
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা সাতক্ষীরার ১৪০টি খাল। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন বলছে সাতক্ষীরায় ছোট বড় মিলে খালের সংখ্যা ৪২৯টি। অন্যদিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডর হিসাব অনুযায়ী জেলায় বর্তমান খাল রয়েছে ২৮৯টি। তবে এই ২৮৯টি খালের মধ্যে আবার বদ্ধ হয়ে আছে অন্তত দুই শতাধিক খাল।
এদিকে এসব খালের অস্তিত্ববিলীন হওয়ার কারণে সাতক্ষীরা জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধাতার কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে কৃষি জমি জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব খাল উদ্ধার করে উন্মুক্ত করার জন্য বার বার তাগিত দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছেনা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নদী বাাঁচাও আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক-ই এলাহী বলেন, ছোট বড় মিলে জেলায় চার শতাধিক খাল ছিলো। এসব খাল বিভিন্ন নদীর সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে শহর এবং আশপাশের পানি নিষ্কাশন হতো। বিশেষ করে বহু খাল জেলার বিভিন্ন বিলের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়াতে ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব খালের অস্তিত্ববিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় নিয়মবহির্ভূত ও শ্রেণী পরিবর্তন করে অধিকাংশ খাল লীজ বা দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরাবাসিকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে অবিলম্বে এসব খালের বন্দোবস্ত বাতিল করে পুনরুদ্ধার করে তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও মানবাধিকার কর্মী এড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণেই মূলত সাতক্ষীরার অধিকাংশ খাল আজ মৃত। অস্তিত্ব সংকটে ধুকছে খালগুলো। তিন থেকে চার দশক আগেও এ সমস্ত খালকে কেন্দ্র সাতক্ষীরার ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছিলো। শুধু তাই নয়, জেলা শহর ও জনবসতী এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম ব্যবস্থা ছিলো এসব খাল। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রভাশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য সাতক্ষীরার অধিকাংশ খাল অস্তিত্ববিলীন হতে থাকে। ফলে এসব খাল ভরাট হওয়ার কারণে আজ জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। তিনি বলেন, জেলা প্রশসান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে জেলার হারিয়ে যাওয়া সমস্ত খাল উদ্ধার করে পুনঃখননের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আগামীতে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাতক্ষীরার বিনেরপোতাস্থ কার্যালয়ের প্রধান ড. শিমুল মন্ডল জানান, জলাবদ্ধতা সাতক্ষীরার কৃষিতে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে উপকুলীয় এলাকায় ফসল উদ্ভাবনে গবেষণা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আগামীতে জলাবদ্ধ জমিতে টিকে থাকতে পারে এমন ধান বা অন্য ফসলের জন্য গবেষণা করা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিধপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এই মুহূর্তে জেলায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতায় গ্রাস করে ফেলেছে। তিনি বলেন, কৃষি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে হলে জেলার সকল খাল উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন সমম্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও কোনো লাভ হচ্ছেনা বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এবং ২ এর তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরাতে ২৮৯টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এ ১৮০টি এবং ডিভিশন-২ এ খাল রয়েছে ১০৯টি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, ডিভিশন-১ এ ১৮০টি খালের মধ্যে ৩০টি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ৪২৯টি খাল রয়েছে জেলায়। কিন্তু সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এবং ২ হিসাব অনুযায়ী ২৮৯টি খাল পাওয়া যাচ্ছে। বাকী ১৪০টি খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এসব হারিয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এই প্রতিবেদককে বলেন, ডিভিশন-২ এর অধিনে ১০৯টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ৫৯টি খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এসব খনন কাজ শেষের দিকে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ জানান, এ জেলায় ৪২৯টি খাল রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব খাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়, জেলার সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, খাল অবৈধ দখল বা প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হারিয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বলা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক মোকাম কদমতলা বাজার। পাশেই মজুমদারের খাল। আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্তও সে পথে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত। আর এখন সেটি পতিত জমি। কোথাও আবার চিহ্নটুকুও বিলীন হয়ে গেছে। শুধু মজুমদারের খালই নয়, হারিয়ে গেছে উপকূলীয় জেলাটির ১৪০ খাল। বাড়তি পানি বেরিয়ে যেতে না পারায় জলাবদ্ধতার কবলে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি। আর এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন।
জেলা প্রশাসন বলছে, ছোট-বড় মিলিয়ে সাতক্ষীরায় খালের সংখ্যা ৪২৯। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে খাল রয়েছে মোট ২৮৯টি। বাকিগুলোর আর কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার যেগুলো আছে সেগুলোরও অর্ধেকেরই বেশি অস্তিত্ব সংকটে।
সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা বলছেন, জলাবদ্ধতা সাতক্ষীরার কৃষিতে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কৃষি গবেষাণায়ও প্রভাব ফেলছে। জলাবদ্ধতার কারণে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি গবেষণা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করতে এসব খাল উদ্ধারের জন্য বারবার তাগিদ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাতক্ষীরার বিনেরপোতা কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এই প্রতিবেদককে জানান, উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণসহিঞ্চু বা অন্যান্য পরিবেশে টিকে থাকতে পারে—এমন ফসল উদ্ভাবনে তারা গবেষণা করেন। তবে জলাবদ্ধতার কারণে সে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই জলাবদ্ধ পানিতে টিকে থাকতে পারে এমন ফসল উদ্ভাবনের কাজ করা হচ্ছে এখন। তবে উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সদর উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, চেলারবিল ও ঘুটেরডাঙ্গীর অধিকাংশ বিলের শাখা খালগুলো বিলীন হয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমেও সেখানকার তিন ফসলি জমি তলিয়ে রয়েছে। এসব জমিতে কয়েক বছর আগেও ধান, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হতো।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার হোসেন, নিমাই মণ্ডল ও শহীদুল ইসলাম জানান, যেসব জমিতে ফসল ফলত, তাতে এখন শুধু কচুরিপানা ও আগাছা ভাসছে। বছরের প্রায় পুরোটা সময় সব জমি পানিতে ডুবে থাকে এখন। বিভিন্ন সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের লোকজন খাল ইজারা বা বন্দোবস্ত দেয়ার কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
একই উপজেলার ডাইয়ের বিলেও স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিলের কয়েক হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে রয়েছে পানিতে। সেখানে ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষক। কোনো কোনো কৃষক নিরুপায় হয়ে মাছচাষীদের কাছে জমি ইজারা দিয়েছেন।
নদী বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আশেক-ই এলাহী এই প্রতিবেদক কে বলেন, ‘ছোট-বড় মিলিয়ে জেলায় চার শতাধিক খাল ছিল। এগুলো বিভিন্ন নদ-নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় শহর ও আশপাশের পানি নিষ্কাশন হতো। বিশেষ করে কিছু খাল বিভিন্ন বিলের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় শ্রেণী পরিবর্তন করে অধিকাংশ খাল লিজ বা দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার কৃষিকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্ত করতে হলে খালের বন্দোবস্ত বাতিল করতে হবে। সেগুলো উদ্ধার করে তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে।’
সাতক্ষীরা পাউবো ডিভিশন-১ ও ২-এর তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ২৮৯টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ডিভিশন-১-এর অধীনে ১৮০টি ও ডিভিশন-২-এর অধীনে রয়েছে ১০৯টি খাল।
এ বিষয়ে পাউবো ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ৪২৯টি খাল রয়েছে জেলায়। কিন্তু আমাদের হিসাবে ২৮৯টি খাল পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বাকি ১৪০টি খাল উদ্ধারে চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া ডিভিশন-১-এর অধীনে থাকা ১৮০টি খালের মধ্যে ৩০টির পুনঃখননকাজ চলছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।’
ডিভিশন-২-এর অধীনে থাকা খালগুলোর মধ্যে ৫৯টি পুনঃখনন করা হচ্ছে। খননকাজও শেষের দিকে বলে জানান সংস্থাটির ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী ।
পরিবেশবিদরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণেই মূলত সাতক্ষীরার অধিকাংশ খাল মৃত। তিন-চার দশক আগেও এসব খালকে কেন্দ্র সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। জেলা শহর ও জনবসতি এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম ব্যবস্থাও ছিল এসব খাল। আশির দশকের পর থেকে খালগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে। খালগুলো উদ্ধার করা না গেলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপর্যয় অনিবার্য।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ ও শ্যামনগর উপজেলায় ৮০ হেক্টর। বছরের প্রায় পুরো সময়ে জলাবদ্ধ থাকে এসব জমি।’
জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে সাইফুল ইসলাম জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য বিলের মধ্যে যেসব সরকারি খাল ছিল তা বিভিন্ন সময় বন্দোবস্ত বা ইজারা দেয়ার কারণেই মূলত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। এরই মধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে এসব খাল ইজারা না দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘জেলায় ৪২৯টি খাল রয়েছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব খাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়, জেলার সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অবৈধ দখল বা খালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। তাছাড়া হারিয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বলা হয়েছে।’পাওয়া যাচ্ছে না সাতক্ষীরার ১৪০টি খাল। সাতক্ষীরায় ছোট বড় মিলে খালের সংখ্যা ৪২৯টি। অন্যদিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী জেলায় বর্তমান খাল রয়েছে ২৮৯টি। তবে এই ২৮৯ টি খালের মধ্যে আবার বদ্ধ হয়ে আছে অন্তুত দুই শতাধিক এর বেশি খাল। এদিকে এসব খালের অস্তিত্ববিলীন হওয়ার কারনে সাতক্ষীরা জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, কৃষি জমি জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব খাল উদ্ধার করে উম্মুক্ত করার জন্য বার বার তাগিদ দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রী নেতা আশেক ই এলাহী বলেন, ছোট বড় মিলে জেলায় চার শতাধিক খাল ছিল। এসব খাল বিভিন্ন নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারনে শহর এবং আশপাশের পানি নিস্কাশন হতো বিশেষ করে বহু খাল জেলার বিভিন্ন বিলের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়াতে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব খালের অস্তিত্ববিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় নিয়ম বহির্ভুত ও শ্রেনি পরিবর্তন করে অধিকাংশ খাল লিজ বা দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
বিশিষ্ট সংবাদকর্মী শাহীন গোলদার বলেন, সাতক্ষীরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে অবিলম্বে এসব খালের বন্দোবস্ত বাতিল করে পুণরুদ্ধার করে তা উম্মুক্ত করে দিতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারনেই মূলত সাতক্ষীরার অধিকাংশ খাল আজ মৃত। অস্তিত্ব সংকটে ধুকছে খাল গুলো। চার দশক আগেও এসব খাল কে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয়; জেলা শহর ও জনবসতি এলাকার পানি নিস্কাশনের অন্যতম ব্যবস্থা ছিল এসব খাল। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য সাতক্ষীরার অধিকাংশ খাল অস্তিত্ববিলীন হতে থাকে। ফলে এসব খাল ভরাট হওয়ার কারণে আজ জেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে জেলায় হারিয়ে যাওয়া সব খাল উদ্ধার করে পূণ:খনন ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম আরো জানান, এই মুহুর্তে জেলায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতায় গ্রাস করে ফেলেছে। তিনি বলেন, কৃষি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে হলে জেলার সব খাল উম্মুক্ত করে দিতে হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের উন্নয়ন সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি বারবার তুলে ধরা হলেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এবং ২ এর তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরাতে ২৮৯টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এর ১৮০ টি এবং ডিভিশন ২ এর খাল রয়েছে ১০৯টি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম আরো বলেন, ডিভিশন ১ এ ১৮০টি খালের মধ্যে ৩০টি খাল পূণ:খননের কাজ চলছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।সাতক্ষীরায় খাল রয়েছে প্রায় ৪২৯টি। এসব খাল দিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা শহরের পানি নিষ্কাশন হয়। তবে দখল-দূষণে অধিকাংশ খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাসহ তিন উপজেলায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালে ৪৭৬ টাকা ব্যয়ে নদী ও বদ্ধ খাল পুনঃখনন প্রকল্প নেয়া হলেও নিরসন হয়নি জলাবদ্ধতা।
পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে ও সরকারি খালগুলো দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য ঘের। ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে থাকে মাসের পর মাস। পৌর এলাকাসহ তিন উপজেলার কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি। বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ও নদীর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে একটি প্রকল্প নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০২২ সালে নেয়া প্রকল্পে ব্যয় হয় ৪৭৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরা সদরের বেতনা, মরিচ্চাপ, আশাশুনির কপোতাক্ষ, শ্যামনগরের ছোট যমুনাসহ জেলার শতাধিক বদ্ধ খাল পুনঃখননকাজ চলমান। তবে নদী খননের শুরুতে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাছাড়া বেতনা নদীর খনন বন্ধ রয়েছে। খাল খননেও কোনো সুফল মিলছে না বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো আশরাফুল আলম বিস্তারিত জানান, প্রকল্পটির ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইমলাম জানান, তার অধীনে থাকা কাজের ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। খননকাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে আশা করছেন তারা।
গতকাল সাতক্ষীরা শহরের কয়েকটি এলাকা ও তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িঘরে পানি উঠেছে। টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। অনেকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছে। চার মাস ধরে নোংরা পানিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এ কারণে অনেকের চর্মরোগও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পৌরসভার রাজার বাগান, ইটাগাছা, কামালনগর, বদ্দিপুর, তালতলা, উত্তর কাটিয়া, মাগুরা, মাঠপাড়া, মুনজিতপুর, গড়েরকান্দা, সুলতানপুর, রথখোলা, রাজারবাগান, কুখরালীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার লাবসা, গোপীনাথপুর, ধুলিহর, শ্যাল্যে, মাছখোলা, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, ঝাউডাঙ্গা, বল্লীসহ আশাশুনি ও কলারোয়া উপজেলার অন্তত ৪০ গ্রাম জলাবদ্ধ রয়েছে। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, নদী ও খাল খননে অনিয়মের কারণেই জেলার একটি বড় অংশ প্রতি বছর পানিতে ডুবে থাকছে।
পৌরসভার রাজার বাগান এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, চার মাস ধরে তার বসতবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নিয়মিত নোংরা পানিতে চলাফেরা করার কারণে চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া রান্নাসহ অন্যান্য কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারীদের। পৌরসভার সব ধরনের কর পরিশোধ করার পরও পানি নিষ্কাশন বা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
কথা হয় একই এলাকার দুই স্কুলছাত্রী মামনি বিশ্বাস ও মোহনা আক্তারের সঙ্গে। তারা জানায়, প্রতিদিনই কাদাপানির মাঝ দিয়ে পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাদের। শুধু তারাই নয়, নিকটবর্তী মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্কুল-কলেজের দুই-তিন হাজার শিক্ষার্থী পানির মধ্য দিয়ে যাতয়াত করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না।
অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরি, নদীর বাঁধ ছিদ্র করে পানি উত্তোলন ও স্লুইসগেট নির্মাণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতর নাগরিকরা। তবে জলাবদ্ধতার কবল থেকে সাতক্ষীরাকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন তারা। না হলে প্রতি বছর জলাবদ্ধতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে উপকূলীয় এ জেলা।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জেলায় কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ সরাসরি পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে স্থায়ী বা শুষ্ক মৌসুমে লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। অধিকাংশ খালে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় কিছু খাল ইজারাও দেয়া হয়েছে। এসব খাল উদ্ধার করে সরকার খননের উদ্যোগ নিলেও শতভাগ সফলতা আসেনি। এ কারণে জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছে না। আশাশুনি ও সদর উপজেলা দিয়ে বয়ে চলা বেতনা, মরিচ্চাপ ও কপোতাক্ষ নদ পুনঃখননেও কোনো কাজে আসেনি। এসব নদী ও খাল যদি সঠিকভাবে খনন করা যেত তাহলে মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ত না।’
সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘অনেক নদী বা খালের নেটপাটা তুলে দেয়ার পর জলাবদ্ধতা বেশ কমে গেছে। তাছাড়া বেতনা ও প্রাণসায়ের খালের খননকাজ শেষ হলে আগামীতে জলাবদ্ধতা থাকবে না।’দুই দফায় খননের পরও প্রাণ ফিরে পায়নি সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহি প্রাণসায়ের খাল। খালের পানির কোন প্রবাহ নেই। স্থানে স্থানে ময়লা আর্বজনায় ভরে উঠেছে। পুরো খাল কচুরিপনায় ভরে বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওর) বিভাগ-১ এর অধীনে প্রাণসায়ের খাল নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকাই লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর বেইজলাইন প্রতিবেদন ২০১৫ অনুযায়ী জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর অধীনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১ এর পুনর্বাসন শীর্ষক প্রকল্পটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১ কোটি ৪ হাজার ৬৪৫ টাকায় ১০ কিলোমিটার প্রাণ সায়ের খাল খনন করা শুরু হয়ে ২০১৫ সালে শেষ হয়।
প্রকল্পটির অনিয়ম নিয়ে টিআইবি জানায়, সাতক্ষীরা পাউবো’র অধিকাংশ ঠিকাদার ইট ভাটা ব্যবসার সাথে জড়িত। এর ফলে খনন কাজের মাটি খালের পাড়ে না দিয়ে অধিকাংশই নিজের ইটভাটায় বিনা খরচে বা অন্য ইটভাটায় বিক্রি করার মাধ্যমে সরকারি টাকায় নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে। শহরের ইটাগাছাতে প্রকল্প কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য খননযন্ত্র দিয়ে (এস্কেবেটর) খনন করা হয়েছে এবং খনন যন্ত্র দিয়ে শুধু খালের পাশে আগাছা কেটেছে, মাটি কাটেনি।
খালের ভেতর থেকে অল্প নরম মাটি টেনে এনে দুই পাড়ে দিয়ে ড্রেজিং করা হয়েছে। উত্তর কুলিয়াতে খাল থেকে সামান্য পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর অধীনে ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় প্রাণসায়ের খালের ১৪ কিলোমিটার খনন করা হয় ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক মোঃ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রাণসায়ে খাল প্রাণ ফিরে পাবে। কিন্তু দাবি আছে দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাজেটে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। প্রকল্প যখন হাতে নেওয়া হয় তখন সাধারণত স্থানীয় জনগণ যারা এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করবে তাদের একটি দাবি থাকে দীর্ঘদিনের, সেই দাবিটা প্রাণ সায়েরের প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য ছিল। কিন্তু যখন দাবিটা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ করলো যেমন, প্রকল্প গ্রহণ ও প্রকল্পের বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলনা। অর্থাৎ কোন একটি কাজকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে যেতে চাইলে সেখানে অবশ্যই স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে সম্পৃক্ততা ছিল না। কাজটি যখন করা হলো তখন সেই কাজ কিভাবে করলে এর স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে বা টেকসই হবে, সেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিনা আমার সন্দেহ আছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে যখন কাজটি শেষ হয়েছে তখন দেখেছি কিছুদিন পরে খালটি আবার আগে মতো যা তাই হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালেও যখন কাজটি শেষ হলো খুব কম সময়ে আমরা দেখেছি সেই একই রকম, কোন সুফল আমরা পাচ্ছিনা। অতএব এখানে বুঝতে হবে যেভাবে কাজটি করার কথা ছিল সেভাবে করা হয়নি। এখানে যারা কাজ করেছে যারা সম্পৃক্তত ছিল তাদের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ঘাটতি রয়েছে। কোন একটি প্রকল্প উন্নয়ন কাজকে টেকসই করতে হলে, জনগণের সুফল সম্পূর্ণভাবে দিতে হলে ওই কাজের সাথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও যারা কাজটি করছে তাদের দায়বদ্ধতা, তাদের সচ্ছতা এগুলো না থাকলে এই কাজ গুলোর সুফল আসবে না। এই কাজটিতে সচ্ছতার অভাব ছিল, জনগণের অংশগ্রহণ ছিলনা। জলবায়ু অর্থায়নে চাই সচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ।
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ খাল খননের নামে অর্থ অপচয় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়েছে। প্রাণ সায়ের খাল খননের ফলে নগরবাসী কোন ধরনের সুফল পেয়েছে বলে আ
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী জুলায় ৪২৯টি খাল রয়েছে । কিন্তু সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এবং ২ হিসাব অনুযায়ী ২৮৯ টি রয়েছে জেলায়। কিন্তু সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এবং ২ হিসাব অনুযায়ী ২৮৯টি খাল পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ১৪০টি খাল উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব হারিয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার এই প্রতিবেদককে জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব খাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলুপ্ত হওয়া খাল গুলো সনাক্ত করে খননের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অতি দ্রুত সাতক্ষীরার মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত