
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাতেও বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া।
জেলার চারটি আসনেই শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তৎপরতা। গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার ও শহরের সর্বত্র ফেস্টুন, দেয়াল লিখন, লিফলেট শোভাপাচ্ছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। নতুন করে আসন বিন্যাসের পর সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীরা এখন নতুন করে হিসাব নিকাশে বসছেন। চারটি আসনেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অবর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াত।
বিএনপি চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও সাতক্ষীরা-২ ও সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে জামায়াত রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও বিএনপি আশা করছে তাদের পূরানো সব আসন ফিরে পেতে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ে তেমন তৎপরতা চেখে না পড়লেও নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর অনেক নতুন দলের নতুন মুখ মাঠে আসলে ও খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না জামাত-বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমনটি মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) ॥ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিএনপি কিংবা জামায়াত নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হলেও আত্মগোপনে রয়েছেন পতিত আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা। নীরব রয়েছেন এই দলটির কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টির মধ্যেও দেখা যাচ্ছে না তেমন চাঙ্গাভাব। অন্তরালে ১৪ দলের অন্যান্য শরিকরাও।
এ আসনের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এখানে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেছে। এই আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে লরবেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইজ্জতুল্লাহ এখানে ভিন্ন দলের আরো একজন প্রার্থী আছে কিন্তু তিনি সুবিধা জনক করতে পারবে না বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। সাতক্ষীরা ২ সদর আসন এখান থেকে লড়বেন বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রউফ এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাদিদশ আব্দুল খালেক এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই দুই প্রার্থীর মধ্য। তবে এই আসনে আরো দুইজন রাখতে হয়েছেন তারা হলেন জাতীয় পার্টি সাবেক এমপি দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক সাবেক আশরাফুজ্জামান আশু এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে মুফতি রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া ছাড়া স্বতন্ত্র ও অন্য দলের আরো দুইজন রয়েছে নির্বাচন করার অপেক্ষায়। সাতক্ষীরা ৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচন করবেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মুহাদিদশ রবিউল বাশার তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লরছে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত ডাক্তার শহিদুল আলম। ইতিমধ্য ডাক্তার শহিদুল আলমের মনোনয়ন টি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে থাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ডাক্তার শহিদুল আলম বলেন নির্বাচন কমিশন অথবা মহামান্য হাইকোর্ট থেকে মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নির্বাচনের লড়বেন। তিনি আরো বলেন তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক সমর্থন রয়েছেন এই সমর্থনদের প্রত্যাশায় তার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দল থেকে বহিষ্কার করবে এমন প্রশ্ন জবাবে ডাক্তার শহিদুল আলম বলেন এটা দলের বিষয় জনগণ আমাকে চাই আমি নির্বাচন করব।এছাড়া ছোটখাটো দলের আরো কয়েকজন প্রার্থী রয়েছে এই আসন থেকে নির্বাচনে । আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও দেখা যেতে পারে একাধিক ব্যক্তিকে কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কেমন উল্লেখযোগ্য কোন ব্যক্তির মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা শোনা যায়নি।
সাতক্ষীরা ৪ এখান থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ডক্টর মনিরুজ্জামান মনির ও জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলাম নির্বাচনের মূল আলোচনায় কিন্তু এরপরও এই আসন থেকে গণধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী ইতিমধ্য রিটারিং অফিসার কর্তৃক যার মনোনয়ন বাতিল হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা। এবং জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার অংশের মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজার পুত্র হোসাইন মোহাম্মদ মায়াজ তারও মনে নয়ন রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। তবে পিতা পুত্র দুজনারই একই কথা আপিল বিভাগ অথবা মহামান্য হাইকোর্টের মাধ্যমে মনোনয়নর বৈধতা নিয়ে নির্বাচনের মাঠে লড়বেন। এই আসনে ইসলামী দলের আরো একজন প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের অভিমত সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা ও তার পুত্রের এবং অন্য প্রার্থীর নির্বাচনের প্রভাব জামায়াত-বিএনপির উভয়ের তেমন একটা ক্ষতি করতে পারবে না। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনীত ও মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর তিনি আরও জোরালোভাবে মাঠে নেমেছেন।
একইভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। এ আসনে দলটির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ। তিনিও মনোনয়নে চূড়ান্ত হওয়ায় দাঁড়িপাল্লার নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বাড়াচ্ছেন ভোটের আশায় ।
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলায় ৭০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তালা-কলারোয়ার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তা ভোলার নয়, তাদের পাশে থেকেই আজীবন সেবা করতে চাই। দল আমাকে আগেও জনগণকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, আমার পরীক্ষা নিয়েছে। আমি জনগণকে সেবা করে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতক্ষীরা-১ আসনে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ মাঠে রয়েছেন এবং তার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা আংশিক) ॥ সর্বশেষ নতুন গেজেট অনুযায়ী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌদ্দটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন মোট ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসন। অতীতের ১২টি নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ আসনে তিনবার আওয়ামী লীগ, চারবার জামায়াত, জাতীয় পার্টি তিনবার, বিএনপি ও মুসলিম লীগ একবার করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন আলিপুর ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ। এই আসনে মনোনয়নবঞ্চিত জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাবসা ইউনিয়নের সাত বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে আন্দোলন করেছেন প্রায় এক মাস ধরে। সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কিন্তু দলীয় হাই কমান্ড এসবের কোন কর্ণপাত না করে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাকেই এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত রেখেছেন এবং তার সাথে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য ইতিমধ্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আসনে একাধিবার নির্বাচিত পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতীর পক্ষেও মনোনয়ন দাবিতে দলের হাইকমান্ডে আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু দল সেটিও কোন আমলে নেইনি দলের একটাই কথা কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল পর্যায় সেই সিদ্ধান্ত সকলকে মেনে দলের হয়ে কাজ করতে হবে।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক জেলা আমির মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা প্রধান সমন্বয়ক কামরুজ্জামান বুলুও নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ জামাত ইসলামের সাথে জোট করায় সেখান থেকে পিছিয়ে এসেছেন কামরুজ্জামান বলু।
জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সদর আসনের প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশু জানান, জাপা একটি নির্বাচনমুখী দল, আগামী নির্বাচনে সে কারণে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সাধারণ ভোটাররা জাতীয় পার্টি কে ভোট দিয়ে এ দেশের আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু রাজনীতির মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করেন তিনি। তবে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালীগঞ্জ) ॥ এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশায় ছিলেন ডা. শহিদুল আলম। কিন্তু দলের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কাজী আলাউদ্দিনকে। এ নিয়ে গত এক মাস ধরে এই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে গত এক মাস ধরে চলেছে সড়ক অবরোধ, হরতাল, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর কুশপুতুল পোড়ানোসহ নানা কর্মসূচি কিন্তু তবুও কেন্দ্রীয় কমিটি কোন প্রকার প্রার্থী পরিবর্তন না করে কাজী আলাউদ্দিনকে চূড়ান্ত রেখেছেন এবং কাজী আলাউদ্দিনের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার বৈধ ঘোষণা করেছেন।
দলের এই দ্বন্দ্বের মধ্যে স্ুিবধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় মাঠে দেখা মিলছে না সদ্য গঠিত এনসিপির কোনো প্রার্থী নেতাকর্মী। স্থবির হয়ে আছে জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া আত্মগোপনে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ।
বারবার ভাঙাগড়া এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মাঠে রয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন। দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. শহীদুল আলম মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্বে জামায়াত প্রার্থী এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
তবে জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের বাড়ি দেবহাটায়। কিন্তু দেবহাটা উপজেলা সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে বাদ পড়া এবং কালীগঞ্জের নতুন আটটি ইউনিয়ন সাতক্ষীরা-৩ আসনে যুক্ত হওয়ায় তিনি পড়তে পারেন চ্যালেঞ্জের মুখে।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) ॥ এ আসনে কখনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামনগর থেকে, কখনো কালীগঞ্জ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন শ্যামনগর-কালীগঞ্জ এলাকা সীমান্ত ধরে। কিন্তু আকস্মিক সীমানা পরিবর্তন হওয়ায় কালীগঞ্জ অংশের প্রার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। যা তাদের জন্য অনেকটা বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে শ্যামনগর অংশের মনোনীত প্রার্থীরা রয়েছেন অনেকটা সুবিধা নিয়ে।
এই আসনে বিএনপির কমপক্ষে পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে থাকলেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান মনির। বিপরীতে স্বস্তিতে রয়েছেন জামায়াতপ্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। মাঠে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। আর সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক কেন্দ্রীয় নেতাও অংশ নিতে পারেন নির্বাচনে এমন প্রচারও ছিল কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশ জামাত ইসলামের সাথে জটবদ্ধ হওয়ায় তিনি কোন মনোনয়নপত্র জমা দেন নি।
বর্তমানে মাঠে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে তবে এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টির শ্যামনগর উপজেলা শাখা সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রশিদ কিন্তু তিনি ঋণ খেলাপি থাকায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। এই সুযোগে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় জামায়াত। অপরদিকে, সাতক্ষীরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আসনটিতে একবারও জিততে না পারা বিএনপিও চায় প্রথমবারের মতো জিতে আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে।
একইভাবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় তৃণমূলে গণসংযোগের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করতে ব্যস্ত সময় পার করলেও এদের কেউই দলীয় মনোনয়ন পাননি। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ এবং শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য আশেক এলাহি মুন্নাও ছিলেন মাঠে তৎপর থেকে এখন দল ঘোষিত ডক্টর মনিরুজ্জামান মনির এর সাথে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা আল মামুন (হাজী মনির)কে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে চালাতে দেখা গেছে কিন্তু জামায়াতে ইসলামের সাথে জট হওয়ায় তিনি এখন জামায়াতের প্রার্থীর পিছনে কাজ করছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। প্র্রতিপক্ষকে দুর্বল না ভেবে সংসদীয় আসনের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি আমরা। তাদের আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

