জন্মভূমি ডেস্ক : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিউবারকিউলোসিস বা যক্ষ্মা (টিবি) রোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো দেশে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছ এ টিবি রোগ। প্রতিবছর এ রোগে ৪২ হাজার মানুষ মারা যায়। ২০২০ সাল পর্যন্ত যক্ষ্মায় মৃত্যুহার আগের তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের মধ্যে এই মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময় বাকি আছে আর দুই বছর। এরমধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব হব তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) সাসাকাওয়া হলে আয়োজিত টিবি প্রাইভেট-পাবলিক মিক্স (পিপিএম) স্টেকহোল্ডারসদের নিয়ে আয়োজিত এক সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও টিবির প্রোগ্রাম পরিচালক আফজালুর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে টিবি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার। এদের মধ্যে তিন লাখ সাত হাজার ৫৬১ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ৬৭ হাজার ৪৩৯ জন শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেননি। টিবি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুষ ৫৪ শতাংশ। এছাড়া নারী আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ শতাংশ ও শিশু আক্রান্ত হয়েছে ৮ শতাংশ। এছাড়া চার হাজার ৫০০ জন রোগী মেডিসিন প্রতিরোধযোগ্য টিবিতে আক্রান্ত আছেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, এসডিজি গোল অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে টিবির মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে টিবির মৃত্যুহার ৯৫ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে টিবিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আর ২০২৫ সালের মধ্যে টিবিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
২০২৫ সালের ৭৫ শতাংশ মৃত্যুহার কমিয়ে আনা ও ৫০ শতাংশ আক্রান্ত কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা পূরণে হাতে আছে আর মাত্র দুই বছর। এ সময়ের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানান আলোচকরা।
এসময় জানানো হয়, দেশজুড়ে মরণব্যাধি যক্ষ্মায় এখনও বছরে প্রতি লাখে ২২১জন আক্রান্ত হচ্ছেন। যক্ষ্মা রোগ নির্মূলে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যুক্ত সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের একত্রিত করা ও বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারণ করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. আফজালুর রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.২ কোটি মানুষ সুপ্ত যক্ষ্মায় (এলটিবিআই) সংক্রমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু এখনো দেশজুড়ে মোট যক্ষ্মা আক্রান্তের ১৯ভাগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই সরকারি- বেসরকারি খাত ও স্বাস্থ্য খাতের বাইরের স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
যক্ষ্মানির্মূলে এনটিপিও স্টেক হোল্ডারদের নানান কার্যক্রমে আইসিডিডিআর,বি গত দুই দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোশিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও রিপোর্টিং দেশজুড়ে বাড়াতে পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যক্ষ্মা নির্মূলের অভীষ্ট লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারবো। তার নেতৃত্বে আমাদের স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন আসছে, সেই পরিবর্তনকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত