা শুরু হবে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
খুটিকাটা গ্রামের কৃষক নীলকমল মণ্ডল বলেন, বাজারে যার তরমুজ যত আগে উঠবে, তার লাভ তত বেশি। তাই আগে-ভাগেই তরমুজ চাষ করেছি। তবে এ বছর বীজ ও সারের দাম একটু বেশি। এজন্য খরচও বেশি হচ্ছে।
সবমিলিয়ে বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। আবহাওয়া অনুকূলে ও বাজার ভালো থাকলে আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের এখানে লবণাক্ততার কারণে সেচের পানির সংকট প্রকট। পুকুর থেকে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
শুধু শওকত আলী কিংবা নীলকমল মণ্ডল নয়, তরমুজ চাষ করেছেন কামাল হোসেন, আল মাদানী, প্রনয় মণ্ডল, সূর্য মণ্ডল, ইফতেখার আলী, ব্রজেন মণ্ডল, আইয়ুব আলী ও আব্দুল মাজিদের মতো আরও অনেক কৃষক। তাদের চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন।
কৃষকদের এই স্বপ্ন পূরণে সার্বক্ষণিক পরামর্শগত সহায়তা দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মীরা।
উপজেলার গোবিন্দপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুর রহমান জানান, অনেক কৃষকই আগাম তরমুজ চাষ করছেন। তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখানে লবণাক্ততার কারণে সেচ সংকট রয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করা হয়েছে। এসব পুকুরে মিষ্টি পানির সরবরাহ থাকলে আগামীতে তরমুজের আবাদ আরও বাড়বে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, শ্যামনগরের সর্বত্র লবণাক্ততার সমস্যা রয়েছে। তারপরও যেসব এলাকার মাটি বেলে দোআঁশ সেসব এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে ভালো তরমুজ চাষ হচ্ছে। এজন্য তরমুজ চাষের আওতাও বেড়েছে। কৃষি বিভাগ সর্বদা তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছ।
শ্যামনগরে কিছু অঞ্চলে চিংড়ি চাষ বর্জন করে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। সে অনুযায়ী মৌসুমকে সামনে রেখে কৈখালী, রমজাননগ, ঈশ্বরীপুর ও ধুমঘাট গ্রামের তরমুজ চাষিরা এখন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে চাষকৃত তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, রোপণকৃত তরমুজের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছেন চাষিরা। প্রতিটি চারাগাছে কেউ পানি দেওয়া, কেউ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানো আবার কেউ কেউ চারা গাছের নিচে শুকনো ঘাস বা খড় বিছানো কাজে নিয়োজিত আছেন। আবার অনেকে গাছে তরমুজের গুটি এসেছে। এ বিষয়ে বৈশখালী গ্রামের তরমুজ চাষি তাজুল মল্লিক বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে আমাদের খরচের হারটা একটু বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের বীজ ও সার, কীটনাশক, চাষের সরঞ্জামের দাম অনেক অনেক বেশি। গত বছর প্রতি ৩৩ শতক (১ বিঘা) জমিতে তরবুজ চাষ করতে আমাদের ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজারের মতো খরচ হতে পারে। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ধান চাষের পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরমুজের চাষ অনেক বেশি। উপজেলায় গত বছর আনুমানিক ১২০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও চলতি বছরে তার দিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৯০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন বীজ, সার ও শ্রমমিকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চাষিদের জন্য এবার খরচের হার একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামনের রমজানের ভেতরে যদি তরমুজ বিক্রির উপযুক্ত সময় হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমি আশাবাদী। এদিকে বর্তমান সময়ে তরমুজ চাষিদের মধ্যে এখন সব চেয়ে বড় ভয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে রোপণকৃত চারাগাছে সংক্রমণ রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার।আশাশুনিতে পানি ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ায় কৃষকরা তরমুজ চাষের প্রতি দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। পতিত জমি তরমুজ ও সবজি চাষের আওতায় এনে অধিক মুনাফা পাওয়ায় দিন দিন তরমুজ চাষে এলাকার কৃষকরা ঝুকতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আশাশুনি উপজেলায় মিনি পুকুর খনন কার্যক্রম হাতে নেয়। রবি- ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এরই আওতায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বোরো মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে এলাকার পতিত জমিতে তরমুজ, ভুট্টা ও সবজি আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিনি পুকুর খনন কাজ করা হয়। উদ্দেশ্য, ৫ শতক জমির উপর একটি মিনি পুকুর খনন করে পুকুরের পানি সেচ দিয়ে পাশের জমিতে ফসল করা। এভাবে পতিত জমি চাষের আওতায় এনে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এ মৌসুমে ১০ টি পুকুর খননের লক্ষ্যে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। বামনডাঙ্গা গ্রামের গোবিন্দ লাল সরদার, সুপ্রিয়া মন্ডল, মানবেন্দ্র ঢালী, মাখন লাল ঢালী, অহেদুল সানা, তুলসী রানী মন্ডল, শোভা রানী মন্ডল, শঙ্কর প্রসাদ ঢালী, নিত্যানন্দ কুমার সানা ও জয়ন্ত কুমার ঢালীর জমিতে পুকুর খনন করা হবে। ইতিমধ্যে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।
বড়দল ইউনিয়নের জামালনগর গ্রামের আঃ হাকিম গাজীর ছেলে আফছার গাজী গত মৌসুমে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছিলেন। এবছরও তিনি স্বউদ্যমে তরমুজ চাষ করছেন। আফছার গাজী গত মৌসুমে ১৬ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করেন। সর্ব সাকুল্যে তার খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। তরমুজের সাইজ ও সাদ ছিল খুবই ভাল। বাজারে চাহিদাও ছিল যথেষ্ট। সব মিলে তার তরমুজ বিক্রী হয়েছিল ১২ লক্ষাধিক টাকা। ৮ লক্ষাধিক টাকা লাভ পেয়ে তিনি যেমন উৎফুল্ল ছিলেন, তেমনি তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক চাষি তরমুজ চাষে ঝুকেছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ইতিমধ্যে আশাশুনিতে ৪০ টি মিনি পুকুর খনন করা হয়েছে। এসব পুকুরের পানি ব্যবহার করে সাড়ে ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হচ্ছে। পানির সমস্যা না থাকায় কৃষকরা নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করে চলেছে। তরমুজ চাষিদের সফলতা দেখে এলাকার অনেক ক্ষৃক নিজ উদ্যোগে মিনি পুকুর খনন করেছেন এবং খালের পানি ধরে রেখে তরমুজ আবাদ করছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব শাওন বলেন, আগে তরমুজ চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড়দল ইউনিয়নে ৩০টি মিনি পুকুর খনন করা হয়। মিনি পুকুর প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পরবর্তীতে তরমুজ চাষাবাদে ব্যবহার করে তরমুজ চাষে সফল হয়েছে কৃষকেরা। ফলে দিন দিন বড়দল ইউনিয়নের জনপ্রিয় হচ্ছে মিনি পুকুর ভিত্তিক তরমুজ চাষাবাদ এবং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন পতিত জমিতে সবুজায়ন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হবে বলে আমরা আশাবাদি। যা বিগত বছরের তুলনায় ৩০০ হেক্টর বেশি।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, পুকুরে পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে প্রয়োজনের সময় পানি সেচ দিয়ে তরমুজ, ভুট্টা ও সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সম্পৃক্ত করে সফলতা এসেছে। মিনি পুকুরের পানি শেষ হয়ে আসলে শেষের দিকে বোরিং এর পানি পুকুরে দিয়ে ভরে ২/৩ দিন সংরক্ষণ করে ফসলে সেচ দিলে আইরন ও লবণাক্ততা থাকবেনা। ফলে ভালভাবে পানির প্রয়োজন মিটিয়ে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এলাকায় পুকুরের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা গেলে তরমুজ ও সবজির আবাদ সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ণসাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে লবণাক্ত জমিতে বাড়ছে তরমুজ চাষ। অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় পতিত জমিতেও প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষ করেছেন অনেকে। এ বছর ৪৬৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪০ হেক্টর বেশি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়নের ফকরাবাদ, বুড়িয়া, নড়েরাবাদ, গোয়ালডাঙ্গা ও বামনডাঙ্গা বিল এখন সবুজ লতায় সমারোহ। অধিকাংশ গাছে ফুল ফোটার পাশাপাশি ফলন আসতে শুরু করেছে। নারী শ্রমিকরা কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা দূরের খালে কিংবা পুকুরে জমা পানি সেচযন্ত্রের সাহায্যে পাইপ দিয়ে আনা হচ্ছে খেতে, সেই পাইপ উঁচু করে ধরে রাখছেন, আবার কেউ গাছের চারপাশে পানি দিচ্ছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪ বছর আগেও বড়দল ইউনিয়নের বিলগুলোতে আমন ধান চাষের পর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। বিলগুলো গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার হতো। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যেত, তাই বৃথা পরিশ্রম হবে ভেবে কেউ চাষাবাদের চেষ্টাও করতেন না। এখন সেই জমিগুলোই তরমুজ চাষে স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষকদের।
অল্প সময়ে বিনিয়োগের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লাভ হওয়ায় দিন দিন তাদের ভরসা হয়ে উঠছে লবণসহিষ্ণু তরমুজ চাষ। তরমুজের বীজ রোপণ থেকে ফল উত্তোলন পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন মাস। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। আর ভাগ্য ভালো হলে তরমুজ বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়।
বড়দলের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী বলেন, গত বছর তরমুজে ব্যাপক লাভ হয়েছিল। কিছু কিছু কৃষক বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছিলেন। এ কারণে এবার অনেক বেশি কৃষক তরমুজের চাষে ঝুঁকছেন। তিনি নিজেও এ বছর ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তবে এ বছর মজুরি, সার ও বীজের দাম বেশি।
তরমুজচাষি মাছুম সরদার বলেন, গত বছর ৬৫ বিঘা জমিতে তরমুজ করেছিলাম, বিঘাপ্রতি ৪৫ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। এ বছর ৭০ বিঘা চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ২১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত। চারা ভালো হয়েছে। এ বছরও ভালো ফলন পাবো বলে আশা রাখি। কিন্তু তিতুখালী খালে লবণ পানি উঠায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ভয়ে থাকতে হয়।
চারায় পানি দিতে দিতে ঝর্ণা রানী নামের এক নারী বলেন, সারাদিন ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করি। প্রতিবছর তরমুজ চাষ শুরু হলে এই এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারীরা প্রায় ২ মাস কাজের সুযোগ পেয়ে থাকে।
বড়দল ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ক্লাইমেট স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরমুজ চাষের জন্য ৪০টি মিনি পুকুর খনন করা হয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সেচ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় তরমুজ চাষের প্রযুক্তির ওপর ৪ ব্যাচ প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প, ডিজেল চালিত সেচ মেশিন ও প্রদর্শনী প্রদান করেছি এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদেরকে তরমুজ চাষাবাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত মাঠের অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি এ বছর প্রচুর লাভ হবে এবং পরবর্তী বছরে আরো নতুন করে ৩ থেকে ৪শ হেক্টর এক ফসলি জমি তরমুজ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত