
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর : সাতক্ষীরা ৪ দাঁড়িপাল্লার সু বাতাস নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ধানের শীষ। সাম্প্রতি এই আসনটিতে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে ২৩ জানুয়ারি বলা হয়েছে তারা ৩ হাজার ভোটারের মধ্যে জরিপটি চালিয়েছেন তার মধ্য ১৯৮২ টি ভোট দাঁড়িপাল্লার দিকে আর এক হাজার ১৮ টি ভোট ধানের শীষের দিকে সমর্থন দিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা বি,বি এমসি এর ডিরেক্টর মাজহারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন এক সপ্তাহ ধরে আমাদের সংস্থার মাঠ কর্মীরা সাতক্ষীরা ৪ শ্যামনগর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্য এই জরিপ টি চালিয়েছেন। তাদের করা জরিপে ৩ হাজার ভোটারের মধ্য এই মতামত উঠে এসেছে। সে কারণে সাতক্ষীরা ৪ আসনে খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে ভোটারদের বাগিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে মাঠে কাজ করছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ডক্টর মনিরুজ্জামান। তিনি প্রতিদিন জনগণের দ্বারে দ্বারে ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট বাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর জামাতে ইসলামের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম তিনি ভোটারদের মাঝে বলছেন আমি তো নতুন প্রার্থী নয় আমি আপনাদের পরীক্ষিত সে কারণে আপনারা আমার পূর্বের খতিয়ান দেখে ভোট দিবেন এবং আপনাদের কাছে পুরানো খতিয়ানের হিসাব অনুযায়ী ভোটের দাবিদার আমি। তবে অন্য আরেকটি বেসরকারি সংস্থা তথ্য মতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে না যায় সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভোট যে দিকে টানবে সেই প্রার্থীর বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি সাতক্ষীরা ৪ আসনে।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী জেলা সাতক্ষীরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন সাতক্ষীরা-৪। সুন্দরবনসংলগ্ন বৃহত্তম উপজেলা শ্যামনগর নিয়ে গঠিত এই আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই বরাবরই আলোচিত। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত সীমানা পুনর্নির্ধারণে পূর্বের রূপে ফিরে এসেছে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যা আগে সাতক্ষীরা-৫ নামে পরিচিত ছিল।
দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫৩৬ জন ভোটার নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, তেমনি রাজনৈতিক বাস্তবতায় কারও কারও মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা। বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সুর থাকলেও তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। জাতীয় পার্টির উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াত, যারা আসনটি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় সক্রিয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্য দিকে সাতক্ষীরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই আসনে একবারও বিজয়ের স্বাদ না পাওয়া বিএনপি এবার প্রথমবারের মতো জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া। দলটির নেতাদের ভাষায়, সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিজয় অর্জন করে তারা দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘উপহার’ দিতে চান। ফলে এবারের নির্বাচনে এখানে মূল লড়াই যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে- এমনটাই ধারণা স্থানীয় রাজনীতিসংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসন ছিল। সে সময় শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল সাতক্ষীরা-৫ আসন। ২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাসে সাতক্ষীরায় সংসদীয় আসন কমিয়ে চারটি করা হয়। তখন শ্যামনগরের সাথে কালিগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন যুক্ত করে গঠন করা হয় সাতক্ষীরা-৪ আসন। সর্বশেষ সীমানা পুনর্নির্ধারণে আবারো পরিবর্তন এনে শুধুমাত্র শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন গঠন করা হয়েছে।
সূত্র মতে, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও পূর্বে কালিগঞ্জ আংশিক) এলাকায় স্বাধীনতা-পরবর্তী অনুষ্ঠিত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ডামি, নৈশ্য ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনসহ সাতটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় পার্টি একবার এবং মুসলিম লীগ একবার এই আসনে বিজয়ী হয়। আসনের সীমানা পরিবর্তনের কারণে কখনো শ্যামনগর, কখনো কালিগঞ্জ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ডামি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আতাউল হক দোলন এক লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৫ ভোটে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত নোঙর প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজা পান ৩৮ হাজার ৮৮ ভোট।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের নৈশ্য ভোটের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দার পান দুই লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম পান ৩০ হাজার ৪৮৬ ভোট। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনের ফলে আওয়ামী লীগের এস এম জগলুল হায়দার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম গোলাম রেজা এক লাখ ৫১ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সেই নির্বাচনে জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। এবারের নির্বাচনে তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকা জামায়াতের একক প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবার জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। আামিরে জামায়াতের দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাচ্ছি। আশা করছি, জনগণ দাঁড়িপাল্লাকে এবার বিজয়ী করবে।’
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত