
খুলনা (২৫ ফেব্রুয়ারি)
জাতীয় বাজেটে সুন্দরবনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য পৃথক নীতিমালা ঘোষণা করতে হবে। কোনভাবেই যেন বন সংলগ্ন এলাকায় ভারী শিল্প গড়ে তুলতে যাবেনা। বনপ্রাণীর প্রজননের সময় চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। এ নিয়ে গড়ে তুরতে হবে সামাজিক আন্দোলন। সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল, তাই এর সুরক্ষা মানেই উপকূলীয় মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করা। সুন্দরবন যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল সংলগ্ন মানুষকে প্রলয়ংকরী ঝড় বা সুপার সাইক্লোনের ছোবল থেকে জীবন রক্ষা করে চলেছে। বিশ্বের জীববৈচিত্র্যের বৃহত্তম আধার এই ম্যানগ্রোভ বনটি বাংলাদেশের অক্সিজেন ভান্ডার বা ফুসফুস হিসেবে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে। লাখ লাখ মানুষ সুন্দরবনের মাছ, মধু, গোলপাতা প্রভৃতি আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সুন্দরবনের নদী-খাল বাংলাদেশের মাছের চাহিদার একটা বিরাট অংশ জোগান দিচ্ছে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সরকারও এ বন থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঝড়-ঘূর্ণিঝড়, ভৌগোলিক অবস্থান ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্যকে আমাদের বাঁচাতে হবে। এরজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের নাগরিকদের সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। খুলনায় জনউদ্যোগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নাগরিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জনউদ্যোগ খুলনা সিভিল সোসাইটির কার্যালয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা, বাস্তবতা এবং করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ, খুলনার আহবায়ক শিক্ষক নেতা মানস রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের এ্যাড: কুদরত-ই-খুদা, খুলনা সিভিল সোসাইটির আহবায়ক এস এম শাহনাওয়াজ আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাড: মোমিনুল ইসলাম,অধ্যাপক দেবদাস মন্ডল,পরিবেশ কর্মী আব্দুল্লাহ-আর-বাহ্রাম, মফিদুল ইসলাম, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সরদার আবু তাহের প্রমুখ।