
# সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে প্রশাসন
# গ্রেফতার হচ্ছে ক্যাডার, উদ্ধার হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট
জন্মভূমি রিপোর্ট : গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল| নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা নামে সন্ত্রাসীরা কার্যক্রম শুরু করে| প্রকাশ্য দিবালোকে খুন, নৃশংসভাবে হত্যা ও জখম, অপহরণসহ নানা অপরাধের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী ও মাফিয়া চক্রগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দেয়| শান্তির শহর খুলনা ‘মৃত্যুপুরী’ নামে পরিচিতি পায়| কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যে প্রশাসন ঘুরে দাড়িয়েছে| তারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে অবস্থান করছেন| গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাব-৬ এর অভিযানে দুইটি মাফিয়া চক্রের দুই জন ক্যাডার গ্রেফতার হয়েছে| উদ্ধার হয়েছে- আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি| শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের আরেক অভিযানে গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে| জব্দ হয় একটি মোটর সাইকেল| তবে সন্ত্রাাসীরা পলিয়ে যায়| এর আগে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে| শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি টিম পল্লী মঙ্গল স্কুলের সামনের সড়কে প্যাট্রল ডিউটি করছিলেন| পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ৭/৮ জন যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়| পালানোর সময় তারা চার রাউণ্ড গুালিভর্তি একটি ৭.৬৫ মি:মি: রেঞ্জের পিস্তল ও একটি নীল-কালো রঙের মো&টর সাইকেল ফেলে যায়| পুলিশ ওগুলো জব্দ করেছে| এ ঘটনায় অজ্ঞাতনমা আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে| ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে থানার (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম ˆদনিক জন্মভূমিকে জানিয়েছেন| পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর দেড় টার দিকে গ্রেফতার হওয়া দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল খান (৩২) সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বি কোম্পানির প্রথম সারির ক্যাডার| তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে লবনচরা, খুলনা সদর ও রূপসা থানাসহ অন্যান্য কয়েকটি জেলায় মোট ২৮ টি মামলা রয়েছে| শুক্রবার দুপুর দেড় টার দিকে লবনচরা থানার মুজাহিদ পাড়া এলাকার গ্রীস জাহিদের বাড়ীতে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সে গ্রেফতার হয়| লবনচরা থানার (ওসি) মোঃ তুহিনুজ্জামান ˆদনিক জন্মভূমিকে বলেন, আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে তার থানাতেই চারটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে| তাকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে| আসামিকে রিমাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে| কারাগারে থাকা ফয়সাল অপর একটি সন্ত্রাসী চক্র নূর আজিম গ্রুপে ছিলেন| কিন্তু অবৈধ অর্থের ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন কারণে নূর আজিমের সাথে তার বিরোধ ঘটে| এরপর থেকে তিনি বি-কোম্পানিতে যুক্ত হয়ে অপরাধজনক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন| তিনি কেএমপি’র তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী| পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান| এদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে র্যাব-৬ এর একটি টিম হরিণটানা থানার ˆকয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী হুমা বাহিনির ক্যাডার মোঃ সুজন সরকার (২৮) কে গ্রেফতার করেছে| পরে তাকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে আড়ংঘাটা থানা এলাকায় তার বসত বাড়ীর সামনে রাখা ইজি বাইকের ছিটের নিচ থেকে একটি দেশি ˆতরি শটগান, একটি ওয়ান শ্যুটোরগান, পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ও দু’ রাউণ্ড ৭.৬২ মি:মি: রেঞ্জের গুলি উদ্ধার হয়| তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র আইনেসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে আরও সাতটি মামলা রয়েছে| সে ওই থানাধীন শলুয়া বাজার ঘোনারদাড়া রোড এলাকার জনৈক মোঃ দুলাল সরকারের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে| অড়ংঘাটা থানার (ওসি) শাহজাহান আহমেদ ˆদনিক জন্মভূমিকে বলেন, হুমা গ্রুপের সদস্য সুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে| শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দে করা হয়| তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে| পুলিশ জানায়, এর আগে গত ৫ এপ্রিল ভোর রাতে কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ইমন (২৩) শহরের রায়েরমহল এলাকা হতে গ্রেফতার হয়| তার হেফাজত হতে দুইটি ওয়ান শ্যুটার গান, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও পাঁচ রাউণ্ড গুলি উদ্ধার হয়| তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র আইনে, পুলিশের উপর হামলাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মোট আটটি মামলা রয়েছে| এরপর ৭ এপ্রিল বিকেলে বয়রা এলাকার হাজী ফয়েজ উদ্দীন রোড এলাকা হতে মামুন মোল্লা (৩০) এবং লাভলু আহমেদ (৩১) নামে দুই জনকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়| এর আগে গত ৭ মার্চ নগরীর লবনচরা থানার নিজখামার এলাকা হতে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও দু’টি রিভলবার এবং ৯৬ রাউন্ড বুলেটসহ সুরাইয়া পারভিন সুমি (৩৭) নামে এক নারী গ্রেফতার হয়| ওই অস্ত্রের চালান তিনি সাতক্ষীরা থেকে খুলনা হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন| একই দিন সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন মাদ্রাসা রোডের রাবেয়া ভিলা নামের একটি বাড়ী থেকে কবির এবং মোর্শেদ নামে দুইজন একটি ৭.৬৫ পিস্তল ও ১০ রাউণ্ড গুলিসহ গ্রেফতার হন| তাদের কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৭৬ হাজার ৪শ’ টাকা উদ্ধার হয়| ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম এবং সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ উদ্ধার-গ্রেফতার হয়|