
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের উন্নয়ন। ফলে নামমাত্র জোড়াতালি আর পুটিং করে চলছিল দীর্ঘ এই সড়কটি। ফলে চারটি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই সড়কের বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। এদিকে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসানের আশা দেখায় সড়কটি উন্নয়ণ কাজ শুরু হওয়ায়। কিন্তু তা চলছে ব্যাপক ধীরগতিতে।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের এই বৃহৎ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৬২.৩২৫ কিলোমিটারে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৫৬৫কোটি টাকা। যার মধ্যে লাবনী মোড় থেকে বাঁকাল চেকপোস্ট, বাঁকাল চেকপোস্ট থেকে পারুলিয়া গরুরহাট, পারুলিয়া থেকে হাদীপুর, নলতা হাদীপুর থেকে কালিগঞ্জ ফুলতলা, কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে শ্যামনগর মহসিন কলেজ, শ্যামনগর মহসিন কলেজ থেকে ভেটখালি সম্প্রসারণ করা হবে সড়কটি। প্রকল্পটির কার্যাদেশে বলা আছে, ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। যদিও প্রকল্পের মোট মেয়াদ পাঁচ বছর, ইতোমধ্যেই তিন বছর অতিক্রম হয়েছে।
‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ, সড়ক পথে সুন্দরবন’ স্লোগান থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের বেহাল দশা চলছেই। আগের সরকারের সময় একবার এই সড়কটি একনেকে পাস হয়েছিল, তবে এরপর আর কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে খানাখন্দ এত বড় হয়েছে যে, সড়কটি চলাচলের জন্য একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগর ও সুন্দরবনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ঠিক রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, আলিপুর বাজার, আলিপুর শ্মশান, কুলিয়া সহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৬টি স্থানে ইটের সোলিং করে চলাচলের ব্যবস্থা নিয়েছে। পাকা রাস্তার ওপর ইটের সোলিং করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলছেন অনেকেই।
পথচারী গোলাম সরোয়ার, আয়ুব হোসেন, আব্দুস সালামসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘ সময় পর সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতি হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠারগুলোর জনবল কম থাকায় রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু স্থানে মাটি খুঁড়ে রাখায় ধুলায় ভর্তি হয়ে পড়ছে সড়কটি। দ্রুত সময়ে কাজ শেষ না হলে ভোগান্তির শেষ থাকবে না বলেও জানান তারা।
চালক মিলন হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, হযরত আলী বলেন, একদিকে রাস্তা খারাপ আর অন্যদিকে খোঁড়া খুঁড়ি চলছে। এতে দিনের বেলা যানজট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সঠিক সময় যাত্রী ও মালামাল পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। যদি ঠিকাদারের লোক রাতের বেলা বেশি জনবল দিয়ে কাজ করেন তাহলে জনভোগান্তি কম হবে।
এদিকে, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ দুর্ভোগ কমানোর আশ্বাস দিয়ে বলেন, সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের এ সংস্কার কাজ আগামী জুন মাসে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও আরও এক বছর লেগে যেতে পারে। কালিগঞ্জ থাকে ভেটখালী পর্যন্ত রাস্তা বাড়ানোর যে দাবি উঠেছে এ প্রসঙ্গে মিস্টার পারভেজ বলেন এটা টেন্ডার হয়ে গেছে আইনের বাইরে কিছুই করার নেই তবে আমরা নতুন করে আর একটি প্রকল্প রাস্তাটি বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠাবো অনুমোদন হলে কাজ হবে ।কাজ হবে এদিকে এই সড়কে ভেটখালি তারানিপুর খালে, কালভার্ট নির্মাণের দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজানননগর ইউনিয়নের তারানীপুর-ভেটখালী এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ঝুড়ঝুড়ি-হীমখালী খালের সংযোগ স্থলে কালভার্ট নির্মানের জন্য ৩০ শে নভেম্বর ( রবিবার) বিকাল ৪ টায় তারানীপুর – ভেটখালী জামে মসজিদ সংলগ্নে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। মানব বন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সীমান্তবর্তী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুব খোকন,জনপ্রিয় অনলাইন ভোরের সংবাদ পোর্টালের সম্পাদক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মিশুক, সমাজ সেবক আলহাজ্ব শুকুর আলী, মোঃ নুরুজ্জামান,প্রাত্তন ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম,জয়নুব বেগম,বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম লিটন,শফিকুল ইসলাম,সেলিম খাঁন,রমজাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন,গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত সাতক্ষীরা ৪ এর এমপি প্রার্থী মোঃ আলফাত হোসেন সাংবাদিক খালিদ সাইফুল্লাহ ।সেলিম খাঁনের পরিচালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী বলেন ,সাতক্ষীরা সওজ এর অব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমরা প্লাবিত হয়। পানি নিষ্কাষনের সু-বন্দোবস্ত না থাকায় আমাদের চলাচলের রাস্তা,ধান্য ফসলের মাঠ,বসত ভিটা, পুকর পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার কাজ চলমান। রাস্তা সংস্কারের পাশাপাশি কালভার্টটি নির্মান করা আশু প্রয়োজন। কালভার্টটি নির্মাণ হলে খালের পানি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করা যাবে। তারা আরও বলেন, কালভার্ট নির্মানের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক , সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ সরোজমিনে এসে মাপ জরিপ করার পরে আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। তারানীপুর-ভেটখালী এলাকার পানি নিষ্কাষনের জন্য ঝুড়ঝুড়ি-হীমখালী খালের সংযোগ স্থলে কালভার্ট নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে কালিগঞ্জ ফুলতলা থেকে ভেটখালী পর্যন্ত রাস্তাটি নকশা তে ২৪ ফুট করায় এবং সাতক্ষীরা থাকে কালিগঞ্জ ফুলতলা পর্যন্ত নকশাতে ৩৪ ফুট করায় মানববন্ধন করেছেন কালিগঞ্জবাসী তাদের দাবি কালিগঞ্জ থেকে ভেটখালী পর্যন্ত এই রাস্তা ৩৪ ফুট করার জন্য।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিগঞ্জ থেকে ভেটখালী পর্যন্ত রাস্তা ২৪ ফুট থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ এ কর্মসূচি পালন করে। এতে বক্তব্য রাখেন খাঁন আব্দুস সালাম, পল্লী চিকিৎসক গ.ম আব্দুস সালাম, প্রভাষক মাহবুব আলম, প্রভাষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব, মো. মনিরুল ইসলাম, ঠিকাদার মো. জাবের হোসেন, পল্লী চিকিৎসক মো. ফারুক হোসেন, শেখ জাকির হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সওজ ও জনপদ বিভাগ রাস্তার দুপাশের সকল অবৈধ স্থপনা উচ্ছেদ করেছে তাহলে এই জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কেনো ৩৪ ফুটের পরিবর্তে ২৪ করা ফুট হবে? এই বৈষম্য আমরা মানতে পারি না। তাদের দাবি না মানলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী দেন বক্তারা। এ সময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের নেতারা, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত