বর্তমানে স্মার্টফোন শুধু কল করা বা মেসেজ পাঠানোর যন্ত্র নয়— দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাবারের বিল পরিশোধ থেকে শুরু করে রাইড শেয়ারিং সেবা নেওয়া—সবকিছুতেই ফোনের ব্যবহার অপরিহার্য। তাই ফোন হারিয়ে গেলে শুধু যোগাযোগই নয়, ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
তবে সুখবর হলো, গুগল ব্যবহারকারীদের এই ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কিছু কার্যকর সুরক্ষা টুল যুক্ত করেছে। সঠিকভাবে এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে ফোন হারালেও আপনার তথ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
১. ফাইন্ড মাই ডিভাইস চালু করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা বিল্ট-ইন টুল ফাইন্ড মাই ডিভাইস, যা এখন ‘ফাইন্ড হাব’ নামেও পরিচিত, হারানো বা চুরি হওয়া ফোন খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। তবে এটি অনেক সময় ডিফল্টভাবে চালু থাকে না।
করণীয়: ফোনের সেটিংস-এ গিয়ে ফাইন্ড মাই ডিভাইস অথবা /ফাইন্ড হাব অপশনটি খুঁজুন। ডিভাইস ট্র্যাকিং চালু আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
২. ফোনের অবস্থান নির্ধারণ করুন
ফাইন্ড হাব অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের বর্তমান অবস্থান দেখতে পারবেন। এতে ফোনটি কোথায় আছে তা সহজে বোঝা যায়।
৩. রিমোট লক ফিচার ব্যবহার করুন
ফোন হারিয়ে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সেটি লক করা। রিমোট লক ফিচারের মাধ্যমে আপনি দূর থেকে ফোনের স্ক্রিন লক করে দিতে পারেন।
এটি মোবাইল ও ওয়েব দুই সংস্করণেই কাজ করে। শুধু ফোন নম্বর ব্যবহার করেই স্ক্রিন লক করা যায়, এমনিক গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন না করেও লক করা সম্ভব।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড.কম বা লক ওয়েবসাইটে গিয়ে ফোন নম্বর প্রবেশ করালেই ডিভাইস লক করা যাবে।
৪. রিমোট লক আগে থেকেই সক্রিয় রাখুন
তথ্য সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো—আগেই রিমোট লক ফিচার চালু রাখা। ফোন হারানোর পর নয়, আগে থেকেই এটি সক্রিয় থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
৫. ফোন অনলাইনে থাকতে হবে
গুগল জানিয়েছে, রিমোট লক কার্যকর হতে হলে ডিভাইসটি অনলাইনে থাকতে হবে। এছাড়া দিনে সর্বোচ্চ দুইবার এই সিকিউরিটি ফিচার ব্যবহার করা যায়।
ফোন হারানো নিঃসন্দেহে বড় ঝামেলা। তবে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের এসব ফিচার হতে পারে জরুরি মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সহায়তা।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত