
কেন কিছু মানুষ বারবার একই ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহে ভোগে বা সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়- এমনটা কখনও ভেবেছেন? মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে কম আত্মসম্মানবোধ। আত্মসম্মান কমে গেলে মানুষ নিজেকে ছোট ভাবতে শুরু করে, নিজের চাহিদাকে অগ্রাহ্য করে এবং ক্রমশ অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
তবে সুসংবাদ হলো—এগুলো স্থায়ী নয়। আচরণ বদলালে আত্মসম্মানও ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন ১০টি আচরণ থেকে কম আত্মসম্মানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী।
১. সব সময় ক্ষমা চাওয়া
যে বিষয়গুলোতে আপনার দোষ নেই, সেখানেও বারবার ‘সরি’ বলা—নিজেকে অযথা দায়ী করা।
করণীয়: কোথায় সত্যিই ভুল হয়েছে আর কোথায় হয়নি—তা আলাদা করে ভাবুন। অযথা দায় নেওয়া বা সরি বলা বন্ধ করুন।
২. ‘না’ বলতে না পারা
অন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের সময়, শক্তি ও স্বস্তি বিসর্জন দেওয়া।
করণীয়: ছোট ছোট বিষয়ে ‘না’ বলার অভ্যাস করুন। নিজের সীমা নির্ধারণ করুন।
৩. নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা
সোশ্যাল মিডিয়া বা সহকর্মীর সাফল্য দেখে নিজেকে কম মনে হওয়া।
করণীয়: নিজের অগ্রগতি নিজের গতিতে মাপুন। তুলনা নয়, উন্নতিই হোক লক্ষ্য।
৪. প্রশংসা নিতে অস্বস্তি
কেউ ভালো বললে তা এড়িয়ে যাওয়া বা নিজেকে খাটো করা।
করণীয়: শুধু বলুন—‘ধন্যবাদ’। প্রশংসা গ্রহণ করাও আত্মসম্মানের অংশ।
৫. বিষাক্ত সম্পর্কে আটকে থাকা
অসম্মান, অবহেলা বা অপমান সহ্য করেও সম্পর্ক ছাড়তে না পারা।
করণীয়: সম্পর্কের মান যাচাই করুন—সেখানে কি সম্মান আছে? না থাকলে দূরত্ব তৈরি করুন।
৬. নিজের সাফল্যকে ছোট করে দেখা
কোনও অর্জনকে ‘এতে কী এমন হলো বা হবে!’ বলে হালকা করে দেওয়া।
করণীয়: ছোট সাফল্যও লিখে রাখুন। উপভোগ করুন। অর্জনের তালিকা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
৭. সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাওয়া
সব সময় অন্যের মতামতের ওপর নির্ভর করা।
করণীয়: ছোট সিদ্ধান্ত নিজে নিন। ভুল হলেও তা শেখার অংশ।
৮. নিজের যত্ন না নেওয়া
ঘুম, খাবার, মানসিক বিশ্রাম—সবকিছু অবহেলা করা।
করণীয়: আত্মযত্নকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখুন।
৯. সমালোচনায় ভেঙে পড়া
সামান্য মন্তব্যেই নিজের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
করণীয়: সমালোচনাকে তথ্য হিসেবে নিন, পরিচয় হিসেবে নয়।
১০. সব সময় নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ
অন্যের স্বীকৃতি ছাড়া নিজেকে যথেষ্ট মনে না হওয়া।
করণীয়: নিজের মূল্যবোধ নির্ধারণ করুন। আপনার সম্মান আপনার ভেতরেই।
পরিবর্তনের শুরু হোক আজ থেকেই
কম আত্মসম্মান মানেই আপনি দুর্বল নন। বরং আপনি নিজের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আত্মসম্মান বাড়লে আপনি হয়ে উঠবেন বেশি দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী এবং সম্পর্কেও সুস্থ সীমারেখা তৈরি করতে পারবেন।
মনে রাখবেন—নিজেকে সম্মান করা কোনও অহংকার নয়; এটি মানসিক সুস্থতার ভিত্তি।