
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বাসার ইন্টারনেট সংযোগ (ওয়াইফাই) সমস্যা সমাধানের ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষিকাকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ওই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা উম্মে সালাম লুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। অপরদিকে অভিযুক্ত কর্মচারী জে এম ইলিয়াস (ইলিয়াস জোয়ার্দার) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান। এদিকে ওই শিক্ষিকার স্বামীর পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী ইলিয়াস। এ নিয়ে সোমবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে উম্মে সালমা লুনার বাসায় ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হওয়ায় আইসিটি সেলের নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান ইলিয়াসকে ফোন দেন তিনি। প্রথম দিনে তার ফোন রিসিভ না করলেও গত শনিবার (১৩ মে) লুনার বাসার রাউটারটি রিসেটাপ করে দেন ইলিয়াস। পরে লুনা তার রাউটারের পাসওয়ার্ট জানার জন্য ইলিয়াসকে কল দিলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ইলিয়াস। এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কী কারণে ইন্টারনেট লাগে?’ এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে তাকে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষিকা লুনা। এ সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘তিনি (ইলিয়াস) আমার সঙ্গে খুবই বাজে ব্যবহার করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। আমি আইন অনুযায়ী তার বিচার চাই। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত কর্মচারী ইলিয়াসকে সোমবার (১৫ মে) সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন ও উপ-রেজিস্ট্রার আলীবদ্দীন খান। এদিকে শিক্ষিকার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ফোন দিয়ে ইলিয়াসকে কয়েক দফায় হুমকি প্রদান করেছেন বলে পাল্টা অভিযোগ ইলিয়াসের। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বলানি মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন ইলিয়াস। এ বিষয়ে নিরাপত্তা চেয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। স্বামী কর্তৃক ইলিয়াসকে হুমকির বিষয়ে অধ্যাপক লুনা বলেন, ‘আমার স্বামী বিষয়টি সমাধানের জন্য ইলিয়াসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাকে কোনো হুমকি দেননি তিনি। অভিযুক্ত ইলিয়াস জোয়ার্দার সংবাদ সম্মেলনে তার ওপর আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন। পাশাপাশি তাকে হুমকির বিষয়টি উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তবে তিনি বলেন, আমি শনিবার (১৩ মে) আবাসিক ভবনের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উম্মে কুলসুম লুনা ম্যাডামের বাসায় ওয়াইফাইয়ের সমস্যার সমাধান করে দিয়ে আসি। আবার পর দিন বিকালে ম্যাডাম আমাকে ফোন করেন। সন্ধ্যায় ম্যাডামের বাসায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ওয়াইফাই সংযুক্ত করে ম্যাডামকে বুঝিয়ে দিই। ইতোমধ্যেই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম নামের এক লোক আমাকে ফোন দিয়ে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, চাকরিচ্যুত করা, মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমার ক্ষতিসাধন করাসহ ডিবি পুলিশ দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। তিনি আরও জানান, ১৪ তারিখে এক নাম্বার থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল করে আমাকে একাধিকবার হুমকি দেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমি ও আমার পরিবার ভয় পেয়ে ১৪ তারিখ রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করি। এমতাবস্থায় ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় কিছু অজ্ঞাত বহিরাগত ব্যক্তি প্রশাসন ভবনের আমবাগানে আমাকে হামলার চেষ্টা করে। এবং ১৬ তারিখ ভোর রাতে জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় অনলাইনে ফোন দিয়ে বলে তোর চাকুরি খেয়েছি আন্দোলন করবি না? আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কর্মচারীর অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার স্বামি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হুমকির বিষয়টি সত্য। প্রশাসন কোনো শাস্তি দিলে আমি মাথা পেতে নেব।