
জন্মভূমি ডেস্ক : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামে দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন ইছামতি গ্রামের ফরহাদ হোসেনের ছেলে আলামিন হোসেন (৪০) ও ঠান্ডু শেখের ছেলে আল আমিন শেখ (৩৫)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলামিন হোসেন তার বন্ধু আল আমিন শেখকে সঙ্গে নিয়ে বাকবাটি বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। তারা নির্জন স্থানে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের ঘিরে ধরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলামিন নিহত হয়। গুরুতর আহত তার বন্ধু আল আমিন শেখকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতেই নিহত আলামিন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সকালে আল আমিন শেখের মৃত্যুর খবরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধারে সকল প্রস্তুতি নিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামীমুল ইসলাম বলেন, একজনকে মৃত অবস্থায় ও আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়। তাদের দুজনকেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে।
নিহত আলামিন হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলামিনের সঙ্গে একই গ্রামের হায়দার আলীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই জের ধরে এদিন হায়দার আলী ও তার ছেলেরা হামলা চালিয়ে আলামিন ও তার বন্ধু আল আমিন শেখকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা অবিলম্বে হামলাকারী খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, রাতে নিহত আলামিনের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপর আরেকজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরও জানান, নিহত আলামিনের সঙ্গে একই গ্রামের হায়দার আলীর বিরধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে এ হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

