
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনায় মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের কেজি এক লাফে হাজারে পৌঁছেচে। নতুন অর্থ বছরের প্রথম দিনে মরিচের এ দামে হতবাক খুলনাবাসী। তিনদিন আগে ২৭ জুন কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ৪০০ টাকা। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি দোকানে হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়। ঈদুল আযহা এেিগয় আসার সাথেই মূল্য বেড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ঈদুল আযহার আগে কাঁচা ঝালের মূল্য বাড়তে থাকে। ঈদের পরে কেন কাঁচা মরিচের দাম হাজারে পৌঁছেচে এর কারণ সম্পর্কে খুলনার কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা কিছুই জানেন না। তারা বলছেন, পাইকারী বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েই চলেছে। এখন এককেজি খাসির মাংসের দামে এককেজি কাঁচা ঝাল কিনতে হচ্ছে।
খুলনার কাঁচামাল আড়তের ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান জানান, তারা ঈদের পরেই কাঁচা মরিচ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করছেন। এর তিনদিন আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। সেই কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি আরও জানান, পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচ ছাড়া সব সবজির দাম এক সপ্তাহ ধরে একই রয়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। করোলা গত সপ্তাহে কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ৩০ টাকা, পটোল ২০ টাকা, পেঁপে এ সপ্তাহেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ পিস আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন গত সপ্তাহের ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও শনিবার বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। মিষ্টি কুমড়া এ সপ্তাহেও ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব সবজি খুচরা বাজারে দেড়গুন বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
শনিবার বিকেলে নগরীর গল্লামারী এলাকার খুচরা সবজি বিক্রেতা হোসেন আলী বলেন, দুই-তিন দিন ধরে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েই চলেছে। তিনদিন আগেও পাইকারি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই কাঁচা মরিচ কিনতে হচ্ছে সাড়ে আটশো টাকায়। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে কেজি ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা করে। এছাড়া অন্য সবজি পটোল ২০ টাকা, পেঁপে ৩৫ টাকা, লাউ ৪০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, করোলা ৭০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আসছে না। তাছাড়া প্রচন্ড খরায় ঝাল গাছ অনেকের মরে যায়। আবার বৃষ্টিতে পঁচন দেখা দিয়েছে। এসব কারণে আমাদের দেশে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইজিবাইক চালক শহিদুল বলেন, সকাল বেলা গল্লামারী বাজারে যেয়ে অবাক হয়েছি। কাঁচা ঝালের কেজি ১০০০ টাকা! বাধ্য হয়ে ৫০ গ্রাম ৫০ টাকায় কিনে বাসায় ফিরতে হলো। কি ভাবে আমরা গরিব মানুষ এত দাম দিয়ে কাঁচা ঝাল কিনবো।
নগরীর সন্ধ্যা বাজারে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দিন আগে কাঁচা মরিচ কিনেছি ৪০০ টাকায়। এখন সেই কাঁচা মরিচ কিনছি ১০০০ টাকা করে। দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস না কিনেতো আর উপায় নেই। তবে এখন এককেজির বদলে আড়াইশো গ্রাম কিনেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেয়া প্রয়োজন।