
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) : সুন্দরবনে নির্বিচারে পারসে মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অসাধু জেলেরা বনের বিভিন্ন নদী ও খালে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে এ পোনা নিধন করছেন। এমনকি বনের নিষিদ্ধ মৎস্য প্রজনন এলাকায়ও। এতে একটি পোনা ধরতে গিয়ে শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। আর এ কাজে সহযোগীতা করছেন বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা ও কর্মচারী।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পারসে মাছের পোনা নিধনকারীরা প্রথমে সাদা মাছ পরিবহনের জন্য বনবিভাগ থেকে ট্রলারের অনুমতি নেয়। পরবর্তীতে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বনবিভাগের আলোর কোল, দুবলার চর, বঙ্গবন্ধু চরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে নির্বিচারে নিধন করা পারসের পোনা পরিবহন করে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মহাজনদের আর্থিক সহযোগীতায় বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এসব পোনা নিধন করে আসছে। এসব আহরণ করা পোনা ট্রলার যোগে বিভিন্ন অঞ্চলের মোকামে এবং ঘের মালিকদের কাছে প্রতি কেজি ২৫‘শ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে নেটজাল দিয়ে পারসের পোনা ধরার কারনে প্রায় শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের হাতে গোনা অভিযানে দুই একটি পারসের ট্রলার আটক করলেও থেমে নেই এই অবৈধ ব্যবসা। এভাবে পোনা নিধন চলতে থাকলে সুন্দরবনের এই জলজ সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। আর এতে সামদ্রিক মৎস্য সম্পদ কমে দেশে আমিষের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে এ প্রতিবেদককে জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের একটি সংঘবদ্ধ মহাজন চক্র অতিরিক্ত মুনাফার লোভে গরিব জেলেদেরকে হাজার হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে পোনা নিধনের জন্য সুন্দরবনে পাঠায়। আর এ কাজে পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার গোন চুক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা ও কর্মচারী সহযোগিতা করে আসছে। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুন্দরবনে অভিযানে আসলে ওই অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আগেই জেলেদের জানিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ জেলেরা বনের মধ্যে পালিয়ে থাকে। অভিযান শেষ হলে আবারও পোনা ধরতে শুরু করে থাকে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ১ লা জানুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ কম্বিং অপারেশন। এ পর্যন্ত ৩১টি অভিযান এবং ৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসময়ে ৫০টি বেহুন্দিজাল, ৪ লাখ ৮৬ হাজার মিটার কারেন্ট ও ব্লু নেটজাল এবং ১২১ মিটার অন্যান্য জাল জব্দের পর পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া প্রায় ২২ লাখ পারসের পোনা ও ৮ লাখ বাগদার পোনা জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এবিষয়ে পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, সুন্দরবনে সব ধরনের মাছের পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি শেওলা ও বলেশ্বর নদী থেকে দুইটি করে পারসের ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। তবে অন্য রেঞ্জের আওতায়। আমার রেঞ্জের পশুর নদী দিয়ে কোন পারসের ট্রলার যাচ্ছে না। অবৈধ পোনা শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।