
র্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কারকে বলা হয় এশিয়ার নোবেল। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসেসাইয়ের স্মরণে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। জনসেবা থেকে শুরু করে সামাজিক উদ্ভাবনের মতো বিভিন্ন খাতে এশিয়ার যাঁরা নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও আত্মোৎসর্গকারী মানসিকতা নিয়ে এশিয়ান সমাজে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি এই পুরস্কার। ১৯৫৭ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসেসাই।
পরের বছর ১৯৫৮ সাল থেকেই তাঁর নামে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসেসাইয়ের জন্মদিন হওয়ায় প্রতিবছর এই দিনটিতে ম্যানিলা থেকে এই পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার এই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ। তাঁর সঙ্গে আছেন আরো তিনজন।
করভি রাখসান্দের প্রতিষ্ঠান জাগো ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার কাজ করে। এ ছাড়া তরুণদের নিয়ে তাদের ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ নামের আরেকটি কর্মসূচি চলছে। ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক প্ল্যাটফরম ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের প্রায় ৬৪টি জেলায় স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ কাজ করছে।
ঢাকার বাইরেও ১৪ জায়গায় প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে।
জাগো ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে। সুবিধাবঞ্চিত কিছু শিশুকে ইংরেজি শেখানোর ইচ্ছা থেকেই যাত্রা শুরু। ১৭ শিশুকে নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু হয়। এরপর একটি স্কুল করা হয় রায়েরবাজার বস্তিতে।
জাগো ফাউন্ডেশনের বর্তমানে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত স্কুল রয়েছে, যা চার হাজার ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনা মূল্যে পাঠদান সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
জাগো ফাউন্ডেশনের ১৬ বছরের পথ চলা। গত বছর জাগো উইমেন স্কলারশিপ চালু করেছে। এর মাধ্যমে মেধাবী যে মেয়েরা আছে, যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু আর্থিক কারণে শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে পারছে না, তাদের বৃত্তি দেওয়া শুরু করেছে ফাউন্ডেশন। গত বছর ১০০ মেয়েকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এ বছর ১৬০ জনকে দেওয়া হয়েছে। যারা এটা পাবে, তারা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরই এটা পাবে। প্রতিবছরই নতুন নতুন মেয়েদের এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
যেকোনো পুরস্কার এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। র্যামন ম্যাগসেসাই পুরস্কার করভি রাখসান্দকে সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি। এই পুরস্কারপ্রাপ্তিতে করভি রাখসান্দকে আমাদের অভিনন্দন। তাঁর প্রতিষ্ঠান জাগো ফাউন্ডেশনের জন্য অনেক শুভ কামনা। স্বেচ্ছাসেবক প্ল্যাটফরম ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ এগিয়ে যাক।

