
বিজ্ঞপ্তি : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, আওয়ামী লীগকে মেধা ও নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার পরিকল্পিত ভাবে দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের হত্যা করেছিলো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খুলনা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছিলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য এবং মৃত্যুপুরী। মানুষ সারাক্ষণ ভয়ে আতংকে থাকতো। এ সময়ে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করেছিলো জোট সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনায় এ্যাড. মঞ্জুরুল ইমাম, অধ্যা. আব্দুর রাজ্জাক সরদার, সরদার হারুনুর রশীদ, মঞ্জুর মোর্শেদ খান লাবু, সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু, মানিক চন্দ্র সাহাকে সহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। তিনি আরো বলেন, কামরুল ইসলাম কুটু একজন সৎ সাহসী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি ২৯নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণের পরে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত হতে থাকে। বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্রীয় মদদে কুটুকে হত্যা করে। তিনি বলেন, কামরুল ইসলাম কুটু জীবন দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি মুজিব আদর্শের যোগ্য সৈনিক। কুটুদের ত্যাগের কারণেই আজ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি জামায়া আবারও দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার নানা ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি জামায়াতের এই দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকে চিরতরে স্তব্দ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হবে।
বুধবার সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম কুটুর ২০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময়ে বক্তৃতা করেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সহ-সভাপতি এ্যাড. রজব আলী সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, ওই ঘটনায় আহত সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই পলাশ, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার ঘোষ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি সফিকুর রহমান পলাশ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল।
মহানগর আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুলের যৌথ পরিচালনায় স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, শেখ মো. আনোয়ার হোসেন, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, ওই ঘটনায় আহত কামরুল ইসলাম বাবলু, শেখ আবিদ উল্লাহ, চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল, কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার চালু, এ্যাড. শামীম মোশাররফ, জিয়াউর রহমান জিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতালেব মিয়া, অধ্যা. এ বি এম আদেল মুকুল, গোপাল চন্দ্র সাহা, নূরিনা রহমান বিউটি, নুর জাহান রুমি, নাসরিন ইসলাম তন্দ্রা, ফেরদৌসী আলম রিতা, আব্দুল ওহাব, ওই ঘটনায় আহত পল্লব বিশ্বাস, ইলিয়াছ হোসেন লাবু, মো. আজিম উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল বিশ্বাস, জব্বার আলী হীরা, জহির আব্বাস, মাহমুদুর রহমান রাজেস, আব্দুল কাদের সৈকত, জনি বসু, শংকর কুন্ডু সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন শহীদ কামরুল ইসলাম কুটুর কন্যা রুবায়েত রহমান এশা সহ পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা সভা শেষে কামরুল ইসলাম কুটু সহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাফেজ আব্দুর রহীম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
এর আগে সকাল ৯টায় মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কয়লাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শোক র্যালী নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। দলীয় কার্যালয়ে কামরুল ইসলাম কুটুর বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া বাদ জোহর ট্যাংক রোড জামে মসজিদে দোয়া এবং দলীয় কার্যালয় ও ২৯নং ওয়ার্ডে কোরান খানি অনুষ্ঠিত হয়।