By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: সাতক্ষীরা সোনার মাটিতে নোনা ফসল
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > সাতক্ষীরা সোনার মাটিতে নোনা ফসল
তাজা খবরসাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সোনার মাটিতে নোনা ফসল

Last updated: 2025/11/28 at 5:36 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 1 month ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ‌লোনা পানিতে সোনা ফলাতে চিংড়ি ঘের গিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মাটির ভৌত গঠন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাটির উর্বরতার পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বছরের পর বছর লোনা পানি আটকে রেখে চিংড়ি চাষের ফলে মাটির এই ক্ষতিকর পরিবর্তনে পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন।
গত চার দশকে জেলার ৬০হাজার হেক্টর চাষযোগ্য জমি কমেছে। ফলবান বৃক্ষে ফল ধরছে না। উজাড় হয়ে যাচ্ছে গাছপালা। উপকূলীয় পরিবেশ হয়ে পড়ছে ভারসাম্যহীন। এতে জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ফসল উৎপাদনও দিন দিন কমছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
কৃষিবিদরা বলছেন,তিন ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের করছেন চাষিরা। ফলে যেসব জমিতে একসময় প্রচুর ধান,পাট ও অন্যান্য ফসল ফলত, সেখানে এখন লোনা পানির চিংড়ি ঘের। এসব চিংড়ি ঘের ফসলি জমি গ্রাস করছে। ফলে কমতে শুরু করেছে কৃষিজমি। অন্য দিকে,অবৈধ ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছেন চিংড়ি ঘের মালিকরা। এতে নদ-নদীও ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। আর এসব অপকর্ম প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটছে। কিন্তু এটা বন্ধ করার ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশির দশকে সাতক্ষীরায় প্রচুর ধান,পাট ও অন্যান্য ফসল ফলত। অথচ গত চার দশকে জেলার ৬০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি লোনা পানির চিংড়ি ঘেরের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা,শ্যামনগর, কালিগঞ্জ সহ আশাশুনি,সদর ও তালা উপজেলায় লবণ পানি আটকে রেখে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়। এসব উপজেলায় আমন ধান চাষের জন্য অধিকাংশ ঘের মালিক যথা সময়ে পানি নিষ্কাশন করতে দেয় না। এতে মাটিতে লবণাক্ততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন অণুজীব, জলাবদ্ধ অবস্থায় অক্সিজেনের অভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে মাটির গঠন হওয়ার জন্য যে উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন তার ঘাটতি দেখা যায়। এ ছাড়া লবণাক্ত মৌলের প্রভাবে মাটির তৈরি হওয়া গঠনও ভেঙে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যা নুযায়ী,২০০১ সালে জেলায় চাষযোগ্য কৃষি জমি ছিল ১লাখ ৭৩ হাজার ৬০৪ হেক্টর; ২০১০-১১ সালে সেটি দাঁড়ায় ১ লাখ৭০ হাজার ৪১৯ হেক্টরে। ২০২২-২৩ সালে কৃষি জমির পরিমাণ আরও কমে দাঁড়ায় ১লাখ ৬৫ হাজার ২৪৫ হেক্টরে। অর্থাৎ দুই দশকে জেলায় প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর কৃষিজমি কমেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের গবেষণায় জানা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫সালের মধ্যে দক্ষিণ বঙ্গের সাতক্ষীরা জেলা সহ আরও কয়েকটি জেলার কৃষিজমি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। চিংড়ি চাষের জন্য নোনা পানি আনতে স্লুইসগেট ছিদ্র করে বাঁধ দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে এসব এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর এলাকার নুর নবী, মুন্সীগঞ্জের বেলাল হোসেন সহ আরও অনেকে জানান,চিংড়ি চাষের জন্য নদীতে বাঁধ দিয়ে
লবণাক্ত পানির প্রবাহ ঘুরিয়ে দিয়ে পুকুর ও ধানের জমিতে নেওয়া হয়। ফলে তিন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। প্রথমত,নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ না থাকায় মাছ সহ জলজ প্রাণী এবং ম্যানগ্রোভ বনের বৃক্ষ অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। দ্বিতীয়ত,লবণাক্ত পানি লোকালয়ের মিঠা পানির পুকুরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। তৃতীয়ত,লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে নেওয়ার ফলে জমি তার উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। যেটা ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তারা।
সাতক্ষীরার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চেয়ারম্যান জিএম মাকসুদুল আলম জানান,তার ইউনিয়নের চার দিকে শুধুই লবণ পানির চিংড়ি ঘের। দিন দিন তা বাড়ছে। এতে ফসলি জমিও আশঙ্কা জনক হারে কমছে। যে জমিতে এক সময় ধান উৎপাদন হতো এখন তাতে লবণ পানির চিংড়ি হয়। ফলে তার ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে,জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। জৈব পদার্থ কম থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। ফলে হ্রাস পাচ্ছে উৎপাদন। লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় এলাকার মাটিতে জলজ উদ্ভিদ নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। জৈব পদার্থের ঘাটতির ফলেও ধানের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মাটি এমনিতেই লবণাক্ত। তার ওপর লবণ পানি বছরের পর বছর আটকে রাখার ফলে মাটির ভৌত গুণাগুণের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। লবণ পানি আটকে রাখা জমিতে দীর্ঘ দিন কাক্সিক্ষত ফলন হবে না। তবে লবণাক্ত সহনশীল জাতের রোপা আমন ধানের চাষ করতে পারলে একই জমিতে বাগদা ও ধান উৎপাদন সম্ভব হবে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমে ব্রিধান-৪৭ ও বিনা ধান-৮ ও ৯ জাতের লবণাক্ত সহনশীল জাতের ধান চাষ করতে হবে। এতে সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.সাইফুল ইসলাম বলেন,অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের বন্ধ করতে না পারলে ফসলি জমি নষ্ট হতে থাকবে। জেলার অনেক এলাকায় জমিতে অতিরিক্ত লবণ পানি উত্তোলনের কারণে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-১) নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সালাউদ্দিন বলেন,চিংড়ি চাষীরা আইন মানছেন না। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ছিদ্র করে ঘেরে পানি তুলছেন। অথচ নদীর বাঁধের ৫০ গজের মধ্যে কোনো চিংড়ি ঘের করার কথা নয়। কিন্তু এ আইন তো মানছেনই না,উপরন্তু নদীর ক্ষতি করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে নদীর তলদেশে থাকা পাইপ অপসারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক ইলাহী বলেন,
লোনা পানির চিংড়ি ঘের ক্রমান্বয়ে সাতক্ষীরার ফসলি জমি গ্রাস করছে। যেসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল ফলত, সেখানে এখন লবণ পানি। তিনি জানান, ১৯৮০সালের পর থেকে সাতক্ষীরার ছয়টি উপজেলার অন্তত ৬০হাজার হেক্টর ফসলি জমি চিংড়ি ঘেরে চলে গেছে। এসব চিংড়ি ঘেরের কারণে সাতক্ষীরা অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। অনেকে কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে জেলার বাইরে চলে যাচ্ছেন।
সাতক্ষীরার পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা জানান,নদী শাসন ব্যবস্থাকে অমান্য করে চিংড়ি ঘের মালিকরা ফসলি জমিতে লবণ পানি তুলছেন। এতে জমির শক্তি নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় অহরহ জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন,সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে পরিকল্পিত উপায়ে লবণ পানির ঘের করা এবং পানি উত্তোলনের নিয়মনীতি করার জন্য। কেননা,অতিমাত্রার লবণ পানি পরিবেশের জন্য হুমকির কারণ। দ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ফসলি জমি সহ এলাকার
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি ঘোষণা : মো: কেফায়েত উল্লাহ-সভাপতি, নূরুল আবছার-সেক্রেটারি। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতরে দ্বীপ জনপদ গাবুরা ইউনিয়ন।যার চার পাশে রয়েছে উত্তাল নদী এবং সবুজ ঘন সুন্দরবন। প্রায় ৪৫ হাজার জনসংখ্যার বসবাস এখানে। বর্তমানে তাদের রাত কাটে পানি আতঙ্কে। চারপাশে  অথৈ সাগরের জোয়ারের লোনাপানি। রয়েছে ২৭ কিলোমিটার মাটির বেড়িবাঁধ। ১৮ শতকের শুরুর দিকে সুন্দরবন আবাদ করে গড়ে ওঠে এ জনপদ। প্রথম দিকে তেমন বেড়িবাঁধের দরকার না হলে ১৯৬০ এর দশকে অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার সাথে গাবুরায়ও বেড়িবাঁধ হয়। উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন। শুরু থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মাটি দ্বারা সংস্কার করা হয়ে আসছে সকল বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম চলাচলের পথ। গাবুরার অধিবাসীরা অধিকাংশ গরীব ও ভুমিহীন। বিত্তশালীরা অনেকে শহরে বসতবাড়ি করেছে। পর্যাপ্ত স্কুল, কলেজ ও চিকিৎসা সেবা না থাকায় অনেক পিছিয়ে আছে এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজিক পরিবেশ।এতসব অপ্রাপ্তির পরও আবহমান বাংলার সাথে তাল মিলিয়ে বসবাস করে আসছে সুন্দরবন, নদী ও সাগরের উপর জিবীকা নির্ভরশীল এখানকার জনগোষ্ঠি।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাস দিনের পর দিন গেড়ে বসেছে। একদিকে জলচ্ছ্বাসে নষ্ট হচ্ছে মাটির বেড়িবাঁধ। অন্যদিকে উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ব্যর্থতায় পর্যবেশিত সরকারি কর্তৃপক্ষ। কয়েক দশক বেড়িবাঁধের সংস্কার না করে যেখানে ভাঙন সেখানে যত্রতত্র পটি দেওয়া হচ্ছে মাত্র। কিন্তু বারবার গুছিয়ে ওঠা পরিবেশকে তছনছ করছে সিডর, আইলা, নার্গিস, ফনী, বুলবুল ও আম্পান নামের ঘুর্নিঝড়। কর্তৃপক্ষের অবহেলার পাশাপাশি বেড়িবাঁধ ধ্বংসে কম দায়ী নয় স্থানীয় চিংড়ি চাষীরা। বেড়িবাঁধ নষ্ট করে ও সরকারী পানিসরবরাহের সুইজ গেট,খাল ও খাসজমিগুলো ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল ১৯৯০ সালের পর থেকে শুরু করে গোটা উপকূলে লবণ পানির চিংড়ি চাষ। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বারবার আন্দোলন করলেও সরকারি সাহায্য আসে প্রভাবশালীদের পক্ষে। লবণ পানির চিংড়ি চাষের কারণে সবচেষে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন বিত্তের পরিবার। যাদের অল্প বসতভিটা বা জায়গা আছে চিংড়িচাষীদের কারণে তাদের ভিটায় ও জায়গায় লবণাক্ততার কারণে সম্ভব হচ্ছেনা স্বীকার, ফসল ফলানো। এখন আর গাবুরায় ৭০% দরিদ্র জনগণ চায়না চিংড়ি চাষ। অভিশপ্ত চিংড়ি চাষের কারণে গোটা উপকূলের সবুজ প্রকৃতি আজ ধুসর। ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীন বৈচিত্র্য। বার বার গড়ে তোলা পরিবেশ ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা বেড়িবাঁধ ধ্বংস হওয়ার কারণে লবণপানির মৎসচাষ ভিন্ন ফসল ফলানো সম্ভব হবেনা। দেশের সচেতন মহল পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা দেখালেও এখানে তারা বাদ প্রতিবাদ করছেনা নিজেদের জড়িত থাকার কারণে। তবে বেড়িবাঁধের অবৈধ ব্যবহার, খাসজমি, সুইসগেট ও সরকারি খাল ব্যবহার করে মৎসচাষের বিরুদ্ধে সরকারী আইনের কার্যকারীতাই রক্ষা করতে করতে পারে এই অবহেলিত জনপদ।
উপকূলবাসীর একান্ত দাবী ও দাবীর যৌক্তিক কারণ দর্শাইয়ে দু’দশক ধরে কথিত জলবায়ু সহনশীল টেকসই বেড়িবাঁধ তৈরী করার আবেদন করা হচ্ছে।
একদিকে দুর্যোগসহনশীল বাঁধ অন্যদিকে বেড়িবাঁধের ভিতরে লবণপানির মৎসচাষ বন্ধ করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে সহস্রাধিক মৎস ঘের আছে, সব মৎস ঘেরগুলি অবৈধভাবে লবণপানি উত্তোলন করে ও সরকারি খাসজমি ও খাল দখল করে তৈরী করা হয়েছে বেশিরভাগ। গাবুরায় ৯টি স্লুইস গেট এর মধ্যে ৫ টি, নতুন কালভার্ট ৪টি, সরকারি বড় খাল ৭টির মধ্যে ৪টি, ছোট বড় শতাধিক সরকারি খাল অবৈধ দখলে আছে মৎসচাষীদের। নদীর চরে নাম মাত্র সরকারি ইজারা নিয়ে প্রাকৃতিক বনায়ন কেটে তৈরী করা হয়েছে প্রায় শতাধিক একর জায়গা জুড়ে মৎসঘের
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমিকর্মকর্তা, বনবিভাগ শুধুমাত্র তদন্ত করেই ক্ষ্যান্ত, এসব মহলে অর্থনৈতিক দুর্নিতীর অসংখ্যা উপখ্যান জনমুখে। প্রভাবশালী মৎসচাষীদের কারণে নিরবতায় পর্যবেশিত হয় সব আন্দোলন। সরকারের উচ্চ মহল এবং পরিবেশবাদী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলকে সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন উপকূলের মানুষ।
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসটি বার্ষিক ইভেন্ট যা পৃথিবীতে জীবনকে সমর্থন করার জন্য মাটির তাৎপর্য প্রচার করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। এটির লক্ষ্য কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ এবং আরও অনেক কিছুতে মাটি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে সম্পর্কে ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়কে সচেতন করা। মাটির স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব কেন্দ্রীভূত করা এবং মৃত্তিকা সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার পক্ষে সমর্থন করার জন্য প্রতি বছর ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস (ডড়ৎষফ ঝড়রষ উধু) পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- “মাটি ও পানিঃ জীবনের উৎস”।
সোমবার সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় হতে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে শেষ হয়। র‌্যালী শেষে কৃষি তথ্য সার্ভিসের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলার জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন, সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও মৃত্তিকা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (এসআরডিআই অংগ)র প্রকল্প পরিচালক অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শঙ্কর কুমার মজুমদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি এর কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য অফিসার, জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, জেলা তথ্য অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক প্রমূখ। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় মৃত্তিকা বিজ্ঞানী অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ যে সকল খাবার খায়, তার অন্তত শতকরা ৯৫ ভাগ আসে মাটি হতে। ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৯৩০ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে শতকরা ৬০ ভাগ বেশি খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। পৃথিবীর পানির মাত্র ২.৫% হল সুপেয় পানি এবং বাকি ৯৭.৫% হল ভূগর্ভস্থ পানি ও বরফ। সুপেয় পানির ০.৩%-এরও কম অংশ পাওয়া যায় নদীতে, হ্রদে ও বায়ুমন্ডলে এবং তার চেয়েও ন্যূনতর অংশ পাওয়া যায় বিভিন্ন জীবের শরীর ও উৎপাদিত পণ্যে। ১৯৭১ সালে চাষযোগ্য জমি ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর, খাদ্য উৎপাদন হতো ১ কোটি ১০ লক্ষ টন।
তিনি বলেন, বর্তমানে চাষযোগ্য জমি ৮৮ লক্ষ ২৯ হাজার হেক্টর, খাদ্য উৎপাদন ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ টন (চাল) । স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের তুলনায় চাষযোগ্য জমি হ্রাস পেয়েছে অর্ধেকেরও বেশি কিন্তু তার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণের বেশি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের সঠিক নীতি প্রণয়নের ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২ এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষির উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সীমিত মৃত্তিকা সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার কোন বিকল্প নেই।
মৃত্তিকা বিজ্ঞানী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৮,৭৬০ হেক্টর (০.৭৩%) আবাদি জমি অনাবাদি জমিতে পরিণত হচ্ছে। যেখানে গৃহ নির্মাণ হচ্ছে ৩০,৮০৯ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ (শতকরা প্রায় ৩৪ ভাগ) মাটি অবক্ষয়ের শিকার। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা আশংকা করছে যে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ অবক্ষয়ের এই হার নব্বই শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮টি জেলার ১০৭টি উপজেলার মাটি ও পানি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততায় আক্রান্ত। ১৯৭৩ সালে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ লক্ষ ৩৩ হাজার হেক্টর। ২০০০ সালে বেড়ে গিয়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টরে দাড়িয়েছে এবং ২০১০ সালে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার হেক্টর । লবণাক্ততার কারণে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে কৃষক ভাইয়েরা ফসল আবাদ করতে পারে না।
মৃত্তিকা বিজ্ঞানী আরো বলেন, জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করার ফলে এলাকায় লবণাক্ততা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবার অন্যতম একটি কারণ। লবনাক্ততার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির উর্বরতার মান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। মুখ্য পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ও গন্ধক এবং গৌণ পুষ্টি উপাদান দস্তা ও বোরন এর ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। লবণাক্ততা, নদী ভাঙন ইত্যাদি কারণে প্রতি বছর এক দিকে কৃষি জমি যেমন কমে যাচ্ছে অপরদিকে ভেজাল সার ও অপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটির স্বাস্থ ও পরিবেশ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । লবণাক্ত এলাকায় ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য খামার পুকুর প্রযুক্তি, মালচ ব্যবহার ও কলস সেচের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদা ফসল এর আবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব। মাটি হলো খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি। তাই মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার বিকল্প নেই। তাই আমাদের উচিত মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সুষম মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা যাতে মাটির কাংখিত উর্বরতা ধরে রাখা যায় এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
প্রধান অতিথি  মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, মৃত্তিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই সম্পদ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে মাটির পুষ্টি উপাদানের মাত্রা কমে যাচ্ছে,অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। সভাপতির বক্তৃতায় শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, মাটিকে আমাদের সম্পদে পরিণত করতে হবে। তবেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের মাটিকে সোনার চেয়ে খাঁটি বলা হয় অথচ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এই মাটি আজ হুমকির সম্মুখীন। তাই আমাদের উচিত মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা যাতে মাটির কাংখিত উর্বরতা ধরে রাখা যায় এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়। জেলার অধিকাংশ কৃষিজমিতে মিলছে উচ্চ মাত্রায় লবণ। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে গেছে। কৃষিজমির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। কৃষকেরা বলছেন, অতি মাত্রার লবণের কারণে খেতের অধিকাংশ ধানগাছ শুকিয়ে গেছে। এতে খরচই উঠবে না। এই পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও। তাঁরা ব্রি উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু ধান চাষসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণের দেখা মিলছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার খাজাবাড়িয়া এলাকার বোরো চাষের জমিতে সর্বোচ্চ ২৫ ডিএস পর্যন্ত লবণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় ভূগর্ভের পানিতে লবণের উপস্থিতি ২৫ ডিএসের বেশি। ফলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে বোরো ধান গবেষণা প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষামূলক ধান চাষে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলার কামারগাতি গ্রামের বোরোচাষি ফজর আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। কিন্তু জমিতে অতি মাত্রার লবণের কারণে বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হবে না। খেতের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ধানগাছ লবণের কারণে শুকিয়ে গেছে।
একই গ্রামের চাষি অমল কুমার বলেন, ‘৮ বিঘা জমিতে ইরি ধান লাগিয়েছিলাম। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ছিল। তাই ফলন ভালো হয়নি। ধান কেটে বাড়ি তোলা পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার ধান পাব কি না সন্দেহ।’
ব্রি সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণের দেখা মিলেছে। খাজাবাড়িয়া এলাকার বোরো চাষের জমিতে ২৫ ডিএস পর্যন্ত লবণ পাওয়া গেছে, যা ভয়াবহ। ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রাও বাড়ছে। ফলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে বোরো ধান গবেষণা প্রকল্পের অধীনে লবণ এলাকাতে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন ধান চাষ করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফলন হয়নি।’
সাজ্জাদুর বলেন, ‘লবণাক্ততার কারণে ধানের গাছ শুকিয়ে গেছে। তবে ওই সব লবণাক্ত এলাকায় ব্রি উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু ধানের জাত যেমন, ব্রি-ধান ৬৭, ৯৯, ৬৩ ও ১০৮ চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছি। এসব জাত যেমন লবণ সহ্য করতে পারবে, তেমনি উৎপাদনও খুব ভালো হবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাতক্ষীরার কৃষি অঞ্চলে। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। এ ছাড়া টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে হবে।’
সাতক্ষীরার মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সামছুন নাহার বলেন, ‘সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার জমিতে লবণাক্ততা ব্যাপক হারে বাড়ছে। কালীগঞ্জ উপজেলার জমিতে ২০২২ সালে লবণের উপস্থিতি ছিল ৪.১ ডিএস। অথচ ২০২৫ সালে আমরা পাচ্ছি ১০.৯ ডিএস মাত্রায়।’সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও চরম তাপমাত্রার মতো বিপদের সম্মুখীন বাংলাদেশ। এসব থেকে সুরক্ষিত থাকার চেষ্টাই যখন প্রাণান্তকর—ঠিক তখনই ব্যাপকহারে চিংড়ি চাষের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির শিকার হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
১৯৮০’র দশক থেকে উন্নয়ন সংস্থাগুলো উপকূলীয় এলাকার মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায় হিসেবে চিংড়ি চাষকে উৎসাহিত করেছে। অথচ এর সামাজিক উদ্বেগগুলোকে তারা পরোয়া করেনি/ ছবি- সংগৃহীত
ঝুঁকে বসে সারি সারি খাঁচাবন্দি কাঁকড়া পরীক্ষা করছিলেন আসাদুল ইসলাম। এক মনে খুঁজে চলেছিলেন, সদ্য খোলস ছেড়েছে এমন কাঁকড়া। এই অবস্থায় কাঁকড়ার খোলস নরম থাকে অল্পকিছু সময়ের জন্য। তাই দ্রুত সেগুলোকে ধরার পর রপ্তানির জন্য হিমায়িত করতে হয়।
আসলে কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্নই দেখছেন আসাদুল। এমন স্বপ্ন দেখতেন তার বাবাও। তবে কাঁকড়া নয়, চিংড়িতে।
এ ইতিহাসের শুরু ১৯৮০’র দশকে। তখন থেকেই বাড়তে শুরু করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, বাড়ছিল জলোচ্ছ্বাস। এতে প্রতিনিয়ত নদীর কূল উপচে ফসলি জমিতে অনুপ্রবেশ শুরু করে নোনা পানি। নষ্ট হতে থাকে ক্ষেতের ফসল। এসময় আসাদুলের বাবাসহ উপকূলের লাখো চাষি ধান ক্ষেত লোনাপানিতে প্লাবিত করে- এসব ছোটবড় পুকুর বা ঘেরে ব্ল্যাক টাইগার প্রন প্রজাতির চিংড়ি চাষ শুরু করেন।
এতে সমর্থন দিয়েছিল তৎকালীন সরকারও। সরকারিভাবে চিংড়িকে রপ্তানির সম্ভাবনায় ভরপুর এক পণ্য হিসেবেও দেখা হয়। বেসরকারি সহায়তা সংস্থাগুলো ধান চাষ থেকে চিংড়ি চাষের রুপান্তরকে জলবায়ু সহনশীলতা তৈরির বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান হিসেবে প্রশংসা করে।
এভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার একর জমিকে চিংড়ি চাষের আওতায় আনা হয়।
২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানার পর সাতক্ষীরায় নিজের প্লাবিত হ্যাচারিতে আটকে পড়া এক খামারি
আসলে সেসময় মনে করা হয়েছিল, কৃষকেরা যেহেতু লোনা পানি ঠেকাতে পারছেন না ফসলের ক্ষতি মাঝেমধ্যেই হচ্ছে- তাহলে লোনা পানিতে ক্ষেত ডুবিয়ে তাতে চিংড়ি চাষ করলে বরং বাড়তি দুই পয়সা রোজগার হবে। এই কৌশল একটা পর্যায় পর্যন্ত কাজেও এসেছিল। এসময় রপ্তানি বাজারে সফল হয়ে বাংলাদেশে ‘সাদা সোনা’ খ্যাতিলাভ করে চিংড়ি চাষ।
তবে মাত্র কয়েক দশক উচ্চ আয়ের রিটার্ন দেওয়ার পর দেখা দিতে থাকে বিপদ। প্রাকৃতিক পরিবেশের চরম বিপর্যয় তৈরি হয়; কয়েক দশক ধরে সেই দুরবস্থা আজো বহন করে চলেছে উপকূলের মানুষ। চিংড়ির ঘের নিয়ে খুন-জখমও নতুন কিছু নয়। এতে আরো প্রমাণিত হয়েছে জলবায়ুর সাথে ভুল উপায়ে মানিয়ে চলার চেষ্টা ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ বাড়ায় বৈ কমায় না। এতে তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় আরো দুর্বল হয়ে পড়ে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের ভূগোলবিদ কাসিয়া পাপরোকি। তিনি ‘থ্রেটেনিং ডিসটোপিয়া: দ্য গ্লোবাল পলিটিক্স অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপশন ইন বাংলাদেশ’ গ্রন্থেরও লেখক।
কাসিয়া বলেছেন, “চিংড়ি চাষকে এককালে জলবায়ু-পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে চলার কৌশল বলা হয়েছিল। যেসব এলাকা ইতোমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে, সেখানে একে একমাত্র উপায় বলে উল্লেখ করেছিল উন্নয়ন সংস্থাগুলো। অথচ যেসব সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা এড়ানোর জন্য এটি গ্রহণ করা হয়- এখন সেই সমস্যাগুলোই এটি তৈরি করছে।”
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন এবং আরো শক্তিশালী সাইক্লোনের আঘাত হানা, প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাস ও চরম তাপমাত্রার মতো নানান জলবায়ু বিপদ কবলিত বাংলাদেশ। এসব থেকে সুরক্ষিত থাকার চেষ্টাই যখন প্রাণান্তকর—ঠিক তখনই ব্যাপকহারে চিংড়ি চাষের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির শিকার হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
কাঁকড়া চাষি আসাদুল ইসলাম থাকেন গাবুরা দ্বীপে। বঙ্গোপসাগরের কাছে খোলপেটুয়া নদী-বিধৌত এই দ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন দিয়েও বেষ্টিত। জলবায়ু সংবেদনশীল দ্বীপটিতে বাস করে ৪০ হাজার মানুষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় এলাকার কৃষিজমির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানিতেও অতি মাত্রার লবণ পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার কৃষকদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বোরো চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বিলের মধ্যে সরকারি খালগুলো উন্মুক্ত করার পাশাপাশি জলাশয় এবং বেশি বেশি পুকুর বা দিঘি খননের সুপারিশ করা হচ্ছে।

জন্মভূমি ডেস্ক November 29, 2025
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article বাধাহীন হোক সাংবাদিকতা
Next Article জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চেপে বসেছে ‌দিনমজুরদের কাঁধে?

দিনপঞ্জি

January 2026
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
« Dec    
- Advertisement -
Ad imageAd image
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 5 hours ago
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 hours ago
যশোর

যশোরে এক বছরে ৬০ খুন,বাড়ছে হত্যাকাণ্ড

By জন্মভূমি ডেস্ক 10 hours ago

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 5 hours ago
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 hours ago
তাজা খবররাজনীতি

মায়ের ত্যাগ-উদারতার উদাহরণ থেকেই শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেম খুঁজে পাই: তারেক রহমান

By জন্মভূমি ডেস্ক 12 hours ago

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?