By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: সামাজিক সুরক্ষার বৃত্তের বাইরে এক নীরব জনগোষ্ঠী
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > সামাজিক সুরক্ষার বৃত্তের বাইরে এক নীরব জনগোষ্ঠী
সাতক্ষীরা

সামাজিক সুরক্ষার বৃত্তের বাইরে এক নীরব জনগোষ্ঠী

Last updated: 2025/07/11 at 4:13 PM
করেস্পন্ডেন্ট 6 months ago
Share
SHARE

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: ঠিকানা আছে, তবু পরিচয় নেই: সাতক্ষীরার জলবায়ু উদ্বাস্তুদের বঞ্চনার শেকড়  মনোয়ারা বেগম (৬৬) এর একটি ঠিকানা আছে-সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর বউ বাজার বস্তি। কিন্তু রাষ্ট্রের খাতায় তার কোনো পরিচয় নেই। ১৫ বছর আগে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে খোলপেটুয়া এবং কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমিসব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে তিনি এই শহরে এসেছিলেন। সেই থেকে তিনি শহরের ভোটার নন, গ্রামের ঠিকানাও বিলীন। ফলস্বরূপ, বয়স্ক এবং বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেও তিনি বারবার প্রত্যাখ্যাত।
মনোয়ারা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “২০০২ সালে আমার স্বামী মারা যায়। মানুষের বাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে কোন রকম চলতো। ২০০৯ সালে আইলার সময় বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা শহরে চলে আসি। অনেক কষ্টে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কামলানগর বউ বাজারে ছোট একটি তরকারির দোকান আছে। সেখানে বেচাকেনা করে যে আয় হয়, সেটা দিয়ে কোন রকম ছোট মেয়েকে নিয়ে থাকি। আমি গাবুরা ইউনিয়নে ভোটার কিন্তু শহরে থাকি। আমরা শহরের কেউ না। সরকার আমাদের দেখেও দেখে না।” বিধবা ভাতার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে ঘুরছেন তিনি।
মনোয়ারা বেগম বলেন, কাউন্সিলর সাহেব বলেছেন, ‘আপনার তো ভোটার আইডি কার্ড গ্রামের। এখানকার ভোটার না হলে আমি কিভাবে নাম দেব?’ গ্রামের ঠিকানায় এখন আর কিছুই নেই। মেম্বর-চেয়ারম্যানও কেউ চেনে না। এই বয়সে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তরকারি বিক্রি করতে হয়। মরার আগে কি এই ভাতা জুটবে না?”
শুধু মনোয়ারা বেগম একা নন। সাতক্ষীরা শহরের মেহেদীবাগ, কামালনগর, সুলতানপুর, বাঁকাল ইসলামপুর কলোনী, রাজার বাগান, গদাইবিল, মাঠপাঠা, বদ্যিপুর কলোনী, গড়েরকান্দা, বকচরাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় গড়ে ওঠা ৪৭টি বস্তিতে বাস করছেন এমন হাজারো জলবায়ু উদ্বাস্তু, যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে গ্রামে সর্বনাশা নদীভাঙন আর লবণাক্ততার ছোবলে সহায়-সম্বল হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরে একটু আশ্রয়ের আশায় এসেছেন, তারাই এখন শহরের বুকে ‘পরিচয়হীন’। তারা শহরের বাসিন্দা, কিন্তু নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত-রাষ্ট্রের খাতায় তারা যেন অদৃশ্য। স্থায়ী ঠিকানা আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা ভিজিএফ কার্ডের মতো ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষা থেকে।
এই সংকট নিরসনে জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিশেষ নাগরিক কার্ড, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং কাউন্সিলরের প্রত্যয়নের মতো উদ্যোগ তাদের সাময়িক সুবিধা দিলেও, ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি ও স্থায়ী আবাসনই পারে তাদের নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে।
সাতক্ষীরা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ৩১.১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় দুই লাখের বেশি মানুষের বসবাস। এখানে মোট ৪৭টি বস্তি আছে। এর মধ্যে ১৫টি সরকারি ও কিছু গুচ্ছ বস্তি রয়েছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় ৩৪হাজার খানা রয়েছে। এরমধ্যে বস্তিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫০হাজার। এর সিংহ ভাগ বিভিন্ন সময় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাড়িত হয়ে এখানে সরকারি অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বসতি গড়েছেন।
বাঁধার দেয়াল: ঠিকানা আছে, স্বীকৃতি নেইতথ্য অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর, আতির আমবাগান বস্তি, মধুমালাডাঙি, গুটিরডাঙ্গি, কামালনগর, ইটাগাছা, রাজারবাগান, বাঁকাল ইসলামপুর, এল্লারচরসহ বিভিন্ন বস্তি ঘুরে দেখা গেছে, এমন শত শত পরিবার, যাদের শেকড় শ্যামনগর, আশাশুনি বা কয়রার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে। জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম আঘাতে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা শহরে এসেছেন কয়েক বছর আগে। কিন্তু তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে এখনও রয়ে গেছে বিলীন হয়ে যাওয়া গ্রামের ঠিকানা। শহরের বাসিন্দা হিসেবে কোনো হোল্ডিং নম্বর বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র না থাকায় তারা সরকারি তালিকার জন্য বিবেচিত হচ্ছেন না।
সাতক্ষীরা পৌরসভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের সমীক্ষা অনুযায়ী, এই পৌরসভায় মোট ১০হাজার ১৩৩টি পরিবার বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে। এর মধ্যে সিংহভাগই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ শিকার। মোট বাস্তুচ্যুত পরিবারের মধ্যে ৮হাজার ৫০১টি পরিবারের ৩৬হাজার মানুষ পরিবেশগত কারণে, যেমন-ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে শহরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এটি মোট বাস্তুচ্যুত পরিবারের প্রায় ৮৪শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের স্রোত সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছে পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডে।তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে। এই দশকে মোট ৪হাজার ৬১৫টি পরিবার সাতক্ষীরা পৌরসভায় স্থানান্তরিত হয়েছে।
স্থানীয় ও জাতীয় সংকট: সাতক্ষীরার আয়নায় বাংলাদেশসাতক্ষীরা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এর পৌর এলাকা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এই মানুষদের আগমন শহরের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়ভাবে এটি একটি জ্বলন্ত সমস্যা হলেও, এর শিকড় জাতীয় সংকট পর্যন্ত বিস্তৃত। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা খুলনার মতো বড় শহরগুলোতেও একই চিত্র। সাতক্ষীরার এই বাস্তবতা মূলত অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসন এবং তার ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের একটি জীবন্ত দলিল, যা জাতীয় নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।
পরিচয় সংকটের আমলাতান্ত্রিক জালজলবায়ু উদ্বাস্তুদের বঞ্চনার মূলে রয়েছে পরিচয়হীনতা। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের যে ঠিকানা উল্লেখ আছে, তার অস্তিত্ব এখন আর নেই। শহরে নতুন করে ভোটার হতে বা ঠিকানা পরিবর্তন করতে প্রয়োজন হয় হোল্ডিং নম্বর অথবা বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র, যা বস্তিতে বসবাসকারী এই মানুষদের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়ন থেকে ইয়াসিন গাজী (৫৬) নদী ভাঙনের ফলে সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকান্দা বস্তিতে ঠাঁই হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডেও জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলর তাকে আগে ভোটার হয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ভোটার হবো কীভাবে? আমাদের তো কোনো পাকা ঘর নেই, হোল্ডিং নম্বরও নেই। এই কাগজ, ওই কাগজ চাইতে চাইতে বছর পার হয়ে যায়, কিন্তু কাজ হয় না। নির্বাচন অফিসে একাধিকার গিয়েছি। তারা টাকা চেয়েছে, সেজন্য আর ভোটার হতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, ২৫ বছর ধরে এই পৌরসভায় বাস করছি। আজ পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পায়নি। করোনাকালে আমার তালিকা নেওয়া হয়েছিলো ২ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিল। পরে মেয়র সাহেব নিজে আমার বাড়িতে এসেছিলেন কিন্তু এখানে ভোটার না সেজন্য আর টাকা পায়নি।”
এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দুষ্টচক্রেই আটকে গেছে তাদের পরিচয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: বঞ্চনার করুণ গল্পএকই অবস্থা আশাশুনির প্রতাপনগর থেকে আসা মমতাজ খাতুন। ঘূণিঝড় আম্পানের পর স্বামী সন্তানকে নিয়ে শহরে এসেছেন। ওই এলাকার পাকা ঘর থাকলেও সব চলে গেছে নদীতে। সন্তানসহ পরিবারের মানুষের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে হিমশিম খান তিনি এবং তার স্বামী। ভিজিএফ কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ফল শূন্য। এছাড়া তিনি আরও একটি কথা জানালেন, তারা হচ্ছেন সামাজিক বৈষম্যের শিকার। নদী ভাঙন এলাকার লোক বা ‘দক্ষিণে’ বলে গালি দেওয়া হয়।
বিকল্প জীবিকা ও সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎসামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলো শহরে এসে অসংগঠিত খাতের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন। পুরুষেরা রিকশা চালানো, দিনমজুরি বা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন, আর নারীরা বাসাবাড়িতে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছেন। এসব কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং আয়ও সামান্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশুই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। কেউ কেউ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে।
সুযোগ-বঞ্চনার বহুমুখী প্রভাবপরিচয়পত্রের অভাবে এই মানুষগুলো কেবল বয়স্ক বা বিধবা ভাতা থেকেই বঞ্চিত নন, তারা স্বাস্থ্যকার্ড, সরকারের ভর্তুকি মূল্যের খাদ্যপণ্য (ওএমএস) এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। অনেক অভিভাবক সন্তানের জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করতে পারছেন না। ফলে, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করা এক প্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড মেহেদীবাগ আব্দুল মুত্তালিব বলেন, “আমার মেয়েটার বয়স সাত বছর। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গেলে জন্মনিবন্ধন চায়। সেটা বানাতে গিয়ে দেখি আমার নিজেরই ঠিকানার ঠিক নেই। আমাদের কপাল তো পুড়েছে, বাচ্চাদের ভবিষ্যৎও কি অন্ধকারে থাকবে?”
শেকড় হারানোর মনস্তাত্ত্বিক চাপঘর, জমি, সামাজিক প্রতিপত্তিÍসবকিছু হারিয়ে এই মানুষগুলো এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। গ্রামে তারা পরিচিত ছিলেন, তাদের একটি সামাজিক অবস্থান ছিল। কিন্তু শহরে তারা কেবলই ‘বস্তিওয়ালা’ বা ‘উঠে আসা লোক’। এই পরিচয়হীনতা এবং অনিশ্চয়তা তাদের মধ্যে হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি করছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “আইপিসিসির তথ্যমতে, ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলের ১৭ শতাংশ মানুষ উদ্বাস্তু হবে। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব স্পষ্ট। একই সাথে ৪০ শতাংশ জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। দলে দলে মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে শহরের বস্তিতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত অসহায় দরিদ্র পীড়িত এসব মানুষ পৌরসভার নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। একই সাথে তারা পৌর এলাকায় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। সঠিক তথ্য না থাকায় জলবায়ু উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া পৌরসভার জন্য কষ্টসাধ্য। পৌরসভায় ও একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে একটি ডাটাবেজ তৈরী করেছি। বস্তিবাসীর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করছি। ক্ষতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করে ভ্যান, সেলাই মেশিনসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ছাগল পালনের জন্য খামারও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডাটাবেজ পৌর এলাকায় মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিসহ নানাবিধ কর্মসূচির উপকারিতা প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌছাতে এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”জলবায়ু উদ্বাস্তু নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজনমানবাধিকার কর্মী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে প্রতি বছর দুর্যোগ নেমে আসে। উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের কারণে মানুষ ঘরবাড়ি এবং জমির দলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। এর ফলে তারা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি তাদের সন্তানদের শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ এখন সবখানেই জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, পৌরসভা এবং জেলা প্রশাসনকে একটি যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে উদ্বাস্তুরা বর্তমান ঠিকানাতেই নতুন আইডি কার্ড পান। এটি রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন এবং তারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না।”
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সংকট ও উত্তরণের উদ্যোগ:বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের কর্মকর্তা নাজমা খাতুন বলেন, “সম্প্রতি আমরা একটি জরিপ করে দেখেছি, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি বস্তিতে প্রায় ৫০হাজার মানুষ বাস করেন। বস্তি এবং পৌরসভার পার্শবর্তী ইউনিয়গুলোতে ৪৫হাজারেরও বেশি জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে। এসব মানুষ মূলত শ্যামনগর ও আশাশুনির মতো উপকূলীয় এলাকা থেকে দুর্যোগের কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে এসেছেন। তারা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে তাঁরা ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তর বা সরকারি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আসতে পারছেন না। এই সংকট নিরসনে ‘উত্তরণ’ তাঁদের সংগঠিত করে প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দিচ্ছে, যাতে তাঁরা ক্ষমতায়িত হয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারেন।”
সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ যা বলছেনসাতক্ষীরার নির্বাচন অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “ভোটার হতে হলে বিদ্যুৎ বিলের কপি, হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ বা নাগরিকত্ব সনদের মতো প্রমাণপত্র লাগে। আমরা জানি, অনেকের জন্য এটি জোগাড় করা কঠিন। এই সমস্যার সমাধান স্থানীয় সরকারের কাজ। তবে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এলে আমরা তাদের ভোটার করে দিই। বিষয়টি আইন দ্বারা পরিচালিত, তাই বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব।”
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক মাশরুবা ফেরদৌস বলেন, “ভোটার আইডি কার্ডের বিষয়টি নির্বাচন অফিসের এখতিয়ারভুক্ত। বর্তমান ঠিকানা দিয়ে নতুন করে ভোটার হওয়া সম্ভব। যারা এখানে বসবাস করছেন, পৌরসভা তাদের অগ্রাধিকার দেয়। তবে আমাদের সম্পদ সীমিত। এর মধ্যেই আমরা চেষ্টা করি, বাইরে থেকে আসা মানুষদের কাছেও যেন নাগরিক সেবা পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: সমাধানের সম্ভাব্য পথ১. জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানান্তরের আগে, সাতক্ষীরা পৌরসভা ছবিসহ একটি “বিশেষ নাগরিক কার্ড” চালু করতে পারে। এই কার্ড দেখিয়ে উদ্বাস্তুরা সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের টিকা ও ওএমএস-এর মতো জরুরি পৌর সুবিধা নিতে পারবেন।,
২. বস্তিগুলোতে নিয়মিত “ওয়ান-স্টপ সার্ভিস” মোবাইল ক্যাম্প আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে নির্বাচন কমিশন, সমাজসেবা ও পৌরসভা কর্মকর্তারা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে ভোটার তালিকাভুক্তি, জন্মনিবন্ধন এবং ভাতার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। ৩. কাউন্সিলরের প্রত্যয়নকে বৈধতা প্রদান: জলবায়ু উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রকে সাময়িকভাবে ঠিকানা প্রমাণ হিসেবে গণ্য করার জন্য একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করা যেতে পারে, যা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পথ খুলে দেবে।৪. জলবায়ু উদ্বাস্তু’ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি: জাতীয়ভাবে “জলবায়ু উদ্বাস্তু” হিসেবে একটি আইনি সংজ্ঞা ও স্বীকৃতি প্রদান করা জরুরি। এই স্বীকৃতি তাদের জন্য বাসস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনকে নিছক দয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অধিকারে পরিণত করবে। ৫. স্থায়ী আবাসন: খাসজমিতে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা। ৬. দক্ষতা উন্নয়ন: শহরে টিকে থাকার উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত। ৭. শিক্ষা নিশ্চয়তা: বস্তিভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা।

করেস্পন্ডেন্ট July 11, 2025
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article শরণখোলায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত
Next Article ত্বকের যত্নে মধু, জেনে নিন ব্যবহারের নিয়ম আপনিও হতে পারেন সুন্দরী

দিনপঞ্জি

January 2026
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
« Dec    
- Advertisement -
Ad imageAd image
আরো পড়ুন
বাগেরহাট

বাগেরহাটে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago
রাজনীতি

ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago
খেলাধূলা

আনুষ্ঠানিকভাবে মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিলো কলকাতা

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

তালার বালিয়াদহা দেবুতলা পুরাতন কালভার্টটি এখন মরণফাঁদ

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 hours ago
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ

By জন্মভূমি ডেস্ক 8 hours ago
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপন্নতা বিশ্লেষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 10 hours ago

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?