
সম্পদ ও আয়করে এগিয়ে বিএনপির হাবিব, মামলায় শীর্ষে জামায়াত প্রার্থী
গাজী জাহিদুর রহমান,তালা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সংসদীয় আসন ১০৫, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোট পাঁচজন প্রার্থী।
প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অর্থ-সম্পদ ও আয়কর প্রদানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। অপরদিকে, মামলার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ।
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব: হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবের আর্থিক সক্ষমতা এই আসনের অন্য সব প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। হিসাব অনুযায়ী, অন্য চার প্রার্থীর মোট সম্পদ একত্র করলেও তা তার সম্পদের তুলনায় কম। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কৃষি, ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৩ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। তার স্ত্রী শাহানা পারভীন বকুলের কৃষি ও আইনজীবীসহ অন্যান্য খাত থেকে বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে রয়েছে ৫২.৭৫ একর কৃষিজমি (আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা), রাজধানীর বনানীতে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট এবং ১০ লাখ টাকার পৈত্রিক ভিটাবাড়ি। এছাড়া ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার যানবাহন, ২০ ভরি স্বর্ণ, ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা সঞ্চয়, নগদ অর্থ ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১৩ শতক জমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা সঞ্চয়, ২০ ভরি স্বর্ণ ও ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেখানো হয়েছে।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব ১৯৯৬ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি খারিজ, ৫টি বিচারাধীন ও ৪টি স্থগিত রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এসসি এবং পেশা হিসেবে ঠিকাদারি ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ: জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ’র হলফনামা অনুযায়ী, তার কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ২০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার ২৩ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নামে ১ একর কৃষিজমি রয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরে একটি একতলা পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য ৬ লাখ ৪২ হাজার ১৫৮ টাকা এবং গ্রামে আরেকটি পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা। তার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৪৬ হাজার ৬০০ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল থেকে বার্ষিক ভাতা হিসেবে পান ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৬ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২২ টাকা, স্থায়ী আমানত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪০ টাকা এবং কোম্পানির শেয়ার ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৬ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ২১ হাজার ১ টাকা। তার স্ত্রী মোছা. আয়েশা জামিলার নামে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ১১৪ টাকা স্থায়ী আমানত এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০ টাকার কোম্পানি শেয়ার রয়েছে। বড় মেয়ে সুমাইয়া জিহানের নামে দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৭ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এম.এসসি পাস এবং পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে মোট ৪১টি মামলা রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল করিম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী মোছা. নাজমুন্নাহার বিজলীর নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ফাজিল এবং পেশা হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী: বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. ইয়ারুল ইসলাম আইন পেশা থেকে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এল.এল.এম।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী: জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জিয়াউর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএল.বি। হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকা, পৈত্রিক সূত্রে আয় ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর চাকরি থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ২ লাখ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট ৪০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এছাড়া ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

