
ডেস্ক রিপোর্ট : গত ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ইউক্রেন যুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের একটি সামরিক কারখানায় হামলা চালানোর দাবি করেছিল। ওই সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গর্ব করে জানিয়েছিলেন, মধ্যম-পাল্লার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা অসম্ভব, কারণ এর গতি শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলার চেষ্টার জবাবে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে কিয়েভ প্রশাসন রাশিয়ার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যদিও রাতের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে পারমাণবিক ওয়ারহেড লাগানো ছিল কিনা এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন এবং উচ্চ-নির্ভুলতা দূরপাল্লার স্থল ও সমুদ্র ভিত্তিক অস্ত্র দিয়ে রাতভর চালানো ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
লভিভের গভর্নর ম্যাকসিম কোজিটস্কি বলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত স্থাপনায় আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি বিশাল গ্যাস সংরক্ষণাগারসহ একটি গ্যাস ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বা ৮ হাজার মাইল গতিতে আঘাত হেনেছে।
প্রসঙ্গত, ওরেশনিক হলো রাশিয়ার তৈরি একটি আধুনিক হাইপারসোনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম)। এটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ দ্রুত গতিতে (মাক ১০) চলতে সক্ষম এবং ৩,০০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যার ফলে এটি ইউরোপের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে। তবে এর প্রধান বিশেষত্ব এটি রাডারে ধরা পড়া বা বর্তমান পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি আটকানো সম্ভব নয়। এটি পারমাণবিক এবং প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের একটি সামরিক কারখানায় হামলা চালানোর দাবি করেছিল রাশিয়া। যদিও সেই সময় ইউক্রেনীয় সূত্রগুলো দাবি করেছিল যে, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না, ছিল কেবল ডামি ওয়ারহেড।

