
আশাশুনি প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকারের স্ট্যাডিং কমিটি সমূহ শক্তিশালীকরণ, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা সমূহ প্রাপ্তি , জেন্ডার ন্যায্যতা, ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে আশাশুনি উপজেলা পর্যায়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ ) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আদর্শ গ্রাম গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ ও ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সক্রিয়তার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস)-এর আয়োজনে এবং ‘ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (BID4CJ)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ শরিফুল ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসার শুভ্রাংশু শেখর দাশের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু । ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিরাজ উদ্দিন তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, প্রতিবেশ সংকট পুর্ণ এরিয়ার জেলা সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা,আইসিটি অফিসার ও বড়দল ইউপির প্রশাসক আক্তার ফারুক বিল্লাহ,আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকাশ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন লিংকন,প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি আবু দাউদ ঢালী , শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিক,খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় সচিব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু বলেন “ উপজেলার সড়কের পাশে যে মৎস্য ঘের আছে সেই মালিকগনকে নোটিশ করা হবে, গাছ লাগানো,সুপেয় পানি, কৃষি জমিতে লোনা পানি উত্তোলন বন্ধ করা সহ আদর্শ গ্রাম গঠন করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোকে সক্রিয় ও গতিশীল করতে পারলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তব রূপ পাবে। তিনি চেয়ারম্যানদের আহ্বান জানান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু উন্নয়ন, পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোর নিয়মিত সভা আয়োজন, কার্যপরিকল্পনা গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে আদর্শ গ্রাম গঠনের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ সমাজ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।