
জন্মভূমি ডেস্ক : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) কারামুক্তি দেওয়া হতে পারে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুপুরের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, আদালত থেকে বাবরের খালাসের নথি আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বাবর প্রায় ১৭ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং এ সময়ে তিনি একাধিকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবরকে খালাস দিয়ে রায় দেন। এই রায় ছিল ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং আসামিদের আপিলের শুনানির পর।
বাবরের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির খালাস চেয়ে আবেদন করেন, রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান জিসান। অন্য পাঁচজন আসামির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর, চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বাবরসহ ছয় আসামিকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এই মামলায় মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয় আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়।
বাবরের রাজনৈতিক জীবন
লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম সংসদে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন।

