By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের নদীর সভ্যতা
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের নদীর সভ্যতা
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

হারিয়ে যাচ্ছে উপকূলের নদীর সভ্যতা

Last updated: 2025/10/31 at 2:37 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 4 months ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি‌ : শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি শব্দ আমাদের কানে বাজে, যার নাম ‘নদী’। কখনো মুখে বলি, কখনো কানে শুনি, কখনো সিনেমায় দেখি, কখনো কবিতার পাতায় পড়ি, কখনো ক্লাসের পাঠপুস্তকের মাধ্যমে পড়ি। কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতকদের ভাষায় এ দেশটি নদী মাতৃক দেশ। দেশের নদী নিয়ে কতশত কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সিনেমা তৈরি হয়েছে তার অন্ত নেই; কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আর নেই। আজ নদী মাতৃক দেশ বলতেও লজ্জা হয়। গতিহীনভাবে বয়ে চলার ধারা দেখে এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর, বিষখালীসহ উপকূলের নদীগুলো চেনার এখন উপায় নেই।
বাংলার বিচিত্র ভূ-প্রকৃতিতে নদীর দান অপরিসীম। প্রধানত নদীকে কেন্দ্র করেই মানুষের বসতি। শহর, নগর, বন্দর পৃথিবীর সব সভ্যতার সূচনা। মানব শরীরে সচল রক্তশিরার মতো নদীও এ দেশের প্রাণ। মানুষের যেমন প্রাণ আছে, নদীরও তেমন প্রাণ আছে। নদী জীবন্ত, নদী জীবন্ত সত্তা। নদীর কাছে মানব সভ্যতার ঋণ অপরিসীম। এই জীবন্ত প্রাণ নিয়ে রয়েছে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রামে নদীর উপস্থিতি নিরবচ্ছিন্ন। আছে নদীকেন্দ্রিক পরিচয়ের প্রাধান্য, রাজনীতির স্লোগান পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/তোমার আমার ঠিকানা। স্বাধীনতার যুদ্ধেও রয়েছে নদীর অবদান, নদী নিয়ে রয়েছে কত শত গান, কবিতা। এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। আজ সেই নদী নিয়ে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, গান আর আমাদের মাঝে নেই। নদীর অবদানও আমরা ভুলে গেছি। কি অকৃতজ্ঞ আমরা!
ডুবোচর, প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিবেশ দুষণ থেকে শুরু করে দখল, ভরাট ও প্রভাবশালীদের কড়াল গ্রাসে নদীগুলো মৃতপ্রায়। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর চিত্র এমনটাই ওঠে এসেছে। যদি বলি বিষখালী নদীর অবস্থা কি? উত্তর খুব কঠিন হলেও খুবই সহজ। দখল, দূষণের ‘বিষে নীল’ এখন বিষখালী। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল হওয়াতে খুব সহজে বনের গাছ কেটে কাঠ পুড়িয়ে, নদীর মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে ইট। ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে সংশোধিত আইন অনুযায়ী কোনো জনবসতি বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এসবের কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না বিষখালী নদীর বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি ফেরিঘাট এলাকায়। এই এলাকায় সংরক্ষিত বন থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। বিষখালী নদীর চর দখল করে বাড়ানো হচ্ছে ভাটার আয়তন। এতে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি, নদীর জলজ পরিবেশ এবং সংরক্ষিত বন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
একদিকে বন ধংস হচ্ছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত নদীর মাটি কাটা হচ্ছে, পাশাপাশি ইট পুড়িয়ে পরিবেশ দুষণও করছে। অন্যদিকে জলোচ্ছ্বাসে প্রাকৃতিকভাবে বিষখালী, বলেশ্বর, পায়রা ও উপকূলের নদীগুলো ভেঙে যাচ্ছে। বিশেষ করে বলেশ্বর, বিষখালী ও পায়রা নদীতে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে পানিরপ্রবাহ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, পাশাপাশি ইলিশের যাতায়াতও কমে আসছে। এদের মধ্যে অপরিকল্পিত ব্রিজ, কালভার্টতো রয়েছেই। ইট পোড়ানো মৌসুম ছাড়াও বছরব্যাপী ইট-সুরকির টুকরা ফেলে নদী ভরাট করছে তার লোকজন। এতে নদীর স্বাভাবিকপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভাঙনের মুখে পড়েছে নদী তীর। জলধারা ফেরাতে ২০২৩ সালে শুরু হয় নদী পুনঃখননকাজ। তবে এ কাজে বাদ সেধেছে নদীপাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। নোটিশ দেওয়ার পরও এসব স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় খননকাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।
সারা দেশেই আগ্রাসী থাবায় নদীগুলো বিপর্যস্ত। যেকোনো নদীর পাড়ে তাকালেই দখলবাজির চিত্র স্পষ্ট দেখা যায়। অবস্থা এমন যে, অনেক নদী এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। দখল ও দূষণের কারণে গত ৪ দশকে দেশের ৪০৫টি নদনদীর মধ্যে বিলুপ্ত হওয়ার পথে ১৭৫টি। বাকি ২৩০টিও রয়েছে ঝুঁকির মুখে। ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ কমে হয়েছে ৬ হাজার কিলোমিটারের মতো। কৃষি, যোগাযোগ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবনযাত্রা সবকিছুর জন্যই এটা ভয়াবহ হুমকি। নদী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিবেশ সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনগুলো, একেবারে শীর্ষ থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের পদাধিকারীরা নানা কথা বলে চলেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা (লিভিং এনটিটি)’ বলে আদেশ জারি করেছে। এর অর্থ মানুষের মতো নদীরও সুস্থ সুন্দর থাকার অধিকার রয়েছে। দখল দূষণ ভরাটের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে রয়েছে আইনি অধিকার। এর আগে বিশ্বব্যাপী এ ধারণার সূচনা হয়েছে কলম্বিয়া থেকে ২০১৭ সালে। সোনা আর কয়লাখনির কারণে নদী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির সাংবিধানিক আদালত ‘রিয়ো এট্রাটো’ নামক একটি নদীকে এ অধিকার দেয়। এ পরিস্থিতি থেকে নদীটিকে রক্ষার জন্যই আদালত একে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করে। শুধু তাই নয়, নিউজিল্যান্ডের একটি নদীকে খুবই পবিত্র মনে করে এবং সেটিকেও জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে। ভারতের মধ্যপ্রদেশের আদালত নর্মদা নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কারণ নদীটি খাওয়ার পানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন এবং সংরক্ষণের জন্য ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি-২০০৫’ নামে একটি কাঠামো তৈরি করে। ওই নীতির ৪.২ ধারায় মৌলিক চাহিদা ও জীবিকায়নে সুযোগ হিসেবে বলা হয়েছে ২০০২ সালে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনে (ডাব্লিউএসএসডি) পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এগুলো হলো, পানি সরবরাহ ও পয়োব্যবস্থা, শক্তি, স¦াস্থ্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য।
অথচ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মৌলিক চাহিদার অধিকাংশ পুরণ হচ্ছে না। উপকূলের জনগণের মৌলিক চাহিদা পুরণ ও জীবিকায়নের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার এ নীতি কাঠামো প্রণয়ন করেন। ওই নীতির ৪.৪.২ তে উপকূলের পানি সংরক্ষণে নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওই নীতিমালার ৪.৪ এর (ক)-তে বলা উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে মিলিত সব নদীর প্রয়োজনীয় পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নদীগুলো হতে প্রাপ্য পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অথচ আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোর দিকে চোখ বুঝে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমরা নদীগুলো ধ্বংসলীলায় মেতে উঠি। এসব নদীগুলোর শাখা খালের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দেশে যে দলই ক্ষমতায় যায় তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই এবং যারা বিরোধী দলে থাকে বা ক্ষমতায় যেতে পারে না তারা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে মেতে ওঠে। কিন্তু কোনো দলকেই দেখা যায় না নদী নিয়ে ভাবতে, নদী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলতে, যাও বলছে ক্ষমতাসীন লোকরা বলার কথা বলে, কাজে বা বাস্তবে বরং উল্টো। কারণ ক্ষমতায় গেলেই দখল বাণিজ্যে মেতে ওঠে। নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে উঠেছে- এটা সত্য। নদীর পাড়ে ইন্ডাস্ট্রি হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, শহর হবে, সড়ক হবে সবই ঠিক আছে। সেগুলো হবে নদীকে রক্ষা করে ধ্বংস করে নয়। নদী দখলে যে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তি তা নয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রভাবশালীরা ও স্বার্থান্বেষী মহল নদীগুলো ধ্বংস হওয়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
নদী রক্ষার জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে। নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সেখানে থাকবে না কোনো স্বজনপ্রীতি, থাকবে না কোনো রাজনৈতিক প্রভাব। নদী সুরক্ষায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে, নদীকে মুক্তভাবে চলতে দিতে হবে, নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নদীর অর্থনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে, নদীর প্রতিবেশগত ঝুঁকি হ্রাস করতে হবে, নদীর পুনরুজ্জীবনের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সোজা কথা নদী রক্ষায় জিরো টলারেন্স মনোভাব থাকতে হবে।
পরিশেষে, জীবন্ত প্রাণকে হত্যা করা যেমন অপরাধ, মাকে হত্যা করা আরো বেশি অপরাধ। একাধিক জীবন্ত প্রাণিকে হত্যা করলে যেমন- গণহত্যার শামিল তেমনি নদীকে হত্যা করাও গণহত্যার শামিল। আসুন নিজেদের জন্য, জীবিকার জন্য, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য, দেশের নদী মাতৃক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসি।
নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী দিন দিন ভয়াবহ প্লাস্টিক দূষণের কবলে পড়ে নালায় পরিণত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রোপকূলে প্লাস্টিক বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১০ম স্থানে রয়েছে। এক তথ্য অনুসারে দেশের ভেতরের বিভিন্ন নদনদী থেকে শুধু ৯ হাজার ৭৬৭.৩২ টন  সিঙ্গেল ইউজ বা ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের বর্জ্য দৈনিক বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশে। এ ছাড়া দেশের বাইরে ভারত থেকে ১ হাজার ৪৯৩.৮০ টন ও মায়ানমার থেকে ২৪৮.৫৬ টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জ্যও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দৈনিক বঙ্গোপসাগরের পানিতে গিয়ে মিশে। যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায়  ১১ হাজার ৫০৯.৬৮ টন।
প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০২ সালে দেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল। তবে, প্রায় দুই দশক পর পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন এসডোর (এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) করা এক সাম্প্রতিক  গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দেশের পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের ৮৭ শতাংশই সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফেলা হয় না। এসব বর্জ্য বিভিন্ন উপায়ে নদীতে মিশে শুধুমাত্র পানির নিচের জীববৈচিত্র্যকেই না, বরং মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
শুধু নদী দূষণ করেই ক্ষান্ত না, প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দূষণের জন্যও দায়ী। এসডোর করা ‘দ্য ট্র্যাজিক টেল অব আওয়ার রিভার’ নামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন নদনদী থেকে শুধু সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জ্য দৈনিক কত পরিমাণ বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশে তার একটা হদিস পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের ভেতরে  মহানন্দা নদী থেকে ১০ টন, ডাহুক থেকে ১০.১৪ টন, করতোয়া থেকে ১১.২৩ টন, ধরলা থেকে ১০.৯১ টন, তিস্তা থেকে ১২.০২ টন, দুধ কুমার থেকে ৪১২.৯১ টন, ব্রক্ষ্মপুত্র থেকে ১১৫২.০৮ টন, সোমেশ্বরী থেকে ৪১৫.৩১ টন, কংস নদী থেকে ৩৮৭.০৩ টন, সুরমা থেকে ৪৪১.৩৪ টন, কালনি থেকে ৪৩০.৭০ টন, কুশিয়ারা থেকে ৪২৮৭.৮৪ টন, পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে ২৩৭৯.৯৬ টন, মাতামুহুরি থেকে ৪৯৯.৭২ টন, পশুর থেকে ৩৭৪.৮৫ টন, ইছামতি থেকে ৪৪৮.৫৯ টন ও নাফ থেকে ৯৭৫.৫৪ টন বঙ্গোপসাগরে মেশে। বিভিন্ন জাহাজ ও নৌযান থেকে দৈনিক বঙ্গোপসাগরে ফেলা হয় ১৩৬৬.০৪ টন বর্জ্য। এ ছাড়া দেশের বাইরে ভারত থেকে ১৪৯৩.৮০ টন ও মায়ানমার থেকে ২৪৮.৫৬ টন বর্জ্য দৈনিক বঙ্গোপসাগরের পানিতে গিয়ে মিশে।
কক্সবাজারের মতো এলাকায়, পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা সমুদ্র সৈকতে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের জিনিস ফেলে দেয়। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। আবার যেসব প্লাস্টিকের পণ্য বা প্যাকেট রাস্তায় ফেলা হয় বা নদীর তিরে ড্যাম্প করে রাখা হয়, বৃষ্টিপাতের সময় এসব প্লাস্টিক বর্জ্য খাল, নালা ও নদীপথে জমা হয়। এসব বর্জ্য নালা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আটকে রাখে। এক গবেষণায় দেখা যায়, প্লাস্টিক দূষণের কারণে ঢাকা শহরের ৬৫টি খালের মধ্যে ২২টি এখন ডাম্পিং জোনে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য বিভিন্ন উপায়ে পানিতে মিশে ধীরে ধীরে সেখান থেকে মাইক্রো প্লাস্টিকে রূপান্তরিত হয়। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যাপকভাবে পানির নিচের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। মাছসহ পানির নিচের অন্যান্য প্রাণী এসব মাইক্রোপ্লাস্টিককে খাবার ভেবে গ্রহণ করে। ফলে মারাত্মক এক হুমকির মুখে রয়েছে পানির নিচের জীববৈচিত্র্য।
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি (ইউএনইপি) তাদের বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে মিশে যাচ্ছে। এ ছাড়া ভারত, নেপাল ও চীনের বর্জ্য গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে ভাসছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা এই দেশের পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। আরও বলা হয়, আনুমানিক ২.৬ মিলিয়ন টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জ্য প্রতিবছর আমাদের বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে, যার মধ্যে বিরাট এক অংশ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো দিয়ে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের আন্তসীমান্ত নদীগুলো প্রতিদিন প্রায় ১৫,৩৪৫ টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বর্জ্য বহন করে, যার মধ্যে ভারত থেকে ২৫১৯ টন এবং মায়ানমার থেকে আসে ২৮৪ টন।
২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘শকিং স্ট্যাটিস্টিকস অন প্লাস্টিক ইন বাংলাদেশ’ নামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন করে। শুধু ঢাকা শহরেই ১৪ মিলিয়ন পলিথিন ব্যাগ প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়। এসব বর্জ্যের অধিকাংশই দিন শেষে কোনো না কোনোভাবে নদীতে গিয়ে মিশে, তারপর একসময় এর ঠাঁই হয়ে সমুদ্রে। আরও বলা হয়, দেশে ৬১ শতাংশ মানুষ পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
২০২১ সালে প্রকাশিত বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা শহরে লালবাগ, হাজারীবাগ ও সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকাসহ সারা দেশে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ফ্যাক্টরি রয়েছে। শুধুমাত্র পুরান ঢাকাতেই প্রতি মাসে স্ট্র, গ্লাস, প্লেট, চামচসহ ২৫০ টন ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের পণ্য কেনাবেচা হয়। বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্য ও প্রসাধনীর প্যাকেটে ব্যবহৃত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক দেশে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন পণ্যের প্লাস্টিকের মিনিপ্যাক মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এসব মিনিপ্যাকের ব্যবহারও দেশে প্লাস্টিক দূষণের একটি বড় উৎস। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এসডোর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের মূল উৎস পলিথিনের ব্যাগ। তা ছাড়া মানুষ প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার টন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ফেলে দেয়। এই বর্জ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ আসে খাদ্য ও প্রসাধনী আইটেম থেকে, যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ অপুনর্ব্যবহারযোগ্য মিনিপ্যাক।
২০২১ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ২০০৫ সালে প্রতিবছর ৩ কেজি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে প্রতিবছর ৯ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। শুধু ঢাকাতেই প্লাস্টিকের গড় ব্যবহার ২০০৫ সালে বার্ষিক ৯.২ কেজি থেকে বেড়ে ২০২০ সালে ২২.২৫ কেজি হয়েছে।
এসডোর সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মালিহা হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক দূষণের মাধ্যম হলো পলিথিনের ব্যাগ। বাংলাদেশ সরকার আইন করে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দিলেও, কঠোরভাবে এই আইন নিরীক্ষণ না করার কারণে মানুষ দেদার পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করছে। প্লাস্টিকের মধ্যে তের শরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। পলিথিনের ব্যাগসহ প্লাস্টিকের পণ্যগুলো পচনশীল না হওয়ার কারণে এগুলো যখন নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে গিয়ে মিশে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিণত হয়। এসব মাইক্রো প্লাস্টিক মেরিন জীববৈচিত্র্যকে তো ধ্বংস করেই, সঙ্গে মানবদেহেও অনেক বিরূপ প্রভাব ফেলে। এসব মাইক্রো প্লাস্টিক বিভিন্ন মাধ্যমে মাছের পেটে যায়, এসব মাছ আবার যখন মানুষ খাবার হিসেবে গ্রহণ করে, তখন তা মানবদেহে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় মায়ের বুকের দুধ, এমনকি ভ্রুণের মধ্যেও প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্লাস্টিকের এসব দূষণ রোধে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত।’

জন্মভূমি ডেস্ক November 1, 2025
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article সাতক্ষীরা উপকূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গাব গাছ
Next Article ডুমুরিয়ায় জাতীয় সমবায় দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
আরো পড়ুন
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

নিরাপদ সড়ক সবার জন্য প্রযোজ্য

By জন্মভূমি ডেস্ক 37 minutes ago
খুলনামহানগর

খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা সাব্বির জখম

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 9 hours ago
খুলনাজেলার খবর

খুলনায় খাল খনন উদ্বোধন করলেন – আজিজুল বারী হেলাল এমপি

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 11 hours ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

নিরাপদ সড়ক সবার জন্য প্রযোজ্য

By জন্মভূমি ডেস্ক 37 minutes ago
সাতক্ষীরা

কেমন ছিল প্রিয় নবীজির (সা.) রমজান

By Correspondent 12 hours ago
জাতীয়শীর্ষ খবর/ তাজা খবর

বকুলসহ সংসদের হুইপ হলেন ৬ এমপি

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 12 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?