জন্মভূমি ডেস্ক : বিশ্ববাজারে অধিকাংশ খাদ্যপণ্যসহ ২০২৩ সালে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, তাপীয় তেল, রুপা ও প্লাটিনামের দাম। বিশেষ করে সয়াবিন, গম ও ভুট্টার দাম কমেছে ১৪ শতাংশেরও বেশি। তবে এ সময় স্বর্ণ, তামা, চিনি ও কফির দাম বেড়েছে। বিদায়ী বছরে ক্যাটাগরি হিসেবে একমাত্র তুলা বাদে সফট কমোডিটি (খাদ্যশস্য বাদে অন্যান্য কৃষিপণ্য) পণ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এজন্য এল নিনোর প্রভাবকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি প্রকাশিত দ্য কুইমারলে রিপোর্ট ও ইয়াহু ফাইন্যান্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগের বছরের ধাতব পণ্য, জ্বালানি পণ্য ও খাদ্যশস্যের দাম কমেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ধাতব পণ্যের মধ্যে স্বর্ণ ও তামা এবং সফট কমোডিটির মধ্যে কফি, কমলার জুস, কোকো, চিনি ও তুলার বাজার। এর মধ্যে স্বর্ণের দাম ২০২৩ সাল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা ও ডলারের অবনমন এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আর তামার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। বছরটির দ্বিতীয়ার্ধে চীন নাজুক আবাসন খাতকে চাঙ্গা করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। এর প্রভাবে নির্মাণ খাতে চাহিদা বাড়ে শিল্প ধাতুটির।
কুইমারলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ধাতব পণ্যের বাজারে রুপার দাম দশমিক ১ ও প্লাটিনামের ৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। আর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরটিতে সবচেয়ে বেশি ৩৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে প্যালাডিয়াম। ১৫ বছরের মধ্যে এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন পতন। বিদায়ী বছর জ্বালানি পণ্যের বাজারও ছিল নিম্নমুখী। দ্য কুইমারলের প্রতিবেদন ও ইয়াহু ফাইন্যান্সের তথ্যমতে, বছরটিতে সবচেয়ে বেশি দরপতন ঘটেছে প্রাকৃতিক গ্যাসের। আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে এ জ্বালানি পণ্যটির দাম কমেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কমেছে তাপীয় তেলের দাম। আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।
এদিকে ২০২৩ সালে প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সয়াবিনের দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, সয়াবিন মিলের ১৮, গমের ২০ দশমিক ৭ ও সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে ভুট্টার দাম। সফট কমোডিটি ক্যাটাগরিতে গত বছর কমেছে একমাত্র তুলার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থকরী ফসলটি ২০২২ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে কোকোর দাম। মূলত শীর্ষস্থানীয় কোকো উৎপাদনকারী অঞ্চল ঘানা ও আইভরি কোস্টে এল নিনোর প্রভাবে শস্যটির ফলন ব্যাপক কমে যাওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে কফির দাম। একই কারণে শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে এ পানীয় পণ্যটির ফলন ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে।
অন্যদিকে শীর্ষ চিনি রফতানিকারক ভারতের প্রধান আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় আখের ফলন কমে গেছে। দেশটির ৮০ শতাংশ চিনি উৎপাদন হয় পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে। অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ায় এ দুই প্রদেশে উৎপাদন কমে গেছে। এর জেরে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে দেশটি রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে ভোগ্যপণ্যটির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে চিনির দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে কুইমারলের প্রতিবেদন ও ইয়াহু ফাইন্যান্স।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত